blogger widgets
আমাদের ব্লগে আনন্দ ধারা -এর লেখা সকল পোস্ট।
Showing posts with label আনন্দ ধারা. Show all posts

Monday, 3 March 2014

ময়ূরপঙ্খী নাউঃ চতুর্থ পর্ব

বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল, আর মনটাও কেমন যেন করছিল। তাই আর ফোন দেয়া হলো না আউয়ালের দেয়া নাম্বারটায়। তবে মনের উপর খুব যে একটা ভরসা আমার নেই সেটা জানা ছিল, তাই বাসায় এসেই মোবাইলে সেভ করে নিলাম তুষারের নাম্বারটা। 
পরদিন বিকেলের দিকে ফোন দিলাম।
- হ্যালো...
- হ্যালো, কে বলছেন?
- এটা কি তুষারের নাম্বার? আউয়াল আমাকে আপনার নাম্বারটা দিয়েছে।
- রং নাম্বার।
মুখের উপর ফোনটা কেটে দিল। অবাক, খুশি দুটাই হলাম। অবাক হলাম এটা ভেবে যে ছেলেটা নিজের নাম্বার আউয়ালকে দিয়েও কেন আমাকে না চেনার ভান করছে? আর খুশি হলাম এটা ভেবে যে ছেলেটা হয়তো আউয়ালকে নাম্বারটা দেয়ার পর থেকে রীতিমত বিভিন্ন মানুষের ফোন পেয়ে পেয়ে অতিষ্ট, তাই সবাইকে এভয়েড করছে। 
রাত ১১ টায় তুষারের নাম্বার থেকে মিসড কল এলো। কল ব্যাক করলাম। 
- কি? এবার চিনতে পেরেছেন?
- হুম। 
- আউয়ালের সাথে কথা হয়েছে?
- জ্বি।
- ভালো আছেন?
- জ্বি।
- এভাবে হু হা আর জ্বি জ্বি করলে কিভাবে হবে? 
- তাহলে কি বলবো?
- আপনার কথা বলেন, শুনি
- আমার কোন কথা নাই। দেখা করবেন?

এভাবে সরাসরি যে তুষার নামের ছদ্মনামি মানুষটা দেখা করার কথা বলবে, সেটা ভাবিনি। দেখা করতে চাইলাম। তুষার তার মেসের ঠিকানা দিল। যেয়ে যে মানুষটাকে দেখলাম তাকে দেখে আমার যৌনক্ষুধা নিমিষেই ক্ষুধামন্দায় পরিণত হলো। ছোটখাট, মোটাসোটা একটা ছেলে। যেভাবে আমাকে রুমে ঢুকিয়ে এক ঝটকায় নিজের লুঙ্গির গিঁটটা খুলে ফেলল, আমি রীতিমত ভয়ই পেয়ে গেলাম। এরপর নিজের উলঙ্গ দেহটা নিয়ে আমার পাশে এসে বসল তুষার (যার আসল নামটা আমি আজো জানিনা।) বসেই আমার বিশেষ জায়গায় হাত দিয়ে দিল। আমি রীতিমত অপ্রস্তুত ছিলাম, ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুই বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। হঠাত বুঝতে পারলাম তুষার আমার প্যান্টের বেল্ট আর চেন খুলে ফেলেছে। তুষারের হাত ততক্ষনে আমার আন্ডারওয়্যার খুলতে ব্যস্ত। আমি খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেললাম। কিন্তু তুষার ততক্ষনে তার কার্যসিদ্ধি করে ফেলেছে অনেকখানি। আমি পুরোপুরি উত্তেজিত। অনেক ইচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ক্ষুধার্ত ছিলাম, সেটাও একটা কারন হতে পারে। যা হবার হলো। তুষারের হয়তো আমাকে ভালো লেগেছে, কিভাবে বুঝলাম? আমার থেকে কোন টাকা নিলো না সে। টাকা চাইলেও অবশ্য আমি না করতাম না। চলে এলাম তুষারের মেস থেকে, কিন্তু প্রচন্ড একটা বিরক্তি কাজ করছিলো আমার মাঝে। এই প্রথম কারো সাথে প্রেমহীন কামে লিপ্ত হলাম। খুব রাগ লাগছিল নিজের উপর, কেন যে আসলাম? কিন্তু শারীরিক একটা প্রশান্তিও পাচ্ছিলাম ভেতরে ভেতরে। এ যেন এক মিশ্র অনুভূতি, তোকে বলে বোঝাতে পারবো না। 

এর কিছুদিন পর আবার রমনায় গেলাম, উদ্দেশ্য আউয়ালের সাথে দেখা করা। দেখা পেয়েও গেলাম তার। আমাকে দেখেই যুদ্ধ জয়ের হাসি দিয়ে এগিয়ে এলো আমার কাছে।
- কি? কেমুন মজা পাইলেন?
- মজা তো মনে হয় আমার চেয়ে তুমিই পেয়েছো বেশি।
- হা হা হা!
- হাসছো যে?
- আফনেরে বোকা বানাইতাম ফারছি, হেল্লাইগা হাসতাছি।
- হুম ভালো।
- আহেন বইসা কতা কই।
- হুম চলো। কথা বলতেই তো এলাম।
- আফনের লগে কতা কইলে খুব ভালা লাগে। আফনে অনেক বালা মানুষ।
আউয়ালের সাথে বসে পড়লাম একটা বেঞ্চে। 
- আউয়াল, তোমার খারাপ লাগে না এসব করতে?
- আগে লাগতো, অহন আর লাগে না।
- কেন?
- প্যাটের দায় যে কি জিনিস আফনেরা বড়লোকরা হেইডা বুজবেন না বাইজান।
- তোমার বাবা নেই? কিছু করে না?
- বাপ মরছে অনেক আগেই। মায়ে ঝিয়ের কাম করে। বড় বইন্ডার বিয়া দিছিলাম এক হিরুইঞ্চির লগে, হেই হালার পুত আমার বইনেরে তো দেহেই না, উলটা আমগো বাড়িত আইয়া ট্যাকা লইয়া যায় মার থোন। আর আকাইম্মা বড় ভাই একখান আছে, হেও মস্তানি কইরা অহন জেলের ভাত খাইতাছে। ভালাই অইছে, একজনের পেট তো কমছে!
- তাহলে তোমাকেই পরিবারের দেখাশোনা করতে হয়! 
- হ! শইলডা অনেক কাম দিছে অভাবের সময়।
- মানে?

- ছোড বেলা থেইকাই কেমুন জানি মাইয়া মাইয়া আছিলাম। বয়স তহন কতো হইবো? বারো কি তেরো! আফার সুনু, পাউডার আর লিপিস্টিক লাগাইতাম চুরি কইরা। কাজল দিতে খুব ভালা লাগতো। মায় আর আফায় খুব বকতো, কিন্তু আমি তাও চুরি কইরা লাগাইতাম এইগুলান। লুকায়া লুকায়া একদিন শাড়িও পরছিলাম। হাইরে মাইর খাইছি হেই দিন! অহনো মনে আছে। বাড়িত থোন পলায়া গেছিলাম। আমগো বাড়ির পাশেই আছিল আত্রাই নদী। নদীর পারে বইয়া অনেক কানছি। সেই সময় নদীর পাশ দিয়া যাইতেছিল পাশের বাড়ির আক্কাছ ভাই। আমারে কানতে দেইখা পাশে বইয়া খুব আদর করলো। জিগাইলো আমি কান্দি ক্যা। কইলাম মায়ে মারছে আফার লিপিস্টিক দিছি দেইখা। আক্কাছ ভাই কইলো লিপিস্টিক দিলে নাকি আমারে খুব সুন্দার দেখা যায়। কইলো আমারে একখান লিপিস্টিক কিন্যা দিবো। এরপর আমারে কইলো হেগো বাড়িত যাইতে। আমিও গেলাম। হেগো বাড়িত কেউ আছিল না। বাড়িত যাইয়াই আক্কাছ ভাই আমারে খুব আদর করতে লাগলো হের রুমে নিয়া। হের লুঙ্গিডা খুইল্যা ফালাইলো গার থোন। আমার লুঙ্গিও খুইলা দিল। আমি কিছু বুঝতাছিলাম না। আক্কাছ ভাই আমার সারা গায়ে অনেক আদর দিল। আমার খুব ভালা লাগতেছিল। এরপর সরিষার তেলের বোতল নিল টেবিলের উপরের থেইকা। হের ধোনের মধ্যে লাগাইলো আচ্ছা মতোন। হেরপর আমার দুই ঠ্যাং হের দুই কাঁধে তুইলা আমার পাছার ফুটার মধ্যে হের ধোন...
- আউয়াল হয়েছে, থাক আর বলতে হবে না।
- হেইদিন খুব রক্ত বাইর হইছিল। কানতে কানতে বাড়িত আইছিলাম। মা আর আফায় মনে করছে আমি হেগো মাইরের কারনে কান্তাছি, তাই কিছু জিগায় নাই কেন কান্দি, আমিও আর কইতে পারি নাই শরমে। সারা শরিল বিষ করলো। রাইতে জ্বর আয়া পড়লো আমার। মা কবিরাজ ডাকলো। কবিরাজ আয়া জ্বরের অসুদ দিয়া গেলো। এক সপ্তা পর সুস্থ হইলাম। 
- তোমার মাকে বলা উচিত ছিল আউয়াল।
- কই নাই আরেক কারনে।
- কি কারন?

- আমার কাছে আক্কাছ ভাইরে ম্নে ধরছিল। হে আমার লগে যা যা করছে আমার খুব ভালা লাগছে। মায়েরে কইয়া আক্কাছ ভাইয়ের আদর থেইকা বঞ্চিত হইতে চাই নাই।
- হুম। বুঝলাম।
- আক্কাছ ভাই আমার মাই দুইডা খুব সুন্দর কইরা চুষত আর টিপত। আমার খুব মজা লাগতো জানেন? পরথম দিন ব্যাথা পাইছি, কিন্তু হের পর থেইকা অনেক সুখ পাইছি
কয়দিন পর দেহি আমার বুক হইতাছে মাইয়াগো লাহান। পরথমে ভাবছিলাম আক্কাছ ভাইয়ের টিপ খাইয়া অইতাছে, কিন্তু পরে দেহি দুধের বোটাও আইতাছে মাইয়াগো বুকের লাহান। আমার গলাও দেহি কেমুন যেন ভাঙ্গা ভাঙ্গা হইয়া গেলো।
- তারপর?
- মায়ে বুঝলো হের ঘরে দুই পোলা আর এক মাইয়া না; এক পোলা, এক মাইয়া আর এক না পোলা না মাইয়া জন্মাইছে। 
- মানে?
- মানে মায়ে বুঝলো যে আমি হিজড়া।
- তুমি হিজড়া?
- হ! দেহেন না গলায় গামছা ঝুলায়া রাহি! কিন্তু অন্য হিজড়াগো মতন সাজগোজ করতে অহন আর ভাল্লাগে না। আর হিজড়াগো চাইতে পোলাগো দাম এই পার্কে বেশি। তাই পোলা সাইজা থাকলেই পয়সা বেশি পাওন যায়।
- হুম, বুঝলাম। আউয়াল এই টাকা কয়টা রাখো। আজ উঠতে হবে।
আউয়ালের হাতে দুইশ টাকা দিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে এলাম। মাথাটা ভনভন করছে। কি শুনলাম এসব এতক্ষণ! 

আউয়ালের প্রতি একটা মায়া আগে থেকেই ছিল, কিন্তু মায়াটা সেদিনের পর থেকে আরো বেড়ে গেলো। সপ্তাহে একদিন হলেও যেতাম রমনায়, আর কিছু টাকা দিয়ে আসতাম ওর হাতে। এর মাঝে ইয়াহু মেসেঞ্জারে চ্যাট করতাম অনেকের সাথে। দেখা করতে চাইতো অনেকে। আমিও যে চাইতাম না, তা নয়। কিন্তু এবার আর ভুল করলাম না। অন্যদের বাসায় গেলাম না আগেরবারের মতো। বাসায় কেউ না থাকলে নিজের বাসায় দেখা করতে চাইতাম। কেউ রাজি হলো না। একদিন চ্যাট করছি একসাথে পাঁচ জনের সাথে। সবাইকেই বললাম যে আমার বাসা খালি। জানতাম না করবে, কিন্তু প্রথমে একজন রাজি হলো। আমি তো অবাক! এরপর দেখি আরো একজন, তারপর আরো একজন রাজি হলো বাসায় আসতে। আমি বুঝতে পারলাম না কি বলবো। তিনজনকেই বললাম বাসার কাছাকাছি এসে ফোন দিতে। ধরে নিয়েছিলাম যে কেউই হয়তো আসবে না, আর আসলেও হয়তো একজনই না হয় আসবে! কিন্তু তিনজনই আসলো। আমি পড়লাম বিপদে। কুল রাখি না শাম রাখি অবস্থা। যাইহোক তিনজনকেই একে একে বাসায় নিয়ে আসলাম। শরীফ, ফাহাদ আর চয়ন। আমাকে যে নাম বলেছিল তাই বললাম। তিনজনকে বাসায় নিয়ে এসে একসাথে বসলাম। বললাম, “আমাদের চারজনের উদ্দেশ্যই যেহেতু এক, আমরা কি একসাথে কাজটা করতে পারি?” আমার মাথা তখন পুরাই নতুন এক নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। একসাথে চারজন কিভাবে কি করে দেখতে হবে। এই সুযোগ তো আর সব সময় পাব
ও না! ফাহাদ আর চয়ন একটু ভেবে রাজি হলো। কিন্তু শরীফ বলল, সে কিছুতেই রাজি নয়। সে চলে যাবে। আমি শরীফকে বাসার দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে গেলাম। দরজার সামনে এসে হঠাত কি মনে করে শরীফ রাজি হয়ে গেলো। আমি তখন প্রচন্ড উত্তেজিত মনে মনে। চারজন মানুষের কামলীলা হবে আজ আমার বাসায়। 

