blogger widgets
আমাদের ব্লগে গে ম্যুভি -এর লেখা সকল পোস্ট।
Showing posts with label গে ম্যুভি. Show all posts

Monday, 3 March 2014

লেটার ডেস

যেনে নাও যখন আমি এই মুভির রিভিউ লিখছি তখন আমার দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা বইছে। আমি জানিনা এই মুভি সম্বন্ধে আমি কি লিখবো, কি লিখার আছে জীবনের নির্মম কাহীনি নিয়ে। আমরা সবাইতো জানি জীবন কতটা নির্মম, সামাজিক প্রথার বেড়াজালে। ভালোবাসা আসলেই অনেক সুন্দর একটা জিনিস।

যারা ভালোবাসাকে অবহেলা করছে বা বিভিন্ন মাপকাঠিতে মাপছে, এই মুভিটা শুধু তাদের জন্য। তাদেরকে জানানোর জন্য, যে তারা জীবন থেকে কি হারাচ্ছে? তারা জীবনের কাছ থেকে কি চায়? তারা কি সত্যি সত্যি একজন মানুষের কাছ থেকে, রূপ, যৌবন আর অর্থের বাইরে শুধুই ভালোবাসাকে চায় নাকি নিজের মনের গভীরে ভালোবাসা নামক শব্দের আড়ালে খোঁজে সৌন্দর্যের পাহাড়? 

আমি দেখেছি, সবাই তাই। কেউ যখন মুখে বলে ভালোবাসি তখন সে প্রথমেই খুঁজে সে দেখতে কেমন, তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন, অর্থ আর প্রাচুর্য কেমন। তারপর সিদ্ধান্ত নেয় ইয়েস অর নো বলার। আমি এই পেইজের এডমিন হওয়ার বদৌলতে দেখেছি সত্যিকারের ভালোবাসা কিভাবে পদদলিত হয়। লিখে নাও আজকে সবাইকে একটা কথা বলি জীবন এবং মানবতার অভিজ্ঞতা থেকে। 

যারা কারো সত্যিকারের ভালোবাসাকে কাঁদিয়েছে, প্রকাশের সুযোগ দেয়নি, বিশ্বাস করেনি, ভালোবাসার আড়ালে শুধু লালন করেছে লালশাকে, তারা ঈশ্বরের কাছে তো ক্ষমা পাবেইনা, সুখি হবেনা পৃথিবীতেও। তুমি ভালোবাসা খুঁজছো? তাহলে যাকে ভালোলাগে তাকে জানাও তোমার ভালোবাসার কথা। ভয় পেওনা, সে মানা করে দিবে, দিকনা। দেখবে যে তোমাকে আজকে অবহেলা করেছে শুধু তোমার লুকস, অর্থ আর যৌবনের জন্য সে একদিন তার এই ভুলের জন্য অন্ধকারে একা একা কাঁদবে। 

এই কান্না শেয়ার করার জন্য সে তখন কোনো স্বন্তনা বা কারো কাঁধও পাবেনা। এটা শুধু কথার কথা না পরীক্ষীত সত্য।

যাই হোক এবার আসি মুভির কাহিনীর ব্যাপারে। যেই মুভি আমাকে পুরো ৫৫মিনিট অঝরে কাঁদিয়েছে।সেই মুভিকে নিজের ভাষায় লিখছি- 

ক্রিস্টিয়ান একজন সমকামী। একটি রেস্টুরেন্টে জব করে। রেস্টুরেন্টের কলিগদের সাথে তার অনেক সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। প্রতিদিন রাতে একজন নতুন দেহ সঙ্গী তার যৌন চাহিদার সাক্ষী। ভালোবাসা নামক স্বর্গীয় বস্তুর অভাব বা তার স্বাদ কোনটাই ক্রিস্টিয়ান কখনো পায়নি। ভালোবাসা তার কাছে দুটি দেহের ৫/১০ মিনিটের ঘর্মাক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কিছু শুভ্রলাভা উদগিরনই। 

এমনি সময়ে তার পাশের বাসায় চার মিশনারী বন্ধু শিফট করে, যারা ধর্ম প্রচারের কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। এদের মধ্যেই এ্যারন বেশ সুন্দর এবং ভদ্র। ক্রিস্টিয়ান এ্যারন কে দেখে তার প্রতি চরম আকর্ষণ অনুভব করে এবং তাদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এক কেইস ড্রিংকস নিয়ে উপস্থিত হয়। গিয়ে জানতে পারে তারা কেউই ড্রিংকস করে না। খুব অপমানিত হয়ে ফিরে আসে সে।