শরীফকে নিয়ে রুমে ঢুকে দেখি চয়ন আর ফাহাদের চার হাত এক করা, সেই সাথে দুজনের দুই ঠোঁট। ওরা কাল বিলম্ব করতেও রাজি নয় দেখছি! আমি শরীফের চোখের দিকে তাকালাম, শরীফ আমার দিকে। বাসায় কেউ ছিল না, তাই দরজা লাগানোর দরকার হলো না। জড়িয়ে ধরলাম শরীফকে। শরীফও সাড়া দিল। ওদিকে চয়ন আর ফাহাদ ততোক্ষনে একে অপরের কাপড় খোলায় ব্যস্ত। আমি আর শরীফও দেরি করলাম না। খুলে ফেললাম একে অপরের প্যান্ট আর টি শার্ট। আমার রুমের খাটটা নেহায়েত ছোট ছিল না। চারজন মানুষ অনায়াসেই শোয়া যায়। শরীফকে নিয়ে বিছানায় চলে গেলাম। চারটি উলঙ্গ দেহ ধীরে ধীরে মেতে উঠলো আদিম উন্মত্ততায়। শরীফকে শান্ত করলাম তাড়াতাড়িই। সে তখন নিথর হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। ওদিকে ফাহাদ আর চয়ন যে খুব পারদর্শী সেটা বুঝতে পারলাম। ফাহাদকে নিচে শুইয়ে চয়ন তার বিশেষ অঙ্গের উপর চড়ে বসেছে। ব্যাপারটা খুব আকর্ষণীয় মনে হলো আমার কাছে। আমি হা করে তাকিয়ে চয়নের কান্ডকীর্তি দেখছিলাম। শরীরটায় আগুন তো ধরেই ছিল, কিন্তু সে আগুন শরীফের পক্ষে মেটানো সম্ভব হয়নি। তাই খুব আফসোস হতে লাগলো। ইশ! আমি যদি চয়নকে পেতাম! চয়ন হয়তও বুঝতে পারলো আমার মনের কথা। বসা অবস্থায়ই আমার বিশেষ অঙ্গে হাত দিয়ে টেনে আমাকে ওর কাছে নিয়ে গেলো। আমি তখন আর আমার মাঝে নেই। বলা বাহুল্য তিনজনের মধ্যে চয়নের শারীরিক গঠনই ছিল সবচেয়ে নজর কাড়া। পাতলা, লম্বা, আর ছিমছাম গড়নের ফরসা একটা লোমহীন শরীর। আমি কাছে যেতেই চয়ন আমার বিশেষ অঙ্গটা মুখে পুরে নিলো। আমি আবেগের আবেশে চোখ দুটি বন্ধ করে ফেললাম। নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেড়িয়ে এলো “আহ!” চয়ন বুঝতে পারলো সে আমাকে ঠিকভাবেই কাবু করতে পারছে। তাই মুখের কারুকাজ দেখাতে মোটেই কুন্ঠাবোধ করলো না সে। 



ওদিকে ফাহাদ নিচে শুয়ে শুয়ে মজা লুটছিল। হঠাত আমাকে এভাবে শব্দ করতে দেখে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, আমাকে সরিয়ে দিয়ে চয়নকে জোর করে কাছে টেনে এনে কাম রসে ভিজিয়ে দিল নিজেকে আর চয়নকে। চয়ন কিছুক্ষণ লেপ্টে থাকলো ফাহাদের শরীরের সাথে। শরীফ আর ফাহাদ গেলো ওয়াশরুমে নিজেদের পরিষ্কার করতে। চয়ন বিছানা থেকে উঠে এসে আমার গায়ে হাত রাখলো, বুঝতে পারলাম ফাহাদকে দিয়ে তার কার্যসিদ্ধি হয়নি। আমার সাহায্য দরকার। আমি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলাম। চয়নকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে অকে এলোপাথাড়ি চুমু খেতে লাগলাম। চয়ন পাগলের মতো আহ্‌ উহ্‌ শব্দ করে আমাকে উৎসাহ দিতে লাগলো পুর্নোদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। এগিয়ে গেলাম চয়নের দিকে চয়নের দুই পা আমার কাঁধে তুলে নিয়ে ওর বুকের উপর শুয়ে পরলাম সন্তর্পনে, নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে ওকে আদর করতে লাগলাম প্রচন্ড উত্তেজনায়। কখন যে দুজন একে অপরের মাঝে মিশে গিয়েছিলাম বুঝতেই পারলাম না। মিনিট পাঁচেক পর হঠাত চয়ন আমাকে জড়িয়ে ধরলো খুব শক্ত করে। পেটের উপর ভেজা ভেজা লাগলো, আমিও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। চয়নের সাথে সাথে আমিও ছেড়ে দিলাম নিজের কামরস, চয়নের দেহ অভ্যন্তরে। চয়নের মুখে পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো। আমিও হাসলাম। শুধু চয়নকে পরিতৃপ্ত করতে পেরেছি বলে নয়, নিজেও পরিতৃপ্ত হয়েছি দেখে। 

এরপর আমাদের চারজনের মাঝে আরো অনেকবার অনেক কিছু হলো। কিন্তু কেন যেন আমি চয়নকে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারতাম না। একদিন বুঝাতেও চাইলাম, পারলাম না। দেখলাম একা আন্তরিকভাবে কিছু করার চেয়ে সবার সাথে খোলামেলাভাবে সব কিছু করার দিকেই ওর আগ্রহ। তাই আর বাধ সাধলাম না। 
কয়েকমাস এভাবেই চলল। আমি কেমন যেন অতিষ্ট হয়ে উঠলাম দেশে থেকে। সিদ্ধান্ত নিলাম ইন্ডিয়া যাওয়ার। শুরু হলো আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়।

Monday, 24 February 2014

নতুন পথের সূচনা

১.

ইনবক্সে বিশাল এক মেসেজ পেলো রুদ্র। জারিফ লিখেছেঃ

আজ কিছু না বলা কথা বলতে চাই। তোমার সাথে পরিচয় কতদিনের! মাস তিনেক হবে। মনে পড়ে? পহেলা বৈশাখে প্রথম তোমাকে ফ্রেন্ড রিকুএস্ট পাঠাই! তুমি অনলাইনেই ছিলে। সাথে সাথে এক্সেপ্ট করলে। চ্যাট শুরু করলাম। পরিচয় পর্ব সেদিন আর বেশিদুর গড়ায়নি। আমিও জোর করিনি, কারণ জানতাম তোমার মনটা সেদিন ভীষণ রকমের খারাপ ছিল। কিভাবে জানতাম? সে কথাই আজ বলবো।

পরদিন আবার ফেইসবুকে আসলাম শুধু দেখার জন্য তুমি অনলাইনে আছো কিনা, দেখলাম নেই। তৃতীয় দিন তোমাকে পেলাম, তাও অল্প সময়। অনেকটা বেহায়ার মতোই তোমার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলাম। কোনমতে হ্যাঁ/না বলে জবাব দিলে। একটু পরই সাইন আউট। এদিকে আমার ভিতরে যে তখন কী চলছিল, তা বলে বুঝাতে পারব না। এরপর আবার দুইদিন পরে তোমাকে অনলাইনে পেয়ে আমার কলিজায় পানি আসলো। একপ্রকার জোর করেই তোমার বন্ধুত্ব ভিক্ষা চাইলাম। ঠিক কলাভবনের পিচ্চিগুলার মত, “ভাইয়া একটা চকলেট নেন না। নেন না ভাইয়া... না নিলে পা ছাড়ুম না।” ওদের থেকে চকলেট না কিনে যেমন উপায় থাকে না, আমার বন্ধুত্ব স্বীকার না করেও তোমার তেমনি উপায় থাকল না। বন্ধুত্ব করা ছাড়া সত্যি আমার আর কোন উপায় ছিলো না তোমার পাশে থাকার।

অবাক হচ্ছো, তাই না? এবার আসছি আসল কথায়। প্লিজ রাগ কোরো না, প্লিজ! আমি হচ্ছি সোহানের বন্ধু। তার বেস্টফ্রেন্ড। আমিও তাকে বেস্টফ্রেন্ডই ভাবতাম, কিন্তু তোমার সাথে ও যা করলো তারপর থেকে ওকে আর বেস্টফ্রেন্ড ভাবি না। আসলে সোহান সব সময়ই প্লেবয় টাইপের ছেলে ছিল। যাইহোক, আমার কথায় ফিরে আসি। সোহানের জীবনে যখন তুমি এলে, সোহান আমাকে তার ফোনে তোলা তোমাদের এক যুগলবন্দী ছবি দেখিয়ে বললো, “দেখ্‌ দোস্ত, নতুন মাল!” প্রথমে দেখে আমিও ওর কথায় সায় দিয়েছিলাম, “সত্যি তো! কোথায় পেলি? কী অপুর্ব চোখ রে বাবা!” সোহান সাবধান করে দিয়ে বলেছিল, “খবরদার! এইটা আমার মাল। তুই নজর দিবি তো খবর আছে।” খবর আমার সত্যিই হয়ে গিয়েছিল রুদ্র। সেদিন বাসায় ফিরে কেবলই তোমার কথা ভেবেছি। আর আফসোস করেছি, ইশ! আমি যদি সোহানের মত সেক্সি আর ফরসা হতাম, তোমার ছবিটা হয়তো সোহানের মোবাইলে না থেকে আমার মোবাইলেই থাকতো। যাইহোক, এরপর প্রায়ই সোহানের থেকে তোমার খবর নিতাম। তোমার ওই চোখ দুটোতে কী যেন একটা ছিল, আমি ঠিক বলে বুঝাতে পারব না। একদিন কী করেছি জানো? সোহানের মোবাইল থেকে চুরি করে তোমার সব কয়টা ছবি ব্লুটুথ দিয়ে নিজের মোবাইলে নিয়ে নিয়েছিলাম। ও টেরও পায়নি। একেই কী তবে প্রথম দেখায় প্রেম বলে? হবে হয়তো! বন্ধুর জীবনে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে চাইনি। তাই তোমার সাথে কোনরকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করিনি তখন। কিন্তু তোমার জন্য খুব দুশ্চিন্তা হতো। কারণ আমি জানতাম সোহান তোমার জীবনে এসেছিল কেবল ভোগের প্রত্যাশা নিয়ে। আমি সোহানকে অনেকবার বলেছি, “দেখ, ছেলেটার জীবনে তুইই প্রথম প্রেম। ওকে কষ্ট দিস না।” ও কিন্তু বলেছিলো আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে। সান্ত্বনা ছিল এতটুকুই যে, তুমি তো অন্তত সুখে থাকবে তোমার ভালবাসার মানুষটিকে নিয়ে। কিন্তু কথায় আছে না? কয়লা যায় না ধুলে, আর স্বভাব যায় না ম’লে। সোহান তার স্বভাব পাল্টাতে পারলো না। ও যে ভিতরে ভিতরে ওর ফ্ল্যাটে আগের মত ছেলেদের বাগিয়ে নিয়ে আসতো, আমাকে তার কিছুই বলতো না। যখন বললো, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তোমাকে সাবধান করার কোন সুযোগই তখন আমার নেই। কারণ, তুমি সেটা আমার আগেই জেনে গেলে।

পহেলা বৈশাখের দিন সকাল বেলা তুমি হাজির হলে ওর ফ্ল্যাটে বাটি ভর্তি পান্তা-ইলিশ নিয়ে। দরজা লক না করা থাকায় সোজা ঢুকে গেলে সোহানের রুমে। যা দেখলে, তা আর নাই বা বললাম। দুপুরে সোহান আমাকে ফোন দিয়ে জানালো সব কিছু। শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম কিছুক্ষনের জন্য। ভাগ্যিস আমাদের দেশে এখনো ভিডিও কল চালু হয়নি। হলে সোহান ঠিকই দেখতে পেতো কিভাবে আমার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল সেদিন। সোহানের বেস্টফ্রেন্ড হওয়ায় তোমার ফেইসবুক আইডি জানাই ছিল। এই আইডিটা খুলে ফ্রেন্ড রিকুএস্ট পাঠালাম। আর বন্ধুত্বের জন্য নিজের ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে দিলাম তোমার দিকে। একটা অপরাধ বোধ কাজ করছিল নিজের ভিতর। আমি তো জানতাম সোহান কেমন, তাহলে কেন তোমাকে সাবধান করলাম না?

সঙ্গতকারণেই আমার কোন ছবি তোমাকে দেখাইনি। কাল তুমি সামনাসামনি দেখা করতে চেয়েছ। ভেবে দেখলাম আমিও তো সোহানের মত তোমাকে ধোঁকা দিচ্ছি বন্ধুত্বের নাম করে। ধোঁকা দিয়ে ভালোবাসার মত পবিত্র সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আর এইসব সত্য জানার পর তুমি আমাকে ভালোবাসা তো দূরের কথা আমার সাথে বন্ধুত্বও রাখবে না। তাই এই একাউণ্টটা আজ ডিএক্টিভেট করে দিচ্ছি। পারলে আমায় ক্ষমা করো।

২.

রাতের বাসে কক্সবাজার যাচ্ছে রুদ্র। একাই। নিজের চাপা কষ্টটা অন্যকে দেখিয়ে করুণা আদায় করার ইচ্ছে তার নেই। পরপর দুটো ঝড় সামলাতে গিয়ে অনেক ধকল গেছে তার উপর দিয়ে। তাই অশান্ত সমুদ্রের কাছে তার অতৃপ্ত মনের না বলা কথাগুলো বলে নিজেকে একটু হালকা করবে সে। অন্যান্য যাত্রীদের সাথে সোহাগের বাস কাউন্টারে বসে মুখ ঢেকে পেপার পড়ছিল রুদ্র। ২৬/২৭ বছরের একটা লোক হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললো,

-     এক্সকিউজ মি, আমার ব্যাগটা একটু দেখবেন? আমি একটু ওয়াশরুম থেকে ফ্রেস হয়ে আসতাম।
-     (পেপারের আচ্ছাদন থেকে মুখ বের করে) সিওর, আপনি যান।
-     না থাক। (ভ্যাবাচাকা খেয়ে বললো আসিফ)
-     আচ্ছা, বিশ্বাস করতে না পারলে থাক। আপনি ব্যাগ নিয়েই টয়লেটে যান।
আবার পেপার দিয়ে মুখটা ঢেকে দিল রুদ্র। আসিফ দাঁড়িয়েই আছে। বুঝতে পারছে না, এ কি করে সম্ভব! রুদ্র? সেও কক্সবাজার যাচ্ছে? একই বাসে? 
-     কী হলো? এনি প্রব্লেম?
-     না, না। ঠিক আছে। সরি। আপনি একটু ব্যাগটা যদি...
-     (মুচকি হেসে)আরে ভাই যান, ব্যাগ নিয়ে পালাবো না।
-     না না, তা কেন হবে? আচ্ছা আমি আসছি।

বাস ছেড়ে দিল ঠিক রাত ১১ টায়। ৪ টায় হোটেল নুরজাহানে চা পানের বিরতি। রুদ্র এক ঘুম দিয়ে উঠলো। একটু ওয়াশরুমে যাওয়া দরকার। বেসিনের সামনে আসতেই আবার ওই লোকটার সাথে দেখা। লোকটা মুখ ধুচ্ছিলো। পাশে দাঁড়িয়ে বেসিনের কলটা ছাড়তেই লোকটা মুখ ধোয়া বাদ দিয়ে হা করে তাকিয়ে রইলো রুদ্রর দিকে। মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানির ফোঁটা। রুদ্র রীতিমত বিরক্ত।
-     আচ্ছা, আপনি কী আমাকে চেনেন?
-     ইয়ে, না। মানে...
-     মানে মানে করছেন কেন? বাস কাউন্টার থেকেই লক্ষ্য করছি আপনি এমন ভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছেন, মনে হয় আপনি আমাকে চেনেন।
-     ইয়ে, আসলে আপনাকে দেখতে আমার পরিচিত এক বন্ধুর মত লাগলো তো, তাই।
-     ও আচ্ছা।

দুজনে বেরিয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে।

-     আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আপনার সাথে এক কাপ চা খেতে পারি? আমি আবার একা কিছু খেতে পারি না।
-     ওকে, নো প্রব্লেম।

আসিফ ভাবতেই পারছে না, এটা কী স্বপ্ন! নাকি সত্যি? রুদ্র বসে আছে তার সামনে? মনে মনে ভাবছে আর কিভাবে তার সাথে আরো বেশি সময় কাটানো যায়।

-      চায়ের সাথে আর কিছু?
-      না, শুধু চা। ও ভালো কথা, আপনার নামটা?
-      আসিফ, আসিফ ইকবাল
-      হুম, আমি রুদ্র। রুদ্র মাহমুদ। বিবিএ করছি। আপনি?
-      আমি ব্র্যাকে আছি। অফিসের একটা সার্ভে করতে কক্সবাজার যাচ্ছি। ভালো কথা, কোন হোটেলে উঠছেন?
-      প্রাসাদে। আপনি?
-      তাই নাকি? আমিও তো। যাক এক সাথে সময় কাটানো যাবে।
-      যদি কারো সাথে সময় কাটাতেই চাইতাম, তাহলে কী আর একা আসতাম?
-      ওহ্‌ সরি। মাফ করবেন। আমি বুঝতে পারিনি।
-      ইটস্‌ ওকে। আচ্ছা, চলেন ওঠা যাক। বাস ছেড়ে দিচ্ছে।
৩.

কক্সবাজারে এসে আসিফ অনেক চেষ্টা করেছে রুদ্রর কাছাকাছি যাওয়ার জন্য, একটু কথা বলার জন্য। কখনো একসাথে খাওয়ার বায়না ধরে, কখনোবা শপিং-এ সাথে যাওয়ার অনুরোধ করে। রুদ্র কেবলই ভদ্রতা রক্ষার্থে আসিফকে যা একটু সময় দেয়। পুরোটা সময় হয় হোটেলে, না হয় বীচে কাটায় সে। একা একাই ঘুরে বেড়ায় সমুদ্রের বালুকাবেলায়। আসিফ বুঝতে পারে এভাবে রুদ্রকে বিরক্ত করাটা তার ঠিক হচ্ছে না। তাই এক সময় আস্তে আস্তে দূরে সরে আসে। রুদ্রকে তার নিজের মত করে থাকতে দেয়।

কাল আসিফ ঢাকা ফিরে যাবে। প্রথমে চট্টগ্রাম, অফিসে রিপোর্ট সাবমিট করে রাতের ট্রেনে ঢাকা। সন্ধ্যায় লাবণী পয়েন্টে বালির উপরে বসে একমনে সমুদ্রের গর্জন শুনছিল রুদ্র । শেষবার রুদ্রকে দেখার জন্য, একটু কথা বলার জন্য, ভদ্রতার অযুহাত দেখিয়ে বিদায় নিতে এগিয়ে যায় আসিফ।

-      ভালো আছেন?
-      ও, আসিফ সাহেব? এইতো। কেমন আছেন?
-      কাল রাতের ট্রেনে ঢাকা চলে যাচ্ছি। তাই আপনার থেকে বিদায় নিতে এলাম। অনেক বিরক্ত করেছি আপনাকে। সম্ভব হলে মাফ করে দেবেন।
-      আরে নাহ্‌, কিসের বিরক্ত? কাল তো আমিও যাচ্ছি। রাতের ট্রেনেই। দেখেন, কী অদ্ভুত মিল! একই বাসে আসলাম, আবার একই ট্রেনে যাচ্ছি। হা হা হা
-      আসলেই তো! আপনার হাসিটা খুব সুন্দর। সবসময় হাসতে পারেন না? এত মন খারাপ করে থাকেন কেন সব সময়?
-      (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) আচ্ছা, উঠি। ভালো থাকবেন।
রুদ্র উঠে চলে যায়। আসিফ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে রুদ্রর চলার পথে, যতক্ষণ না তার অবয়বটা ঝাপসা হয়ে আসে। কিন্তু লক্ষ্য করে না রুদ্র যেখানে বসে ছিল সেখানে বালির উপর অনেকগুলো Z আঁকা, আঙ্গুল দিয়ে।

 ৪.

বার্থে ঢুকতেই আসিফের চোখা ছানাবড়া হয়ে যায়। একি! রুদ্র? তার বার্থেই? পুরো এক মিনিট দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকে সে।

-      হা হা হা (রুদ্রর প্রাণবন্ত হাসি ট্রেনের আওয়াজ ছাপিয়ে আসিফের কানে রিনরিন করে বাজতে থাকে।) আরে মুখটা তো বন্ধ করেন, মাছি ঢুকে গেল তো। হা হা হা! দেখলেন! আবার দেখা হয়ে গেল।
-      তাই তো! আপনি জানতেন যে আমি এই বার্থে উঠছি?
-      আরে নাহ্‌। জানলে কী আর আপনাকে আরো সুযোগ দেই আমাকে বিরক্ত করার!
-      (লজ্জা পেয়ে যায় আসিফ) আসলেই তো।
-      আসেন, আসেন। ভিতরে আসেন। বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি?
-      ও হ্যাঁ। (ভিতরে ঢুকে বার্থের দরজা লাগিয়ে দেয় আসিফ)

ব্যাগ গুছিয়ে রেখে আসিফ জিজ্ঞেস করলো,
-      আপনি কোন বেডটা নিবেন? উপরেরটা, নাকি নিচেরটা?
-      আমার টিকেটে যেহেতু উপরেরটার কথা লেখা আছে, সেহেতু আমি উপরেই থাকবো।
-      না না। উপরে ঝাঁকুনিতে আপনার যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়?
-      আমার ঘুম নিয়ে আপনার তো দেখি ব্যাপক টেনশন! (মুচকি হেসে) ব্যাপার না। আপনি নিচে শোন, আমি উপরেই শুচ্ছি।
-      আচ্ছা, আপনার যেমন ইচ্ছে। আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসছি।

এই বলে আসিফ বেরিয়ে যায় বার্থ থেকে। রুদ্রর খুব ঘুম পেয়েছে। সে উপরে উঠতে যাবে, এমন সময় দেখে ফোন বেজে উঠল নিচের বেডে। ফোনটা ভুলে বেডের উপরেই রেখে গেছে আসিফ। কয়েকবার বাজলো। আওয়াজটা এত কর্কশ, যে কানে লাগে। রুদ্র সাইলেন্ট করে রাখতে ফোনটা হাতে নিতেই কলটা কেটে গেল। আর মোবাইলের স্ক্রীনে ভেসে উঠলো রুদ্রর ছবি। অনেক আগে তোলা। কিন্তু এই ছবি আসিফ সাহেবের মোবাইলের স্ক্রীনে কেন? এটা তো সোহান তুলেছিল তার মোবাইল দিয়ে, সেই এপ্রিল মাসের ৩ তারিখে। রুদ্রর জন্মদিনে। কল্পনায় ভেসে উঠলো জারিফের সেই মেসেজটা।

তাহলে? তাহলে আসিফ সাহেবই জারিফ? খুশিতে মোবাইলটা বুকে জড়িয়ে ধরল রুদ্র। তার চোখে পানি। রোদ আর বৃষ্টি একসাথে হলে নাকি শিয়াল মামার বিয়ে হয়। কিন্তু হাসি আর কান্না একসাথে হলে? রুদ্রর জানা নেই।

এমন সময় বার্থের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো আসিফ। রীতিমত অপ্রস্তুত। তার  মোবাইলটা রুদ্রর হাতে, রুদ্রর চোখে পানি। তাহলে কী রুদ্র সব জেনে গেল? চোখ নিচের দিকে নামিয়ে নিল সে। ঠিক সেই সময় রুদ্র ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো আসিফের বুকে। কাঁদতে কাঁদতে ভিজিয়ে দিলো আসিফের শার্টের বুকের দিকটা।



-      এই কয়টা মাস কিভাবে কেটেছে আমার জানো? কতভাবেই না তোমাকে খুঁজেছি। কেন এই শাস্তি দিলে, বল? কেন সামনে আসোনি? কেন দেখা করলে না সেদিন? তোমার সাথে যোগাযোগের কোন সুযোগই রাখলে না। কেন? বল? কেন?  (রুদ্র আর কথা বলতে পারে না। ফোঁপাতে থাকে।)
-      ভয়ে, যদি তুমি আমার ভালবাসা গ্রহণ না করতে? (আসিফ আলতো করে জড়িয়ে ধরলো তার বহুল আরাধ্য ভালোবাসার মানুষটিকে )
-      তোমার মাথা! কেন গ্রহণ করতাম না? তোমার এত গভীর ভালোবাসা অবজ্ঞা করার শক্তি কী আমার আছে? তুমি সামনে এসে একবার মুখ ফুটে বলে তো দেখতে!
-      হয়েছে, আর কোন কথা নয়। চুপ, একদম চুপ।

এই বলে রুদ্রর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল আসিফ। ট্রেন যদিও চলছিল ঢাকার পথে, আসিফ আর রুদ্র চলতে শুরু করলো এক নতুন পথের সূচনায়। 

আহা!

ঘুম থেকে উঠিয়াই অভ্যাসবশত ডান হাতখানা আমার পরানপাখিটার গায়ে উঠাইয়া দিলাম।

কী ব্যাপার? পরানপাখি কই? সে কী তবে আমায় ফাঁকি দিয়া তাহার সৌন্দর্য্য বিক্রির পেশায় চলিয়া গেল? হায় হায়! এখন আমার কি হইবে? উহাকে চুম্বন করিয়া দিন আরম্ভ না করিলে তো আমার সারাদিনটাই বিফলে যাইবে। এখন কী তবে উহার ঠোঁটের মধু আহরনের জন্যে মৌমাছি হইয়া উহার কর্মস্থলে গিয়া হাজির হইব?