অপরদিকে এ্যারন ও ক্রিস্টিয়ান এর প্রতি একটা অদ্ভুত আকর্ষণ ফিল করে। যদিও প্রতিদিন রাতে জানালার ফাক দিয়ে সে দেখে যে ক্রিস্টিয়ান নতুন নতুন পুরুষ নিয়ে আসছে নিজের যৌন চাহিদা চরিতার্থ করার জন্য। তারপরও কেন যেন তাকে ভালোলাগে তার। ধীরে ধীরে দুজন দুজনের সাথে কথাবার্তা বলতে বলতে একটা পর্যায়ে খুব কাছে চলে আসে। একটা দূর্বল মুহুর্তে যখন এ্যারন ক্রিস্টিয়ান এর খুব কাছে চলে যায় তখন এ্যারন ক্রিস্টিয়ান কে বলে যে সে এর আগে কারও সাথে এমন কিছু করেনি। 

ক্রিস্টিয়ান বলে কোন সমস্যা নাই এটা ঠিক হয়ে যাবে। ক্রিস্টিয়ান দুজন মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে শুধু সেক্স দিয়ে বিচার করে এটা দেখে এ্যারন প্রচুর রিয়েক্ট করে। সে প্রচুর অপমানিত বোধ করে এবং ক্রিস্টিয়ানকে কে তার জীবনবোধ সম্পর্কে আয়না দেখায়। তার জীবনের শুধু সেক্সটাই প্রধান, ভালোবাসার কোন অনুভূতিই তার কাছে নাই। এমন মানুষের সাথে তার এই দুর্বল মুহুর্ত পর্যন্ত আসাই ভূল হয়েছে জানিয়ে এ্যারন সেই মুহুর্তেই ক্রিস্টিয়ানের রূম থেকে বের হয়ে যায়।

এরপর থেকে ক্রিস্টিয়ান বার বার ভালোবাসা সম্বন্ধে বুঝতে শিখেছে। আরও দূর্বল হয়েছে এ্যারন এর প্রতি। একদিন আবারও একটি দুর্বল মুহুর্তে দুজন দুজনকে প্রথমবারের মত কিস করে বসে যা মিশনারী বাকি ৩বন্ধু দেখে ফেলে। দেখে ফেলার পর তারা চার্চে ইনফর্ম করে এবং এ্যারন কে তার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ক্রিস্টিয়ান নিজে নিজে খুব অনুশোচনায় ভোগে এই ভেবে যে তার জন্য এ্যারন এর ক্যারিয়ার এবং প্রেস্টিজ দুটোই ধ্বংস হয়ে গেল। 

সে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এয়ারপোর্টে গিয়ে এ্যারন এর সাথে দেখা করে যেখানে ফ্লাইট øো ফলের কারনে ৫/৭ ঘন্টা লেট ছিলো। ক্রিস্টিয়ান বোঝাতে সক্ষম হয় যে সে এ্যারন কে কত ভালোবাসে। সেদিন এয়ারপোর্ট ইন এর তাদের শরীর প্রথমবারের মত বিবস্ত্র হয়। প্রথমবারের মত এ্যারন একটা পুরুষ শরীরের এতটা কাছে আসে। এ্যারন ভ্রমন করে না জানা এক অভিজ্ঞতার নতুন পৃথিবী। ভোরে এ্যারন তার ফ্লাইট নিয়ে নিজ বাড়ি চলে আসে যেখানে তার জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছিলো। 

তার বাবা মিশনারী প্রধান হওয়াতে সে খুবই লজ্জিত বোধ করে এমন ছেলের জনক হওয়াতে। সে তাকে মিশনারী এবং চার্চ থেকে ডিজওন করে। বাসায় এ্যারন প্রতিনিয়ত তার পরিবারের সদস্যদের কাছে অবহেলিত এবং অপমানিত হতে থাকে। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ান অনেক কষ্টে এ্যারন এর বাসার ফোন নাম্বার জোগাড় করে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। একটা সময় তাকে জানানো হয় যে এ্যারন মারা গেছে। কিন্তু এই মারা যাওয়ার ঘটনা যে পুরোটাই মিথ্যা তা ক্রিস্টিয়ান বুঝতে পারেনা। জীবনে প্রথম সাজানো তার ভালোবাসার ঘর মুহুর্তেই তছনছ হয়ে যায়। পরিবারের এই অপমানের গ্লানি এ্যারন নিতে না পেরে নিজেকে সংশোধনের জন্য কারেকশান হোমের বাসিন্দা করে। যেখানে শাস্তি হিসেবে প্রতিদিন তাকে ছোট্ট একটা টুথব্রাশ দিয়ে পুরো বিল্ডিংয়ের ফ্লোর পরিস্কার করতে হয়, নিজের পুরুষাঙ্গে ইলেক্ট্রিক শক নিতে হয়, বরফ ভর্তি বাথটাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবে থাকতে হয় আরও অমানুষিক অনেক কিছু।