না, না। ব্যাপারটা ঠিক হইবে না। পরানপাখি খেপিয়া যাইতে পারে। আর সে খেপিয়া গেলে আমার আর নিস্তার নাই। আবার না কহিয়া কয়দিনের তরে কোথায় যে উড়িয়া যাইবে, তাহার কোন ইয়ত্তা পাইবো না। শেষমেষ আমাকেই কানে ধরিয়া উঠবস করিয়া তাহাকে শান্ত করিতে হইবে। সে এক মহা হ্যাপার ব্যাপার। অগত্যা আর কোন উপায় না দেখিয়া চরমভাবে খারাপ একটি দিন আরম্ভ করিবার প্রস্তুতি নিলাম মনে মনে। হাতের কাছে দেখি সদ্য কেনা কেতাদুরস্থ ফোনটা (সবাই বলে ইশ্মারটফোন!) বেহায়ার মত আমার দিকে ব্যঙ্গ করিয়া মুচকি হাসিতেছে। মেজাজ সপ্তমে চড়িল। মনে মনে বলিলাম, “ব্যাটা কেতাদুরস্থফোন! আমার দুর্দিনে তুই আমার সহিত মজা লইতেছিস? দাঁড়া, এক্ষুনি তোর মজা বাহির করিতেছি।” এই ভাবিয়া কেতাদুরস্থফোনের আজীবনসঙ্গী তারযুক্ত শ্রবণ যন্ত্রটার (কেন যে ইহার নাম হেডফোন হইলো?) খত্নাকৃত দন্ডখানা জোড় করিয়া চাপিয়া ধরিয়া আমার কেতাদুরস্থ বাবাজির পৃষ্ঠদেশের গহবরে হান্দাইয়া দিলাম। বুঝ ব্যাটা! এইবার মজা বুঝ! কেতাদুরস্থ বদমাইশটার আহ্‌ উহ্‌ শুনিবার জন্য যখনি তারযুক্ত শ্রবণযন্ত্রটার দুই হাত আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করাইলাম, কানে বাজিয়া উঠিল, “ক্যায়সা ইয়ে ইশক হ্যায়... আজাব ছা রিস্ক হ্যায়...”

চোখ বন্ধ করিয়া আমার “আজাব ছা রিস্কওয়ালা ইশক” এর কথা ভাবিতেছিলাম। এরি মধ্যে টের পাইলাম, ঘরে কে যেন হাঁটাহাঁটি করিতেছে। মনে মনে ভয় পাইয়া গেলাম। পরানপাখির দানবতুল্য দোস্ত দেলোয়ার নয় তো? দীর্ঘদিন যাবত সে আমার পৃষ্ঠদেশের স্বাদ আস্বাদনের জন্য পিছন পিছন ঘুরিতেছে। পরানপাখিকে আমার দেহরক্ষক হিসেবে সব সময় কাছাকাছি রাখি বিধায় ওই ব্যাটার মনঃকামনা পুরণ হইতেছেনা। আজ পরানপাখি নাই দেখিয়া সুযোগ বুঝিয়া সে কী তাহার কুমতলব চরিতার্থ করিতে আসিল? ভয়ে ভয়ে চোখ মেলিয়া তাকাইলাম।

দেখি যে না! ভয়ের কিছুই নাই। উল্‌টা আনন্দের উদ্রেক হইল। দেখি পরানপাখি সাদা তোয়ালেতে নিজের কোমর হইতে হাঁটু অব্দি জড়াইয়া স্নানাগার হইতে বাহির হইয়া তাহার অভ্যাসমত কফির মগখানা লইয়া বিশাল জানালার পাশে দাড়াঁইয়া সমুদ্র দেখিতেছে। মনটা আনন্দে নাচিয়া উঠিল। এ যে দেখিতেছি মেঘ না চাইতেই জল! ভাল করিয়া চোখ রগড়াইয়া লইলাম। ভুল দেখিতেছি না তো?

না, না। এ আমার পরানপাখি বই অন্য কেউ নয়। ওই তো তাহার বলিষ্ঠ পুরুষালি শরীর! সূঁচের মতো খোঁচা দেয়া খোঁচা খোঁচা দাড়ি, কান অব্দি লম্বা রেশমি কেশরাজি হাত দিয়া পিছনে টানিয়া দেয়া। কেশরাজি হইতে ফোঁটায় ফোঁটায় জলবিন্দু তাহার সুপ্রশস্থ স্কন্ধ ও গ্রীবায় টপ টপ করিয়া পড়িতেছে। তাহার ইংরেজি Y বর্ণের মত ৬ ফিটের কসরতকৃত ফরসা শরীর দেখিয়া শুধু আমি কেন? সমপ্রেমী, বিসমপ্রেমী, ছেলে, মেয়ে নির্বিশেষে যে কেউ তাহার প্রেমে হাবুডুবু খাইতে পিছ পা হইবে না।

নদীর ক্ষুধার্ত মাছের মত তাহার পেশীবহুল লোমহীন শরীরের দিকে তাকাইয়া রীতিমত খাবি খাইতে লাগিলাম। যতবারই তাহাকে দেখি, মনে হয় এই প্রথম দেখিতেছি। দেখিবার সাধ আমার আর কিছুতেই মিটে না। এইদিকে আমার পরিধেয়র ভিতর হইতে সাধের কইমাছখানা বারবার মাথা উচুঁ করিয়া জানান দিতে লাগিলো যে, সে আর কিছুতেই সুস্থির থাকিতে পারিবে না। চুম্বকের বিপরীত মেরুর প্রতি আকর্ষণ নীতিকে সম্পূর্ণরূপে অবজ্ঞা করিয়া সে সব সময় সমমেরুর প্রতিই আকর্ষণ বোধ করিয়া থাকে। সে যাইহোক, কেতাদুরস্থ ফোনটা তখন কাকতালীয় ভাবে আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতটা বাজাইয়া শুনাইতে লাগিল- “ মোর ভাবোনারে কী হাওয়ায় মাতালো... দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।। হৃদয় ও গগনে সজল ও ঘন, নবীন ও মেঘে... রসের ও ধারা বরষে।”

মনটা প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। ওদিকে পরানপাখির আমার দিকে কোন খেয়াল নাই। তিনি আপন মনে তাহার প্রিয় কফিমগের ঠোঁটে ঠোঁট মিলাইয়া সমুদ্র দেখিতেছেন। এদিকে আমার শরীরে কামের আগুন ধরিয়া গিয়াছে। সে কি আর কিছুতেই বিছানায় থাকিবে? মোটেই না। আমার শরীর তো, ইহাকে আমার ভালো করিয়াই চেনা আছে। কম্বলের আচ্ছাদন হইতে শরীর বাবাজিকে মুক্ত করিয়া তাহার মনষ্কামনা পূর্ণ করিবার জন্যে পরানপাখির নিকট ছুটিয়া গেলাম। পরানপাখি তাহার  দুই হাত প্রশস্থ করিয়া জানালা ধরিয়া দাঁড়াইয়া আছে। আমি পিছন হইতে তাহাকে জড়াইয়া ধরিয়া তাহার পেশীযুক্ত শক্ত বুকের উপর আমার অশান্ত হাত দুইটা আলতোভাবে রাখিয়া আস্তে আস্তে চাপ দিতে লাগিলাম। ওমা! এ দেখি আরো শক্ত হইয়া উঠিয়াছে!

পরানপাখি ঘাড় ঘুরাইয়া আমায় কহিলো, “কি? ঘুম ভাঙ্গিয়াছে?”
আমি আদুরে গলায় কহিলাম, “হুম।”
-     “আমার শুয়াচান পাখিটা কি চায় তাহার জন্মদিনে? কি উপহার দিব তাহাকে?”
-     “তোমার শুয়াচান পাখিটা আদর পাইতে চায়। অনেক অনেক বেশি আদর। ”
-      “ওরে হতচ্ছারা, হইতেছেটা কী? কাল সারা রাত ধরিয়া এত্ত আদর করিবার পরও তোমার সাধ মিটে নাই?”
-     “উহু!”
-     “দাঁড়াও, দেখাইতেছি মজা। একদম সঙ্গাসহ উদাহরণ দিয়া আজিকে তোমাকে আদর কাহাকে বলে শিখাইয়া দিব।”

 এই বলিয়া পরানপাখি তাহার সাদা তোয়ালে খানা এক ঝটকায় খুলিয়া ফেলিলো। আমি তাকাইয়া দেখি, তাহার অজগরটা আমায় ছোবল মারিবার জন্যে ফোঁস ফোঁস করিতেছে। মনে পড়িয়া গেল ছেলেবেলায় বাল্যশিক্ষার বইয়ে পড়িয়াছিলাম, স্বরে-অ তে অজগরটি আসছে তেড়ে, স্বরে-আ তে আমটি আমি খাবো পেড়ে। কিছু বুঝিবার আগেই পরানপাখি আমাকে তাহার কোলে তুলিয়া লইলো। মুহুর্তের মধ্যেই আবার নিজেকে বিছানার উপর আবিষ্কার করিলাম।

পরানপাখি এইবার কাল বিলম্ব না করিয়া আমার উপর তাহার পেশীবহুল বলিষ্ঠ শরীরখানা আছড়াইয়া ফেলিলো। যেন হঠাত একটা জোয়ার আসিয়া আমার উপর আঘাত হানিলো। আলতো করিয়া আমার মুখটাকে তাহার ফরসা, লম্বা হাত দুইটা দিয়া টানিয়া তাহার  মুখের কাছে লইয়া গেল। আমি আবেগে আপ্লুত হইয়া মনের অজান্তেই চোখজোড়া বন্ধ করিয়া ফেলিলাম। ভিতরে ভিতরে হৃদকম্পণ বাড়িয়া যাইতে লাগিলো। একটু পরে ঠাহর করিতে পারিলাম, পরানপাখি আমার ঠোঁটজোড়া কমলার কোঁয়ার মতো করিয়া চুসিতেছে। বেহায়া শরীর আমার বিদ্যুতস্পৃষ্ট হইয়া গেলো যেন। আমি আর তখন আমার মাঝে নাই। পরানপাখির খেলার পুতুলে পরিণত হইয়া গিয়াছি। সে যাহা ইচছা আমার সহিত করিতে লাগিলো। হ্যাঁচকা টানে আমার পরিধেয় সে যে কোথায় ছুঁড়িয়া মারিলো, আমি তখন তাহা বলিতে পারিনে। পারিবোই বা কী করিয়া? আমি কী তখন আমার মাঝে আছি নাকি?



আস্তে আস্তে পরানপাখি আমার ঠোঁটের উপর হইতে দখল ছাড়িয়া নিচে নামিতেছে। গ্রীবা, স্কন্ধ সবকিছুর উপর তাহার একচছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করিয়া পরানপাখি আমার বুকের উপর আসিয়া আস্তানা গাড়িলো। এই কথা তাহার অজানা ছিলো না যে, ওই একটা জায়গাই হইলো আমার বেহায়া কায়ার দুর্বলতম স্থান। এদিকে কামানলে জ্বলিয়া পুড়িয়া আমি রীতিমত খাক হইতেছি কিন্তু ওইখান থেকে তাহার মুখ সরাইয়া দেই সেই সাধ্য কী তখন আমার আছে? অনেক ঠেলাঠেলি করিয়াও তাহার মুখ যখন সরাইতে পারিতেছি না, তখন সে একবারের জন্য মুখ উঠাইয়া কহিলো “কী? আরো আদর চাই?” আমি কহিলাম, “ঘাট মানছি। আর চাই না।”

মনে মনে ভাবিলাম এইবার বুঝি পরানপাখির আমার উপর দয়া হইল, কিন্তু কিসের কী? সে পুর্ণ উদ্যমে আরো নিচের দিকে নামিতে থাকিল। নামিতে নামিতে আমার নাভির উপরে আসিয়া সে এইবার তাহার জিভ বাবাজিকে দিয়া এমন খেলা দেখাইতে লাগিলো যে, আমি তাত্‌ক্ষনিকভাবেই বুঝিতে পারিলাম আজিকে আর আমার রক্ষা নাই। আমার পাতলা কোমড়ের বাঁকা হাড় দুইখানি দুই হাতে ধরিয়া পরানপাখি এইবার যে কোথায় নামিলো, সেই কথা আর মুখে আনিতে পারিতেছি না। আচ্ছা, আমার বুঝি লজ্জা করে না! উহাকে অনেক চেষ্টা করিয়া ওইখান হইতে সরাইলাম। দেখি টকটকে ফরসা পরানপাখিটা আমার অনেক্ষন যাবত চুম্বন কার্য করিতে গিয়া নিজেই টমেটোর মত লাল হইয়া গিয়াছে। এরপর সে যে আর কী কী ভাবে আমাকে আদরের সঙ্গা উদাহরণ সহিত শিখাইতে লাগিলো সে কথা আর মুখে আনিতে পারিনে।

বিশাল এক জলোচ্ছ্বাস বহিয়া গেলো হোটেল সী গাল এর ৩ নম্বর স্যুইটে। একটু পরে নিজেকে পরানপাখির বাহুবন্ধনে আবদ্ধ অবস্থায় পাই। দুইজনে আনমনে গড়াগড়ি দিতে থাকি।  

গড়াইতে গড়াইতে ধপাস্‌ করিয়া বিছানা হইতে নিচে পড়িয়া মাগো... বলিয়া যেই না একখানা চিত্‌কার দিলাম, দেখি পরানপাখি আমার ফুড়ুত করিয়া উড়াল দিয়া কোথায় যেন চলিয়া গিয়াছে। আর আমি আমার সাধের কোলবালিশখানা জড়াইয়া ধরিয়া মাটিতে পড়িয়া আছি। হোটেল সী গাল এর এ হেন শ্রী দেখিয়া বিস্মিত হইলাম। কিয়তকাল পরে ঠাহর করিতে পারিলাম যে ইহা হোটেল সী গাল তো নয়ই, বরং হোটেল আল-ছালাদিয়াও নয়। ময়লা কাপড় আর পুস্তকে ঠাসা আমার গুমোট কামরা।

রানের কাছে কী যেন ভিজা ভিজা লাগিতেছে। বুঝিলাম সমস্ত অত্যাচার লুঙ্গি বেচারার উপর দিয়াই করিয়াছি। এক জায়গায় এখনো পুরু ভাতের ফেনের মত ফেদা লাগিয়া রহিয়াছে। আরো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান চালাইয়া দেখিলাম লুঙ্গি বেচারার আরো দুই যায়গায় ফেভিকলের আঠা জমিয়া একদম শক্ত হইয়া রহিয়াছে। হায় হায় এ কী কান্ড করিলাম! স্বপ্নদোষ ঘটাইয়া ফেলিলাম? তাও আবার একবার নয়, দুইবার নয়, তিন তিন বার? রাগে ক্ষোভে নিজের মাথায় নিজেই জোরছে এক চাটি বসাইয়া ভর্তসনা করিয়া কহিলাম,

“ আহা! সখ কতো! ব্যাটা উল্লুক কোথাকার! যেই না আমার থোবড়া... তাহা লইয়া আবার বিখ্যাত সৌন্দর্য্য পেশাজিবী ও অভিনেতা আরেফীন শুভর সহিত প্রেম করিতে চাহিস!”

প্রথম ভালোবাসা

আমি অনিক। বাবা মা’র একমাত্র ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই অতি আদরের, তা তো বুঝতেই পারছেন। বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী। বড় বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে। অতি আদরের ছেলে বলে হয়তো ঘর থেকে বেশি একটা বের হতে দেয়া হতো না আমাকে। আর তাই বন্ধুও খুব একটা বেশি ছিল না আমার। খেলাধুলাও খুব একটা করতাম না। আর দশটা ছেলের মতো দুরন্তপনা করার সুযোগ পাইনি বলেই ছোটবেলা থেকেই আমি অনেকটাই শান্ত স্বভাবের। পড়ালেখায় খারাপ ছিলাম না। খুলনা শহরের নামকরা স্কুলের প্রথম দিকের ছাত্র ছিলাম। কলেজেও তাই। বড়দের মুখে সব সময়ই শুনে এসেছি যে প্রেম ভালোবাসা করলে লেখাপড়া গোল্লায় যাবে। তাই সব সময় মেয়েদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে এসেছি এতোটা কাল। কিন্তু সেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে যে নিজেই এক চরম অনিরাপদ জায়গায় চলে এসেছিলাম সে কথাই বলবো আজ।

এইচ এস সির পর অনার্সে ভর্তি হলাম। বাসা থেকে কলেজটা দূরে। খুলনা শহরে। তাই কলেজের পাশেই ফ্রেন্ডরা মিলে একটা মেস বাসা ভাড়া করি। চার রুমের বাসা। তিনটা রুমের  প্রতি রুমে তিনজন করে নয়জন উঠেছে, আর আমার রুমে আমি একা। কারো সাথে বেড শেয়ার করা তো দূরে থাক, রুম শেয়ার করাটাও আমার ধাঁতে সইতো না। আলালের ঘরের দুলাল বলে কথা!
সে যাইহোক, আমার পাশের রুমে থাকতো রায়হান, আনিস আর অরন্য। মেসমেট হিসেবে সবার সাথেই টুকটাক গল্পগুজব করতাম। কিন্তু অরন্য ছেলেটা কেন জানি সব সময়ই চুপচাপ ছিল। আমার মত স্বভাবের দেখেই হয়তো ওর প্রতি আগ্রহটা একটু বেশিই বোধ করতাম। কথাবার্তা আমাদের তেমন হতো না। শুধু দেখা হলে “কেমন আছেন?” “ভাল আছি” টাইপ কথা বার্তা। আর তাছাড়া ও আমার ডিপার্টমেন্টেও পড়তো না। কলেজে যাওয়া আসার পথে মাঝে মাঝে দেখা হলে মুচকি হাসির বিনিময় বা সৌজন্যমূলক কথাবার্তা, ব্যাস ঐটুকই। আমিও আর বেশি ঘাটালাম না। থাক না বেচারা নিজের মতো করে।

একদিন আমার এক ক্লাসমেট কাম মেসমেট সাইফুল বলল অরন্য নাকি আমার কথা জানতে চেয়েছে ওর কাছে। কি জানতে চেয়েছে জিজ্ঞেস করতেই বলল, অরন্যর নাকি আমার ফটোগ্রাফির ব্যাপারে দারুন আগ্রহ। কোথা থেকে ক্যামেরা কিনেছি, কত নিয়েছে, কোথায় গিয়ে ক্লাস করি ফটোগ্রাফির এই রকম নানা কথা। সাইফুলকে বললাম এতোই যখন আমার ব্যাপারে জানার আগ্রহ, তো নিজ থেকে কথা বলতে আসতে পারে না? সাইফুল বলল, অরন্য নাকি আমাকে ভয় পায়।

শুনে ব্যাপক হাসলাম। আমার মত নিরীহ প্রানীকে যে কেউ ভয় পেতে পারে, সেটা ভেবেই প্রচন্ড হাসি পেল। যা বুঝার বুঝে নিলাম। সাইফুলকে আর কিছু বুঝতে দিলাম না। সিদ্ধান্ত নিলাম নিজেই আগ বাড়িয়ে কথা বলবো অরন্যর সাথে।
যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিন ক্লাস থেকে বাসায় ফেরার পথে দেখি অরন্য রিকশা খুঁজছে। এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-      লিফট পেতে পারি?
-      অবশ্যই। কি বলেন ভাইয়া?
-      ভাইয়া! তাহলে থাক আমি অন্য রিকশা দেখি। মেসমেট কাম ইয়ারমেটকে যে ভাইয়া ডাকে, তার সাথে আমি আবার একই রিকশায় যাই না।
-      সরি ভাই, আর হবে না।
-      আবার ভাই! আমার নাম অনিক। আর আমি কোন ভাইলোক না।
-      আপনে তো খুব মজার মানুষ, আসেন রিক্সায় ওঠেন।

এভাবেই কথা বলা শুরু হয় অরন্যর সাথে। আমার ফটোগ্রাফির প্রতি তার ছিল ব্যাপক আগ্রহ। দুজনে একসাথে প্রায়ই আড্ডা দিতাম। বিকেলে ঘুরতে যেতাম বাইরে। ও প্রায়ই আমার রুমে আসতো মুভি দেখতে। এভাবে ভালোই চলছিল আমাদের বন্ধুত্ব। একদিন ও আমার রুমে আসলো মুখ ভার করে। বলল,
-      অনিক, আমি কাল বাসা ছেড়ে দিচ্ছি, বিদায় নিতে এলাম।
-      মানে কি? আগে তো কিছুই বলোনি, কেন বাসা ছেড়ে দিচ্ছ? এখানে কি থাকতে সমস্যা হচ্ছে কোন?
-      আসলে তা না। আমার বাসার অবস্থা তো তুমি জানোই। আসলে আমাদের সংসারটা অনেক বড়। বড়ভাইয়ের একার টাকায় সংসার চলে। তার পক্ষে আর বাসা ভাড়া দিয়ে আমাকে শহরে রেখে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাসা ছেড়ে দিচ্ছি। ক্লাস মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে এসে করতে পারলে করবো, তা না হলে শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিব।

শুনে খুব মন খারাপ হয়ে গেল। আর দেখবো না ছেলেটাকে? সারা রাত মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো বিষয়টা। কোনভাবেই কি আমি তার কোন সাহায্য করতে পারি না? কিন্তু আমিও তো ছাত্র মানুষ। কিইবা করতে পারি সে অবস্থায় অরন্যর জন্য? অনেক ভেবে সকালে একটা উপায় বের করলাম।
অরন্যকে ডেকে বললাম,
-      তোমার যদি আপত্তি না থাকে একটা কথা বলি?
-      হুম অবশ্যই।
-      তুমি বাড়ী যেও না। আমি তো একাই থাকি আমার রুমে, তুমি বরং আমার সাথে থেকো।
-      সে কিভাবে সম্ভব? তোমার তো একা থাকার অভ্যাস। তোমার কষ্ট হবে।
-      আমার কষ্ট নিয়ে তোমাকে এত ভাবতে হবে না। যেটা বলছি করো। এখনি তোমার বেডীং, বইখাতা আর জামা কাপড় নিয়ে আমার রুমে চলে আসো। জলদি। বাইরে বেরুবো নাস্তা করতে।

অরন্যর মুখের সেদিনের অবাক করা হাসিটা আমি আজও ভুলতে পারিনা। ছেলেটা যে কি পরিমান অবাক আর খুশি হয়েছিল! ওকে একটু খুশি করতে পেরে আমার বুকটা আনন্দে ভরে উঠলো, ভুলেই গেলাম যে আমি আমার উনিশ বছরের জীবনে কারো সাথে বেড শেয়ার করা তো দূরের কথা, রুমও শেয়ার করিনি।

সেই থেকে অরন্য আমার সাথে। এক সাথে নাস্তা করা, ক্লাসে যাওয়া, বিকেলে আড্ডা দেয়া, সব কিছুতেই আমি আর অরন্য। সবাই বলতো মানিকজোড়। একদিনের কথা মনে পড়ছে। এক শীতের সন্ধ্যায় কি একটা মুভি দেখছিলাম একসাথে। লম্বা একটা ফ্রেঞ্চ কিস এর সিন ছিলো। দুজন দুজনের দিকে তাকালাম। হঠাত ওর কপালে আমার কপাল ছোঁয়ালাম, অরন্য বাধা দিল না। এরপর নাকের সাথে নাক, দেখি ওর নিঃশ্বাস ঘনীভূত হচ্ছে। নিজের ঠোঁট দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিলাম অরন্যর ঠোঁট। সেই আমার প্রথম চুম্বনের অভিজ্ঞতা।

একসাথেই শুতাম দুজন, কিন্তু দুজনের মধ্যে কিছু হওয়া বলতে ঐ চুমু আর জড়িয়ে ধরে ঘুমানো পর্যন্তই। কেটে গেল কয়েকটি বছর। অরন্যর পক্ষে নিজের খরচ চালানোটা সম্ভব হতো না। আমার বাসা থেকে পাঠাতো ৫,০০০ টাকা। এই টাকায় আমার একার বেশ ভালভাবেই চলে যেত। কিন্তু অরন্য আমার সাথে থাকার পর থেকে দুজনের খরচ চালানো শুরু করলাম এই টাকায়। খুব কষ্ট হতো আমার, কিন্তু অরন্যকে কিছুই বুঝতে দিতাম না। এমনো সময় গেছে নিজে ঈদে জামা না কিনে অরন্যকে কিনে দিয়েছি। আমি তখনো বুঝতে পারিনি কেন এই ছেলেটার জন্য আমি এত ত্যাগ স্বীকার করছি।

যখন বুঝতে পারলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। অরন্যর একটা গার্লফ্রেন্ড ছিল। তখন আসলে ছেলে ছেলে ভালবাসা হওয়ার বিষয়টা ঠিক বুঝতাম না। তাই কোন রকম জেলাসি কাজ করতো না নিজের ভেতর। যাইহোক মূল ঘটনায় চলে আসি। আকদিন আমি বাসায় ছিলাম না। অরন্য তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে আসে আমাদের বাসায়। খুলনা শহরটা খুব একটা বড় না। তাই খুব সহজেই জানাজানি হয়ে যায় ব্যাপারটা।

মেয়ের ভাই কয়েকটা মাস্তান টাইপ ছেলে নিয়ে আসে একদিন বাসায়, সেদিন আবার অরন্য বাসায় ছিলো না। বাসার অন্যদের থেকে জানতে পারলো যে আমি অরন্যর রুমমেট। এসে কোন কথা বার্তা ছাড়াই আমাকে চড় থাপ্পড় মারা শুরু করলো। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। তিন চারজন একসাথে চড়াও হলো আমার ওপর। ওরা আমাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারছিল আর বলছিল, “হালার পুত, তুই-ই হইলি নাটের গুরু। তুই কইছোছ লতারে এইখানে আনতে, না! ***  বাচ্চা, ****** বাচ্চা” এইরকম নানান গালি শুনলাম। এই ধরনের ঘটনার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। নিজের বাসায় এমনকি নিজের রুমে এভাবে কতগুলো ছেলের কাছে বিনা দোষে মার খাওয়ার জন্য খুব অপমানিত হলাম সেদিন।

রাতে অরন্য বাসায় ফিরলে ওকে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি, ওরা আমাকে “নাটের গুরু” কেন বলছিল। যা শুনলাম, তাতে আমি পুরাই হতবাক। পুরো এক মিনিট স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। অরন্য নাকি ওদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমার উপরে দোষ চাপিয়ে দিয়েছে। আমিই নাকি অরন্যকে উশকে দিয়েছি লতাকে বাসায় নিয়ে আসার জন্য, যেহেতু আমার রুম ফাঁকা থাকে। আমি কিছু বলতে পারলাম না। অরন্য অনেকবার সরি বলল, মাফ চাইলো। কিন্তু আমি কোন কথা বললাম না সে রাতে।
পরদিন সকালে সালিস বসলো এলাকায়। আমাদের বাসার সবাইকে ডাকা হলো। প্রথমবার বলে মুরুব্বিরা মাফ চাইয়েই ছেড়ে দিল আমাদের। কিন্তু আমার কাছে খুবই খারাপ লাগছিল, যদি সত্যিই কোন অপরাধ করতাম, পায়ে ধরে মাফ চাইতেও আমার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু যেখানে কোন দোষই করলাম না, সেখানে এভাবে মার খাওয়া আর ভরা মজলিশে সবার সামনে মাফ চাওয়াটা ছিল আমার জন্য চরম অপমানের।