এত কিছুর পরও কি এ্যারন পারবে সমাজের তথাকথিত সংশোধনী প্রকৃয়ায় সংশোধীত হয়ে সবাইকে গর্বিত করতে? পারবে কি তার জীবনের প্রথম ভালোবাসার মানুষটিকে ভূলে যেতে? ক্রিস্টিয়ান পারবে কি এর পর কাউকে নিজের দেহ সঙ্গী করতে, নাকি সারা জীবন কাটিয়ে দিবে অপূর্ণ ভালোবাসার স্মৃতি মন্থন করতে করতে? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব পেতে চলুন দেখে ফেলি দ্যা মোস্ট রোমান্টিক ফিল্ম অফ মাই লাইফ “লেটার ডেস” । 

মুভিটি পরিচালনা করেছেন- সি.জে কক্স
প্রধান চরিত্রে আছেন- স্টিভ সেন্ডভস এবং ওয়েস রেমসি
মুভিটির ভাষা- ইংলিশ
মুভিটির দৈর্ঘ্য- ১০৭ মিনিট
মুক্তির সাল- ২০০৩
আই.এম.ডি.বি রেটিং- ৭.৩

Thursday, 27 February 2014

লস্ট ইন প্যারাডাইসহট বয় নই লোয়ান

অদ্ভূত নামের কিছু সাধারন চরিত্রের মাধ্যমে পরিচালক নাগক ডাং ভূআমাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন আমাদের জীবনবোধ, বোঝাতে চেষ্টা করেছেন সমকামি জীবনের অপ্রিয় সত্য। ভিয়েতনামের এই পরিচালক তার নিজ দেশের প্রেক্ষাপটে সমকামীদের জীবনের যেই চিত্র তুলে ধরেছেন তা সারা বিশ্বে একই রকম। আমি ভিয়েতনামিজ ভাষা বুঝেন না, তাতে কি সাবটাইটেল তো আছেই। মুভিটিতে প্রতিটা চরিত্রের অভিনয় এত শক্তিশালী যে একটি বারের জন্যও আমার সাবটাইটেলের দিকে তাকাতে হবে নাভিনদেশী ভাষায় নির্মিত এই মুভিটি মনের সাথে সাথে আত্মাকে ছুঁয়ে যাবে।

গল্প সংক্ষেপঃ
নিজের সমকামীতার কথা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবার কর্তৃক বিতাড়িত এক যুবকের থাইল্যান্ড শহরের নিজের অস্তিত্ব খোঁজার গল্প হচ্ছে এই মুভির প্রধান কাহিনীকে
শহরের মানুষের তার সাথে ধোকাবাজি আর ভালোবাসার মানুষের ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত সবকিছু কিভাবে এক সমকামী যুবকের ভাগ্য নির্ধারন করে তাই অভিনব কৌশলের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
খই
 
আমি খই। এই মুভির প্রধান চরিত্র। আমাকে ঘিরেই সিনেমাটির সমস্ত কাহীনি আবর্তিত। নিজ গ্রামে সমকামী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় পরিবার এবং সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভাগ্য অন্বেষনে চলে আসি শহরে। থাকার একটি যায়গার জন্য হন্যে হয়ে যখন ক্লান্ত তখন ডং আমাকে তার সাথে ফ্ল্যাট শেয়ার করার প্রস্তাব দেয়। শহরে এসেই এমন বন্ধ্ত্ব আমি কখনই আশা করিনি। নিজের ভিতর এত ভালো লাগে যে এক প্রস্তাবেই রাজি হয়ে যাই। আমি জানতাম না এই বন্ধুত্বের পিছনে কতবড় প্রতরনা লুকিয়ে ছিলো। আমি যখন নিজের অংশের ফ্ল্যাট ভাড়ার টাকা চুকিয়ে তাদের প্ল্যান মত বাথরুমে গোসল করতে যাই তখন ডং আর তার প্রেমিককে আমার সব জিনিসপত্র দিয়ে প্রথমে ঘর থেকে বের করে দেয় আর তার পর খুব কৌশলে বাথরুমে ঢুকে আমার কাপড় চোপড় নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরনে কোন বস্ত্র না থাকায় আমি তাদের পিছনে যেতে পারিনা। শহরে এসে এই প্রতারনায় নিজের মন ভেঙ্গে চুরচুর হয়ে যায়। মানুষ এতবড় প্রতারক এবং অমানুষ হতে পারে আমার জানা ছিলোনা। পরনে কাপড় নাই, থাকার যায়গা নাই, পেটে খাবার নাই, এমতাবস্থায় কি করবো কিছুই মাথায় আসছিলোনা। লেগে গেলাম দিন মজুরীতে। সামান্য মজুরীতে নিজের পেট ভরাব মত কিছু টাকা জোগাড় করেই দিন পার করছি এখন। আপাতত এখানে আমার কথা বিরতি দিয়ে চলুন শুনি আমারি মত প্রতারিত লেমএর কথা...
 

লেম
আমিও খই এর মত প্রথম যেদিন এই শহরে আমি তখন খুব অসহায় ছিলাম। নিজে সমকামী ছিলাম তাই আরেকজন সমকামীকে চিনে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি। যেই সমকামীর সাথে আমি নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিলাম সেই যে আমাকে তার লালসা আর ব্যবসার উপকরণ বানাচ্ছে তা বুঝতে পারি অনেক পরে। আর সব সমকামীর মত আমিও সরল বিশ্বাসে আমার সকবিছু দিয়ে ভালোবেসেছিলাম ডং কে। আর ডং আমার সাথে শুধু ভালোবাসার অভিনয় করেছে। তার ভালোবাসার জন্য হেন কোন কাজ নেই যা আমি করিনি। নিজে একজন ভালোবাসার মানুষ থেকে খুব সহজেই বেশ্যা হয়েছি। সাধারন মানুষকে পদে পদে ঠকিয়েছি। যার মধ্যে খই ও একজন। আমি ডং কে অনেক ভালোবাসি তাই কখনো ওর শত অত্যাচার এবং অন্যায় কাজকর্ম দেখার পরও ছেড়ে যেতে পারিনি। উপরন্তু সঙ্গ দিয়েছি দিনের পর দিন। কিন্তু খই এর সাথের প্রতারনা আমাকে বদলে দেয়। আমাকে অনেকদিন পর সাহস যোগায় প্রথম প্রেম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে। আমি ডং এর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেও তার কাস্টমার নেটওয়ার্কে মাধ্যমে সে আমাকে খুঁজে কোন না কোনভাবে বের করেই ফেলে। তাই পালাতে গিয়েও তার কাছ থেকে রেহাই হয়না আমার।
 

খই
কাজ করতে করতে ছাদ থেকে পড়ে নিজের এক হাত এবং এক পা জখম করে রাস্তায় বসে যাই আমি। নিজের জীবনের কাঝে যখনই হারতে বসব তখনই লেমকে দেখে নিজের ভিতরের অনেক দিনের জমানো ক্রোধ জমা হয়ে আগ্নেয়গিরি হয়ে বের হয়ে আসে। আহত শেয়ালের মত বাঘের উপর ঝাপিয়ে পড়ি। আমি জানি তার সাথে আমি পেরে উঠবোনা, তাও মনকে কোন ভাবে সামলাতে পারিনি। যাই হোক, লেম তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায় এবং নিজের ভূল শোধরানোর জন্য আমাকে তার সাথে বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে সেবা সুশ্রুষা করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসে
প্রথম দিন থেকেই তার আদর যত আর বিশ্বস্ততায় ভালোবেসে ফেলি তাকে। মন থেকে, প্রাণ থেকেও।

লেম
আমিও তোমাকে ভালোবাসি খই, তবে বলতে পারছিনা কেমন ভালোবাসা এইটা। জীবনে এত প্রতারণা দেখেছি যে ভালোবাসা নামক শব্দটা থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে। প্রতি রাতে নতুন নতুন খদ্দেরের সাথে দেহ বিকিয়ে মানুষর কুৎসিত চেহারা গুলো এমন ভাবেই মনের ভিতর বসে গেছে যে ভালোবাসা কোনভাবেই সেখান থেকে শুভ্র এক আলো নিয়ে কখনই উঠে আসতে পারবেনা। তবে আমি তোমাকে ভালোবাসি।