অরন্যর ভাইকে ফোন দিলাম। বললাম, “এখানে কিছু সমস্যা হয়েছে, আপনি ওকে কিছুদিনের জন্য বাড়িতে গিয়ে থেকে আসতে বলেন।” অরন্যর ভাই ওকে ফোনে কি বলল কে জানে! সে বাসায় ফিরে ব্যাগ, বেডিং, বই খাতা সব গোছাতে শুরু করলো। আমি জিজ্ঞেস করতেই বলল, “আমাকে বের করে দিতে চাও, সেটা আমার ভাইকে না বলে আমাকে সরাসরি বললেই পারতে।” আমি অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু অরন্য কিছুই শুনতে চাইলো না। এক মনে নিজের কাজ করতে থাকলো। আমার বারবারই মনে হচ্ছিল আমি যেন কিছু একটা হারাতে যাচ্ছি। বুকটা রীতিমত খালি খালি লাগছিল। ওর হাত ধরে ওকে থামানোর চেষ্টা করলাম। এক ঝটকায় হাতটা সরিয়ে নিল। এরপর যা করলাম, তা ভেবে আজো মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে।

পা জড়িয়ে ধরলাম অরন্যর। ঘটনার আকস্মিকতায় অরন্য যতটা না অবাক হলো, আমি অবাক হলাম তার চেয়ে ঢের বেশি। কি করছি আমি! কিন্তু তখন আর আগ পিছ ভাবার সময় নেই আমার হাতে। যেভাবেই হোক অরন্যকে আটকাতে হবে। অরন্য “কী করো, কী করো” বলে নিজের পা থেকে আমার হাতটা সরিয়ে নিল। কিন্তু থাকলো না আমার সাথে আর। ঠিকই ব্যাগ গুছিয়ে বেডিংপত্র নিয়ে হন হন করে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। দরজা লাগিয়ে বালিশে মুখ চেপে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলাম।

তিন মাস পর,

অরন্য আবার খুলনা শহরে এলো। আমাদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। বাসা নিল আমার বাসার পাশেই। এর মধ্যে যে আমি কতোবার তাকে ফোন দিয়েছি, এস এম এস দিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সে একটা রিপ্লাই ও দেয়নি। প্রচন্ড অপরাধবোধ কাজ করছিলো এই কয়টা মাস। যখন শুনলাম ও আবার এসেছে, আমি ছুটে গেলাম ওর নতুন মেসে। গিয়ে যা দেখলাম তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। এ কোন বাসায় থাকবে অরন্য! টিনের বাসা, দেয়াল টিন, ছাদ টিন। মে মাসের কাঠ ফাটা রোদেও ঘরে একটা ফ্যান নেই। আমি যেয়েই ওকে বললাম, “চলো এখান থেকে, এখানে তুমি থাকতে পারবে না। আমার সাথে কথা না হয় নাই বলো কিন্তু পরীক্ষার এই একটা মাস আমার সাথে থাক। তোমার ভালোর জন্যই বলছি, প্লিজ। এখানে থাকলে তোমার পরীক্ষা খারাপ হবে।” শুনলো না আমার কথা। আমার উদ্বিগ্নতার জন্য শুকনো ধন্যবাদ দিয়ে আমাকে বিদায় করে দিল ওর বাসা থেকে।



খুব কষ্ট লাগছিল। নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটা টেবিল ফ্যান আর বইয়ের র‍্যাক কিনলাম। পৌঁছে দিলাম ওর বাসায়। বললাম, “এই জিনিস দু’টা না রাখলে খুব কষ্ট পাবো” অরন্য আমাকে আর কষ্ট দিলো না। রেখে দিল ফ্যান আর বইয়ের র‍্যাক।
পরীক্ষা শেষ হলো ভালোয় ভালোয়। এর মাঝে আসা যাওয়ার পথে কথা হতো টুকটাক, কিন্তু ব্যাস ঐটুকই। অরন্য আর আগের মত মিশলো না আমার সাথে।

কিছু প্রশ্ন করার ছিল অরন্যর কাছে। আসলেই কি অপরাধটা আমার ছিল? আর থাকলেও কি এতোই বেশি ছিল যে ক্ষমা করা যায় নি! অরন্যই আমার জীবনের প্রথম মানুষ যাকে ভালবেসেছি বলা যায়, ওর কাছে যদিও ব্যাপারটা নেহাতই বন্ধুত্ব, যা সহজেই সে দূরে ঠেলে দিতে পেরেছিল, কিন্তু আমার কাছে অরন্য ছিল বন্ধুর চেয়েও অনেক বেশি কিছু।

এরপর এম বি এ করতে ঢাকায় আসি। চেষ্টা করি আস্তে আস্তে অরন্যকে ভুলে যেতে। যান্ত্রিক শহরের যান্ত্রিকতার ভিড়ে সময় কাটানোর জন্য আশ্রয় নেই ফেইসবুকের। একবার এক ছেলে আমার ছবি দেখে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোএস্ট পাঠায়। কিছুদিন কথা বলার পর জানতে চাইলো আমি ছেলেদের প্রতি ইন্টারেস্টেড কিনা, আমার রোল কি। বুঝলাম না। পরে হাতে কলমে সব শিখিয়ে দিল আমাকে। বলল, অনেকেরই নাকি ফেইসবুকে দুইটা আইডি থাকে। একটা রিয়েলঃ ফ্যামিলি আর ফরমাল ফ্রেন্ডদের জন্য, আরেকটা ফেইক। সেক্স পার্টনার খোঁজার জন্য। আমি তাজ্জব বনে গেলাম। বলে কি এই ছেলে!

অনেকটা জানার আগ্রহ থেকেই আরেকটা আইডি খুললাম। ব্যাস যাত্রা শুরু। আস্তে আস্তে ফ্রেন্ড বাড়তে লাগলো। একদিন একজন দেখা করতে চাইলো। আমিও রাজি। দেখা হলো আমার বাসার সামনের বাস স্ট্যান্ডে। খুব বৃষ্টি শুরু হলো হঠাত করেই। তাকে বললাম আমার বাসায় আসতে। দুপুরে এক সাথে খেলাম, তারপর মুভি দেখলাম কিছুক্ষণ। ও হঠাত করে বলল, “তোমার ঠোঁট দুটো খুব সুন্দর, একটা কিস করি?” না করলাম না। শুধু কিস না, আরো অনেক কিছুই হলো আমাদের মাঝে।

সেই থেকে আমি আর রিজওয়ান এক সাথেই আছি। রিজওয়ান আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। হয়তো আমিও! আমার সাথে দেখা হওয়ার আগে ও অন্য অনেকের সাথেই অনেক কিছু করেছে, কিন্তু আমার মাঝে যে কি পেলো বুঝলাম না। আর কারো দিকে নজর দিলো না। এখন একটা বাসায় দুজন এক সাথেই থাকি। আমাদের মাঝে বোঝাপড়াটাও দারুন। দুজনই জব করি। রাতে এক সাথে খাই, দু’জন দুজনের হাতে মাথা রেখে ঘুমাই। আমি এখন অনেক সুখি।

কিন্তু মনের একটা কোনে এখনো কেন যেন অরন্য বিরাজ করে আমার। হয়তো প্রথম ভালোবাসাটা ভোলা যায় না বলেই!   

ময়ূরপঙ্খী নাও (পর্বঃ ০১-০২)

প্রথম পর্বঃ

কিছু মানুষকে বিধাতা হয়তো প্রখর ভাবে উপলদ্ধি করার ক্ষমতা দিয়ে থাকেন। সম্ভবত আমি তাঁদের একজন। আমার জীবনে ভালোবাসার অভাবটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের, তাই ভালোবাসার মূল্যটা খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি। থাক সে কথা, বাস্তবতাকে এখন আমি সব থেকে বেশি ভয় পাই । যখনই কোন দুর্ভাগ্য আমর কপালে এসে জোটে তখনি ভাবি এটাই বাস্তবতা । তোমাকে হারানোটাও এই বাস্তবতার অংশ । এটা যদিও তোমার কথা ছিল । তোমার সাথে পরিচয়ই আমার বাস্তবতার সব থেকে বড় উপহার । কোন এক আশ্বিণে দেখা হয়েছিল তোমার সাথে। অফিস থেকে ফেরার পথে বৃষ্টি শুরু হল। আমি দাড়িয়ে ভিজছি অসময়ের বাদল ধারায়, ধ্যাত আজ একটাও সি.এন.জি পাচ্ছি না, অমন অসময়ই তুমি এলে এক আগুন্তুক হয়ে। এসে আমার পথ আটকিয়ে দাঁড়ালে। আগে কখনও দেখিনি তোমকে । বললে, “ যাবেন ?” সি.এন.জি তে তুমি একাই ছিলে। আমি ভাবলাম ভিজে জ্বর বাবাজি কে নিমন্ত্রন না জানিয়ে উঠে পরি । কিছু সময় আলাপ হল আমাদের। পরদিন আবার দেখা সেই একই জায়গায় । ফোন নাম্বার আদান প্রদান। অল্প দিনের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেল ।

প্রায় এক মাস পর সেই দশমীর সন্ধ্যা । আজও সেকথা মনে হলে মন আনন্দে ভরে উঠে। চারিদিক থেকে উলু ধ্বনি আর ঢাকের শব্দ ভেসে আসছে । সিঁদুর খেলাও প্রায় শেষ,বিসর্জণের আরতী শুরু হয়ে গিয়েছে । এখনি বিসর্জন হবে বোধহয় । এত উৎসব এর মধ্যে ও আমি বসে আছি একা একা । তুই এসে আমার পাশের চেয়ারটায় বসলি, জিজ্ঞেস করলি, - “আমাকে তোর কেমন লাগে রে ?” - “তুই একটা জঘন্য পাবলিক” বলেই হেসে দিলাম । - “তুই কিন্তু আমার অনেক পছন্দের ।“ ব্যাগ থেকে অনেক গুলো পদ্ম ফুল বের করলি আর একটা নীল খাম। আমি একটু অবাকই হলাম, ফুল আর খামটা দিয়েই বললি: “এবার আমি চললাম” বলেই ভিড় এর মধ্যে কথায় যেন হারিয়ে গেলি। বাসায় এসে দেখলাম ১১টা পদ্ম। ১০টা নীল পদ্মের মাঝখানে ১টা শ্বেত পদ্ম, এবার তোর নীল খাম খোলার পালা, খাম খুলে দেখি তোর লেখা চিঠি। আজও মনে আছে চিঠিটা………




Dear Babu,

This is my 1st letter to you, i want to clear you about me & myself so that in the long run u don't have to hesitate whether u will carry on with me or not. So I’m writing this letter, Babu I m not a prince, not so much a bright student, not so much intelligent. I m very simple and ordinary. Nothing is special in me ,i m a person of backdated, illogical, foolish, & may be with a lot of bad luck. i just believe one thing every relation stands on the base of trust & truthfulness, if there is no trust there is no relation, but Babu one thing u mast remember some times what we see that's not true & what is true we can’t see. I hope u understand what i want to mean, i think most of the things are not on the basis of logic.

I just believe what my mind says to me , i believe God lives in our mind. so most of the time my mind says me the truth. It’s my habit . Now my mind is saying only one thing and that is i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love ui love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love ui love u i love u i love u i love u i love u i love ui love u i love u i love u i love u i love u i love ui love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love ui love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u i love u you believe it or not its totally up to you . but my mind also says that you are only mine. & u love me more than i do. i don't want to lose you. thats why i try to explain myself. But may be again i have failed in this exam. ar boro kora hoyto uchet hocha na , tome hoyto boar hocho, ke korbo bolo ame aktu amon e. কি পছন্দ হয়!

এই গাধা মার্কা বোকা মানুষটাকে? valo thako. Tomer …………. তোর কাঁচা হাতের ভুল ইংরেজিতে লেখা চিঠিটা পড়ে মজা যতোটা না পেলাম, তার চেয়ে অবাক হলাম বেশি। মাথা কাজ করছেনা………………… কি করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, আমার জীবনে নতুন করে কোনও pain ডেকে আনার কোন মানে হয়না কিন্তু তোকেও তো আমি কষ্ট দিতে চাইনা, সিদ্ধান্ত নিলাম তোকে চিঠিতেই আমার অতীত জানাবো। তাই কাগজ কলম নিয়ে বসলাম, চোখের সামনে ভেসে উঠছে স্মৃতির অতল তলে হারিয়ে যাওয়া ময়ূরপঙ্ক্ষী নাও।

পর্বঃ ০২

পাখি,
সবাই এখন ঘুমে । তুইও । শুধু আমি একা জেগে । কিছু রাত পাখি বাইরে ডাকছে । ওরা আমার সঙ্গী ।হয়ত আমি একা ভয় পাব ভেবে ওরা আমায় সঙ্গ দেয় । অনেক দিন পর কারও কাছ থেকে চিঠি পেলাম । ।
আমি এখনও জানি না আমি কোন পথে এগুচ্ছি । ভালো নাকি মন্দ । তবে আমি এওটুকু বুঝি আমি তোকে মিস করি । কারণে কিংবা অকারনে । একে আর যাই বলুক ভালোবাসা বলে কি না আমি জানি না । তবে যখন খেতে বসি তখন তোর কথা খুব বেশিই মনে হয় । রাতে যখন ঠাণ্ডা বিছানায় ঘুমোতে যাই তখনও মনে হয় তোর কথা । আজকাল সন্ধ্যের পর অফিস থেকে যখন বের হয়ে যখন সি আন জি র জন্য দাড়াই তখনও অবচেতন ভাবেই তুই আমার মনে চলে আসিস । এর শেষ কোথায় ? কে জানে ?