খই
ভালোবাসার দোহাই দিয়ে আমি লেমকে তার এই দেহ ব্যবসা থেকে ফেরাতে পারিনি। লেম নিজেকে একজন পেশাদার বেশ্যা হিসেবে দাবী করে। তার মতে এটাই তার ভাগ্য। আর সে এটাকে ছাড়তে পারবেনা। সমকামী জীবনের অনেক রূপ সে দেখেছে, সমকামী জীবনে ভালোবাসা মানেই বিনা খরচে কারো কাছে দেহ ভোগ করার মত। তার ভয় সে এই ব্যবসা ছেড়ে কারো সাথে সৎ জীবন যাপন শুরু করলেও তা খুব বেশীদিন স্থায়ী হবেনা। কখনও না কখনও আমি তাকে তার এই অতিত নিয়ে অপমান করব, আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবে এবং অতঃপর তাকে আবারও এই ব্যবসাতেই ফিরে আসতে হবে তাহলে কেনই এই অভিনয় করা। আমি কখনই আমার ভালোবাসা দিয়ে লেমের ভিতর ভালোবাসা নিয়ে যেই ভয় তা ভাঙ্গাতে পারিনি জন্ম দিতে পারিনি এক নতুন আশার। আমার প্রতি তার পূর্ণ ভালোবাসা থাকলেও সে এভাবেই থাকতে চায় আর আমার পক্ষে আমার জীবন সাথীকে আমার সাথে থাকা অবস্থায় অন্য কারো সাথে ভাগ করে গ্রহণ করা কোন ভাবেই সম্ভব না। তাই তাকে ছেড়ে একটা সাধারন চাকরী নিয়ে নিজের ছুটে যাওয়া পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে শহর থেকে শহরে পাড়ি জমাই।

লেম
খই চলে যাওয়াতে জীবন আমার অন্ধকারের চাইতেও অন্ধকার আর নিরাশার চেয়ে বেশী রকম হতাশায় ডুবে যেতে থাকে। এখন আর নিজের দেহ কারো লালসার বলি করতে ইচ্ছে করেনা। করে প্রতারনার সেই খেলা খেলতে যা সারাজীবন মানুষ নামের অমানুষগুলো আমার সাথে খেলে এসেছে। আমাদের এই ব্যবসায় রাস্তা থেকে কাস্টমাররা তাদের পছন্দমত যায়গায় তুলে নিয়ে আমাদের ভোগ করে। খুব সামান্য টাকাতেই আমাদের ভোগের পণ্য করতে পারে তারা। অনেক সময় আমাদের নিয়ে ভোগের বদলে করে অমানুষিক নির্যাতন। তাই আজ আমিও কোমর বেঁধে নেমেছি তাদের সেই প্রতারণা সুদে আসলে তাদের ফিরিয়ে দিতে। আর আমার এই জীবন ধারনই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

এই শহরের রাস্তায় ছেলে যৌন কর্মীর সাথে সাথে আছে মেয়েরাও। আমাদের সিদ্ধান্ত আমাদের হলেও মেয়েদের বেলায় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেয়েদের যে কোন মহাজনের তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হয়। তেমনি একজন যৌন কর্মী ঘানযে কিনা এক টোকাইয়ের ভালোবাসায় নিজের উপর সমস্ত নির্যাতন ভুলে যায়। নিজের মহাজনকে খুশী করতে ঝড় বাদল, শীত অথবা অসুস্থতা নিয়েও কাজ করতে হয়। নিজের মাসিকের সত্যতা প্রমাণ করতে সবার সামনে নিজের কাপড় খুলে প্রমাণ দেখাতে হয় তাকে। কিন্তু নিজের ভালোবাসার উপর যখন কেউ আঘাত হানে তখন সহ্য করতে পারেনা সে। নিজের মহাজন আর মহাজনের রক্ষককে খুন করে কারাগারে চলে যায় সে।



আজ সেই যৌন পল্লী আর যৌন পল্লী নেই সেখানে এই সকল ঘটনার পর গড়ে তোলা হয় অভিনব বহুতল বিপনী বিতান। স্থানান্তরীত করা হয় যৌনকর্মীদের অন্যত্র। কিন্তু এই অভিবাসন কি পারবে যৌনকর্মীদের তাদের পেশা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে। পারবে কি তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে সরকার সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাদের? জানি পারবেনা, তবুও মানুষের মিথ্যে অভিনয় দেখতে খুব একটা খারাপ লাগেনা, মাঝে মাঝে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে খুব। সত্যিকারের বিশ্বাস।
 