তখন ২০০৫ সাল । আমি একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়য়ে পড়ি । অবসর সময়ে ঘুরি ফিরি আড্ডা দিই । ইয়াহু তে খুব চ্যাট করতাম । তখন ছেলে- ছেলে সম্পর্কের ব্যপারটা খুব ভালো করে জানি না । ভাসা ভাসা শুনেছি । ওর নাম ছিল অমি । সেখানেই তার সাথে পরিচয় । একদিন আমার সেল নম্বর নিল । তারপর থেকেই মাঝে মাঝে কথা হতো । একদিন ভার্সিটির কাছে এক বার্গার শপ এ বসে বার্গার খাচ্ছিলাম । এমন সময় তার ফোন । সে হাউ মাউ করে কাঁদছে । আমি বললাম কি হয়েছে? ও কান্নার চোটে বলতে পারছিল না । আমি তাকে আমার এখানে আসতে বললাম ।
কিছুক্ষণ পর সে আসল । এসে আবার কান্না । আমি পুরপুরি অপ্রস্তুত । আশেপাশের মানুষজন তাকিয়ে দেখছিল । আমি তাকে শান্ত হয়ে বসতে বললাম । ও বসল । এরপর যা শুনলাম তা হল... ওর লাভারের সাথে ওর ব্রেক আপ হয়েছে। আমি যতদূর পারি সান্ত্বনা দিলাম । এরপর থেকেই আমি ওকে সময় দিতাম, একসাথে দুজন ঘুরতাম ।ওর সাথে পরিচয়ের কিছুদিন পরেই ছিল দুর্গা পুজা । আমরা দুজন মিলে পুরো ঢাকা ঘুরে পুজা দেখলাম । একটা সময় বুঝতে পারছিলাম যে ও আমার প্রতি দুর্বল ।
বেশ কিছুদিন পর শাঁখারি বাজার যাই দুজন । একটা কালি মন্দিরে । সেখানে বসে দুজন বসে কালি মূর্তির কাঠামো বানানো দেখছিলাম । ও হথাত আমায় বলল,
-      আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইব, দেবে ?
-      হুম ! বল ।
-      আমি তোমাকে চাই ।
-       কেমন করে চাও ।
-      আমার মা যেভাবে বাবা কে চায় ।
-      তোমার মাথা কি ঠিক আছে ? এটা কি আমাদের সমাজ মানবে ?
-      আমরা লুকিয়ে বিয়ে করব । কিন্তু সব আচার অনুষ্ঠান মেনে ।

আমি মোহগ্রস্থের মত সব মেনে নিলাম।আমরা ঠিক করলাম বিয়ে করব । শাঁখারি বাজার থেকে শঙ্খের আংটি কিনলাম । যেহেতু সে ছেলে, শাঁখা পড়তে পারবে না তাই এই ব্যবস্থা । গলায় পড়ার জন্য মঙ্গল সুত্রের পরিবর্তে একটা ওম লেখা লকেট কিনলাম । তারপর একদিন লগ্ন দেখে আমাদের কুল মন্দিরের সামনে দেবতাকে সাক্ষী রেখে ওর কপালে আঙ্গুলের রক্ত দিয়ে সিদুর পরিয়ে দিলাম । ও আমায় প্রনাম করল । এবার ওর বাসায় ও আমার বন্ধুদের দাওয়াত করল । অনেকটা বরযাত্রীর মত । দিনগুলো সুখেই যাচ্ছিল । স্বপ্নের মত । আমাদের মাঝে শারীরিক কোন সম্পর্ক তখনও হয় নি । দুজনের মাঝে শুধু ভালোবাসা আর আবেগ । দুজন ক্লাস করে সারা ঢাকা শহর টই টই করে ঘুরে বেরাতাম । কখনও ফুচকা, কখনও বার্গার, কখনও সিনেমা । বেশ চলছিল । বিয়ের পর প্রথম যেদিন ওর বাসায় গেলাম নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছিল । নিজেকে সত্যি জামাই জামাই লাগছিলো ।অমি ওর বাবা, মা ছোটো ভাই আর কাকার কাছে বলল, আমি তার খুব ভালো বন্ধু ।ওর মা আমায় নিজের ছেলের মত আদর করতেন । এখনও ভুলতে পারি না মাসিমার মুখটা । মাসিমা সাজতে খুব ভালবাসতেন । কপালে বড় সিঁদুরের টিপ পরতেন । ওর ছোটো ভাইটা আমার খুব পাগল ছিল । মনে হতো ও বোধয় আমারই ছোটো ভাই । ভালই যাচ্ছিল সব । আমার সব কিছু সে পছন্দ করে দিতো । আমার জন্য এটা কিনত ওটা কিনত। ওর সব জিনিসও আমার কিনে দিতে হতো । আমার তখন খুব কষ্ট হতো । কারণ তখন আমি ছাত্র ছিলাম। টাকা ছিল না এখন কার মত । তারপরেও চেষ্টা করতাম  ওর প্রয়োজন মেটানোর । কেননা ধর্মমতে আমরা জামাই বউ ।

বিয়ের কয়েকমাস পেরিয়ে গেল । কিন্তু আমাদের মাঝে তখনও বাসর হয় নি । একদিন আমার বাসায় কেও ছিল না । আমি ওকে আমার বাসায় আসতে বললাম । ও আসার আগেই ওর জন্য ফুচকা এনে রাখলাম । ও খুব পছন্দ করত তাই । ও এসে ফুচকা দেখে খুশিতে আত্মহারা । দুজন মিলে গল্প করছিলাম । হথাত ও আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে লাগলো । আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না । ওর সারা গায়ে আমার আদর দিলাম । ওকে কোলে করে আমার বিছানায় শুইয়ে দিলাম । ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমি চুমু খাই নি । ও বারবার চিৎকার করে আমায় জড়িয়ে ধরছিল আনন্দে । আমিও একটা নতুন সুখ পাচ্ছিলাম । ভালোবাসার মানুষকে শরীর দিয়ে পাওয়ার মত পূর্ণতা আর নেই । সব কিছু শেষে আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি সুখি ? ও অনেক রেগে গেল । আমি ক্ষমা চাইলাম । ও হাসল ।

Sunday, 23 February 2014

অন্তহীন প্রতীক্ষা

• ০১ 
ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১১

ব্যাংকের চাকরি যারা করে, তাদেরকে মানুষ না বলে কলুর বলদ বলাটাই বোধহয় যুক্তিসঙ্গত। অন্তত আমার তাই মনে হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় ব্যাংকে ঢোকো, আর বের হও সেই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। তাও ভালো ইন্টার্নশিপ! তিন মাস পরেই রক্ষা পাবো এই যন্ত্রণা থেকে। ম্যানেজার হারামজাদাটাকে দুইদিন ধরে বলে আসছি যে আজকে আমার একটু ভার্সিটি যেতে হবে একটা কাজে। সামনের মাসে কনভোকেশন। ফর্ম ফিলআপ, টাকা জমা দেয়া, অনেক কাজ বাকি। কিন্তু আজ বের হওয়ার আগেই আমার সামনে এক পাহাড় উঁচু কতোগুলো ফাইল দিয়ে হারামিটা বলল, 
- দেখো তো রাদিয়ান, নতুন খোলা একাউণ্টগুলার পোস্টিং ঠিক মতো আছে কিনা!
- কিন্তু স্যার, আমি তো আপনাকে বলেছিলাম আজ একটু ভার্সিটি যাবো। কনভোকেশনের কাজ করতে।
- তাহলে ভার্সিটিতেই ইন্টার্নশিপ করতা! এখানে আসছো কেন? যত্তসব ফাঁকিবাজ।
এই মইনুল, সামনের মাস থেকে আর কাউরে ইন্টার্নশিপ করার চান্স দিবা না। সব কয়টা ফাঁকিবাজ। কাজ তো কিছু পারেই না। শিখার ইচ্ছাটাও নাই।
এমনিতেই রাতে আব্বার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তার উপর আজকে আবার এই হারামজাদার গাল শুনতে হলো। রাগে দুঃখে চোখে পানি এসে গেল। অনেক কষ্টে সামলালাম! 

অফিস থেকে বের হয়ে মেজাজটা সপ্তমে চড়লো। একটা সি এন জি ও যেতে চায় না বসুন্ধরার দিকে। চাইলেও ভাড়া চায় ৪০০ টাকা। রাগে নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছে। শেষে ৩৫০ টাকায় রাজি হলো এক মামা। বলল, “আসেন, নিয়া যাই, বিপদে পড়ছেন যখন!” অনেক বড় একটা দয়া করলো যেন আমার উপর। 
নর্থসাউথের সামনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে একটা বেজে গেল। লাঞ্চ আওয়ার শুরু। মেজাজটা আরো চড়ে গেল। অফিস খুলবে আবার সেই ২ টা বাজে। এক ঘণ্টা এখন বসে বসে ভেরেন্ডা ভাজো! ভার্সিটি ঢুকে দেখি কি একটা এক্সিবিশন হচ্ছে আর্কিটেক্টদের। মনটা একটু শান্ত হলো। আর্কিটেকচারের উপর আমার আগ্রহ অনেক দিনের। দেশি আর্কিটেক্টদের সাথে কিছু বিদেশি আর্কিটেক্টও এসেছে এক্সিবিশনে। হঠাত একজনকে দেখে চোখ আটকে গেল। ৬ ফিট লম্বা, বা তার চেয়ে ২/১ ইঞ্চি বেশি হবে! ব্লন্ড আমেরিকানরা যেমন হয় আর কি! চোখ আর চুলগুলো বাদামি। নজর সরাতে পারছিলাম না লোকটার থেকে। এগিয়ে গেলাম। কাছে যেতেই লোকটা মিষ্টি একটা হাসি উপহার দিলো। বলল,
- Hello! 
- Hi… Is it your work?
- Yah! Are you a student of Architecture in this Uni?
- O no! I wish, I could be. I had a strong desire for studying architecture, but I didn’t get chance. I have completed my graduation on business administration.You know, B.B.A? 
- Yah, I know. 
- But still I have fascination for architectural structures.
- Oh really? That sounds good!
- Why don’t you describe me your model?
- Sure, why not!

লোকটা একের পর এক বুঝাতে লাগলো কিভাবে সে environment friendly বাড়ি বানিয়েছে। হু, হা করলাম, যেন অনেক কিছু বুঝছি। আসলে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে লাগলাম ও কি বলে। কথার মাঝে কি সুন্দর নিষ্পাপ একটা হাসি দেয় না! আমি পুরোই হা করে শুনতে লাগলাম ওর কথা। শেষে জানতে চাইলো, 
- You like it?
- Yah! Of course! When I will have lots of money, I will build my house on your model, be sure.
- Ha ha ha! Yah! It’s a bit costly.
- Hey, why don’t you come with me to have a look of our campus?
- Why not? Let’s go.
- Your model?
- Forget that! It’s too costly to be realized. No one is interested. 
- Ha ha ha! Let’s go.

নর্থসাউথের ক্যাম্পাসটা ভালই বড়! কিন্তু কেন যেন খুব ছোট মনে হলো আমার কাছে, আধ ঘন্টায়ই পুরো ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখানো শেষ হয়ে গেলো। Josh’ র সাথে হাঁটতে, কথা বলতে এতো যে ভালো লাগছিল বলে বুঝাতে পারবো না। জানলাম ওর নাম Peter Joshua Anderson. Josh বলেই ডাকে সবাই। খুব ইচ্ছা করছিলো ফোন নাম্বারটা চাইতে, কিন্তু চক্ষুলজ্জার ভয়ে আর চাইলাম না। ইমেইল এড্রেস আদান প্রদান হলো আমাদের মাঝে। আমি তাতেই খুশি।

সেই আমার Josh’ র সাথে প্রথম আর শেষ দেখা। প্রথম দেখাতে তো কতজনকেই ভালো লাগে, আর Josh থাকেও কোস্টারিকায়। তাই আর যোগাযোগ হবে না ভেবে আস্তে আস্তে ওকে মন থেকে মুছে ফেলতে চাইলাম। ভাবলাম Josh চ্যাপ্টারটা এখানেই শেষ আমার জীবনে।

কিন্তু না। অবাক হলাম যখন দেখি তিনদিন পর Josh’র একটা মেইল এলো। আমি ও রিপ্লাই দিলাম। এভাবেই কথা চলতে থাকলো আমাদের মাঝে। সবকিছু শেয়ার করতাম আমরা। আমি কি করলাম সারাদিন, ও কি করলো, আমার অফিসের ম্যানেজার হারামজাদাটার বদনাম, ওর কুকুর দুটো সেদিন খায়নি বলে তার মন খারাপ, এগুলোই ছিল আমাদের মেইল চ্যাটের টপিক। কয়েকদিন পর বুঝতে পারলাম সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে প্রথম কাজটিই আমার হয়ে দাঁড়িয়েছে মেইল চেক করা, Josh’ র মেইল এলো কিনা! ও কোনদিন মেইল দিতে ভুলতো না, আর আমিও ভুলতাম না রিপ্লাই দিতে। একদিন সন্ধ্যায় দেখি Josh আমার রিপ্লাই পাওয়ার সাথে সাথেই একটা মেইল করলো। “Do you have cam? Can I see you? Can we chat in yahoo messenger?” আমি অবাক আর খুশি একসাথে হলাম যেন। এ তো দেখি মেঘ না চাইতেই জল! ব্যাস সেই থেকে শুরু আমাদের কথোপকথনের নতুন অধ্যায়। একজন আরেকজনকে দেখে দেখে কথা বলা। মনে হতো যেন Josh আমার সামনেই বসে আছে।

প্রায় প্রতিদিনই Josh আমাকে দেখতে চাইতো। একদিন আমি জিজ্ঞেস করেই বসলাম, “why do you want to see me daily?” যে উত্তরটা পেলাম তা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। “I just want to make sure that you are real, not my imagination” Josh খুব সহজ কথায় আমাকে বুঝিয়ে দিল তার পছন্দের কথা। সেদিনই বলে বসলো, “can we be boyfriends?” আমি হথাত করেই হকচকিয়ে গেলাম। কি বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। শুধু বললাম, “how can that be possible? You live far away from me.” Josh শুধু বলল, “Ya! it can be difficult, but not impossible. If both of us want, it is possible.” আমি তখনি কিছু বললাম না। সময় নিলাম। ঠিক করলাম আমরা আমাদের যোগাযোগ চালিয়ে যাবো, প্রতিদিন চ্যাট করবো, যাতে করে একজন আরেকজনকে ভালো ভাবে জানতে পারি। 

আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম Josh আমার ব্যাপারে কতোটা সিরিয়াস, আর কতোটা বিশ্বস্ত সে। আমি Josh’ র প্রতি দূর্বল হতে শুরু করি। এর মধ্যে একদিন Josh ক্যাম্পিং এ গেলো ৩ দিনের জন্য। যেখানে গেলো, সেখানে আবার নেট কানেকশন পাওয়া যায় না। তিনটা দিন যেন তিন মাসের মতো দীর্ঘ মনে হলো আমার কাছে। আমি বুঝে গেলাম Joshকে ছাড়া আমার চলবে না। 
তিনদিন পর Josh আবার অনলাইনে এলো, আমি যেন প্রাণ ফিরে ফেলাম দেহে। কাল বিলম্ব না করে হুট করে বলে ফেল্লাম,
- “I Love You!”
- “Really! Are you sure? What makes you decide it suddenly?” Josh কিছুটা অবাক হয়েই জানতে চাইলো। 
- “In these three days I missed you soooo much that I can’t explain!” একদমে বলে ফেললাম।
- “Really?”
- “Yes”
- “ I Love You too my luv!” 

সেই থেকে আজ অব্দি Josh আমাকে “My Luv” বলেই ডাকে। আর আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্নের জাল বুনতে থাকি এক ভিনদেশি মানুষের জন্য। প্রতিদিন আমাদের দুইবার চ্যাট হয়। বাংলাদেশি সময় সকাল ৬ টায়ঃ যখন আমি ঘুম থেকে উঠি আর ও অফিস থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরে, আর সন্ধ্যা ৬ টায়ঃ যখন আমি অফিস থেকে ফিরি আর ও কোস্টারিকায় ঘুম থেকে ওঠে। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের প্রতিদিনকার কথোপকথন। 

• ০২

Josh আমার জীবনে প্রথম ভালোবাসা নয়। সত্যি বলতে কি, কৈশরের প্রথম ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার মতো যোগ্যতা সৃষ্টিকর্তা কাউকে দেন না। আমাকেও দেননি। শুরুটা আদনানের পক্ষ থেকেই ছিল। স্কুলে আমাদের দু’জনেকে সবাই চিনতো। কিন্তু দু’জনকে দু’ভাবে। আমাকে ক্লাসের সেরা ছাত্র হিসেবে, আদনানকে সেরা বাউন্ডুলে হিসেবে। আমার মতো শান্তশিষ্ট ছেলেটাকে খুঁচিয়েই আদনান আনন্দ পেতো বেশি। এই এসে আমার গাল টিপে দিচ্ছে, না হয় পেটে চিমটি কেটে দিচ্ছে। একদিন তো আমার মেজাজটাই গরম করে দিল, রীতিমত ক্লাসে সবার সামনে কিস করে বসলো। আমি তো রেগেমেগে ফায়ার রীতিমত। কিন্তু কিস করেই দে ছুট। আর ক্লাস করলো না। এরপর একমাস ধরে আদনানের পাত্তা নেই। আমি মনে মনে একবার খুশি হচ্ছিলাম যে যাক, কেউ জ্বালাতে আসছে না, কিন্তু পরক্ষনেই মনে হচ্ছিল, কেন কেউ জ্বালাচ্ছে না? কেন এলো না আদনান ক্লাসে? 

এক মাস পর আদনান যখন এলো, জানতে চাইলাম কি ঘটনা, কেন আসেনি এই এক মাস। বলল, ওর বাবার ইলেকশানের জন্য ক্যানভাসিং করতে হয়েছে। আমি ওর খবর নিচ্ছি দেখে খুব খুশি হল আদনান। আর বিরক্ত করলো না সেদিন থেকে। খুব ভাল ব্যবহার করলো। কেন যেন সেদিন মনে হলো আদনান আমার খুব ভালো একটা বন্ধু হতে পারে। সেই থেকে শুরু। ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম আমরা দুজন। বাবা চেয়ারম্যান থাকায় ক্লাস টেনে থাকতেই আদনানের কাছে মোবাইল ছিল। নাম্বার নিলাম। আমার যেহেতু মোবাইল ছিল না, বাসার মোবাইল থেকে ওকে কল দিতাম। আদনানও কল দিত মাঝে মাঝে। কথা শেষ করার আগে একদিন আদনান বলল, “আই লাভ ইউ”, ফাজলামি করেই। আমিও বললাম। বলেই দুজনের সে কি হাসি... এরপর ফোনে কথা বললেই আমাদের “আই লাভ ইউ” এর আদান প্রদান চলতো। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব চলতে থাকলো। আদনান ডানপিটে থাকায় ছাত্র হিসেবে খুব খারাপ ছিল। তাই আমি ওকে প্রায়ই ম্যাথ আর ফিজিক্স বুঝিয়ে দিতাম। আমার বাসায় আসতো পড়া বুঝতে, আম্মুও ওকে প্রচন্ড আদর করতো। 

দেখতে দেখতে এস এস সি পরীক্ষা এলো, শেষও হলো। তারপর এলো রেজাল্টের দিন। রেজাল্ট দেখতে গেলাম। ভাবলাম স্কুলে গিয়েই আদনানের সাথে দেখা হবে। হলো না। রেজাল্ট দেখতে গিয়েই দেখি সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। আমি সেই দুই ছাত্রের একজন যারা পুরো স্কুল থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। খুশিতে আটখানা হয়ে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলাম আদনানকে দেখেছে কিনা। যা শুনলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আদনান সেই দুজনের মধ্যে একজন যারা ফেল করেছে। কেন জানি চোখ দিয়ে দু’ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো। আদনানের মোবাইলে কল দিলাম, বন্ধ। অনেকবার চেষ্টা করেও পেলাম না আদনানকে। আমি ওর বাসাও চিনতাম না যে যেয়ে ওর একটা খবর নিয়ে আসবো। প্রতিদিন ওর মোবাইলে কল দেই, পাই না। কয়েকদিন পর মোবাইল খোলা পেলাম। কল দিলাম, কেটে দিল। প্রচন্ড রাগ হলো আমার। আর কল দিলাম না আদনানকে।
এর দুই মাস পর একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলো বাসার ফোনে, আমার ফোন। আম্মুর থেকে ফোনটা নিয়ে হ্যালো বলতেই শুনতে পেলাম আদনানের কন্ঠস্বর। বললাম, “তোর সাথে আমার কোন কথা নেই। তুই আর আমাকে ফোন করবি না” আদনান বুঝলো আমি প্রচন্ড রেগে আছি, তাই আর কল দিল না এরপর থেকে। 

আমিও হারিয়ে ফেললাম আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধুটিকে। কলেজে উঠেও তেমন কারো সাথে বন্ধুত্ব হলো না। খুব মিস করতাম আদনানকে। এটা যে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু ছিল তা টের পেলাম আরো পরে।
কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চলে এলাম ঢাকায়, ভর্তি হলাম নর্থ সাউথে। একদিন হঠাত একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলো। ততোদিনে অবশ্য আমার নিজের মোবাইল হয়েছে! ফোন ধরতেই শুনলাম সেই ভারী কন্ঠস্বর,
- হ্যালো রাদিয়ান, চিনতে পেরেছিস? আমি আদনান।
- আদনান? তুই? কই পেলি আমার নাম্বার? কেমন আছিস? কই তুই এখন?
- আমি নাম্বার বদলালেও তুই যে নাম্বার বদলানোর মানুষ না সেটা আমি খুব ভালো করেই জানতাম। তোর বাসার সেই নাম্বারটায় কল দিয়ে আন্টির থেকে তোর নাম্বারটা পেলাম। শুনলাম তুই নাকি ঢাকায় এসেছিস?
- এসেছি মানে? তুইও কি ঢাকায় নাকি?
- হুম। টোফেল করছি। বাইরে যাবো। আয় একদিন দেখা করি।
- ঠিক আছে, বল। কবে দেখা করবি?
- পরশুদিন

এভাবেই আবার গড়ে উঠতে লাগলো আমাদের ভেঙ্গে যাওয়া বন্ধুত্ব। প্রায়ই এক সাথে আড্ডা দিতাম, ঘুরতে যেতাম। স্মৃতিচারণ করতাম স্কুলের সেইসব দিনগুলির। একদিন ধানমন্ডি লেকে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমি গল্পচ্ছলে জিজ্ঞেস করে বসলাম,
- আচ্ছা, তোর মনে আছে? আমরা যে ফোনে কথা বলতাম স্কুলে থাকতে? 
- হুম খুব মনে আছে।
- তুই আমাকে আই লাভ ইউ বলতি, মনে পড়ে?
- এহ্‌! খালি আমিই বলতাম, তুই মনে হয় বলতি না?
- হা হা হা! সেসব কথা মনে পড়লে আজো হাসি পায়।
- আসলেই।
- আচ্ছা, সত্যি করে একটা কথা বলবি?
- কি?
- আমাকে কি তুই ভালবেসে আই লাভ ইউ বলতি? নাকি দুষ্টামি করে?
- আজব! ভালবেসে বলতে যাবো কোন দুঃখে? ছেলে ছেলেতে ভালোবাসা হয় নাকি?
- তাই তো! আমিও যে কি সব বলছি!

সেই থেকে বুঝে গেলাম আমি যেটাকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করে এসেছি এতোটা কাল, সেটা আসলে নিছক বন্ধুত্বের ছলে ফাজলামি ছিল আদনানের।
আস্তে আস্তে মন থেকে মুছে ফেললাম আদনানকে। তারপরই আমার জীবনে এলো Josh. এক রাশ ভালবাসায় সিক্ত করে তুলল আমার সমপ্রেমী জীবন।

• ০৩ 
ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১৪

আজ Josh আর আমার সম্পর্কের তিন বছর পুর্তি। ভালবাসা দিবসটা তাই আমার কাছে ১৪ই নয়, ১৫ই ফেব্রুয়ারী। এইদিনই প্রথম আর শেষবারের মত দেখেছি আমার মনের মানুষটাকে। Josh’র সেই এক কথা, “If you think it’s being difficult to carry on this relationship, just move on!” কিন্তু পারি কই? ওর এত্ত এত্ত ভালবাসা উপেক্ষা করার শক্তি তো আমার নেই। ঐ একটা ভিনদেশি মানুষ যদি আমাকে ভালবেসে এতোটা কাল একা থাকতে পারে, আমি কেন পারবো না? 

আমার জীবনের কাহিনীটা অনেকটাই অপর্না সেনের “জাপানিজ ওয়াইফ” সিনেমাটার মতো। আমি স্নেহময়, আর Josh যেন আমার মিয়াগি। স্নেহময়ের মতো আমার জীবনেও বিধবা চরিত্র “সন্ধ্যা” এসেছে, একবার নয়, অনেকবার। হাতছানি দিয়েছে কামের। কিন্তু স্নেহময়ের অদেখা আর অধরা স্ত্রী মিয়াগির মতো আমারো যে Josh আছে,যে কিনা অদেখা না হলেও এখনো অধরাই রয়ে গেছে আমার কাছে। একদিন হয়তো Josh আসবে এদেশে! নয়তো আমিই যাবো তার কাছে! অথবা আমরা দুজনেই দুজনের দেশ ছেড়ে এক সময় পাড়ি জমাবো নতুন কোন দেশের সন্ধানে! তাই মিলনের এক সম্ভাব্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি আমার অন্তহীন প্রতীক্ষা। 
 
^ মাথায় ওঠ