মুভিটি পরিচালনা করেছেন- নাগক ডাং ভূ
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মান হাই লং (লেম), ভিন খোয়া হো (খই)
মুক্তির সাল- ২০১১
মুভিটির দৈর্ঘ্য- ১০৩ মিনিট
আই.এম.ডি.বি তে মুভিটির রেটিং-৬.৬/১০

Sagun

ফিলিপাইনের তাতালান গ্রাম। সমুদ্র তীরবর্তী এই গ্রামটির অধিকাংশ যুবক টুরিস্টদের জন্য নৌকা চালায়। হাড়ভাঙা পরিশ্রম। উত্তাল সমুদ্রের সাথে যুদ্ধে তারা তারা ঢেউকে পরাজিত করতে পারে কিন্তু জীবনের যাঁতাকল থেকে অর্থের অভাবকে দূর করতে পারে না। অর্থের অভাবে পড়ে অনেক যুবকই টুরিস্টদের সাথে যৌন মিলনে রাজি হয়। আমরা যেটাকে সহজ ভাষার বলি পতিতাবৃত্তি। জীবনের এই অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হয় বোট চালক হিসেবে নতুন আসা এক যুবক। নাম আলফ্রেড। আলফ্রেডের কাহিনিই হলো সাগুন। আলফ্রেড নিজেকে গর্বিত মনে করে কারন আজ পর্যন্ত নিজের আর্থিক দৈন্যতায় তাকে কোন টুরিস্টের সাথে তার অন্যান্য বন্ধু এবং সহকর্মী যুবকদের মত কোন অনৈতিক যৌন মিলনে মিলিত হতে হয়নি। কিন্তু একসময় চতুর্দিকের চাপ তাকে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলে দেয় এই ব্যাপারে।

তার মহাজন, সহকর্মী এবং বন্ধু ঈমান ও তাকে এই যৌন ব্যবসার মুনাফা বুঝাতে উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু যতই সময় যায় আলফ্রেড এই ব্যাপারটাতে আরো বেশি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। আলফ্রেডের জুয়াখোর বাবার জুয়ার টাকা তাকেই যোগান দিতে হয়। ফেরী করে যা উপার্জন তা দিয়ে তো সংসার চালানোই মুশকিল। তার উপর তার গার্লফ্রেন্ড মুখিয়ে আছে তার সাথে এক মিলিত হবে এই আশায়
কিন্তু আলফ্রেড সবদিকে তালমিলিয়ে চলতে পারছেনা।  এভাবে তো আর জীবন নৌকা মাঝ নদীতে রেখে জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়না, জীবনে সামনে এগুতে হলে তরী পাড়ে ভিড়ানো দরকারআলফ্রেডকেও তাই করতে হবে। তার আশেপাশে যেই সহকর্মী বন্ধুরা আছে তাদের যৌণ ব্যবসার মজা এবং কাঁচা টাকা তাকে ক্রমশই এই ব্যাপারে ভাবাতুর করে ফেলে। 



একসময় যৌনতায় অনভিজ্ঞ আলফ্রেড তার গার্লফ্রেন্ডের চাহিদায় সাড়া দিলেও একই সময়ে ঈমানের জন্য তার যেই সমকামী অনুভূতি সেটাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। তার মাথার ভিতরে সেক্স সম্বন্ধে পুরনো এক ভয়ংকর হত্যার কাহিনীইকি আলফ্রেডকে তার সেক্সুয়ালিটি সম্বন্ধে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে বাধ্য করছে নাকি তার নিজের ভিতরের নিজেকে সে এখনো বুঝে উঠতে পারছেনা?
 

মুভিটি পরিচালনা করেছেন- মন্টি পারুনগো
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে- রায়ান দুনগো (আলফ্রেড) এবং ডেনিস টুরোস (ঈমান)
মুভিটি মুক্তির সাল- ২০০৯
মুভিটির দৈর্ঘ্য- ১০১ মিনিট
আই.এম.ডি.বি তে রেটিং- ৫.৯/১০

The Man Next Door

মজার কিছু সময় কাটানোর জন্য কমেডি মুভি এর তুলনা চলেনা। ‘’The Man Next Door ‘’ তেমনি একটি কমেডি মুভি যেখানে ডিরেক্টর এবং লেখক ‘’ রব উইলিয়ামস ’’ খুব সহজেই GAY জীবন এর Confusion কে অনেক মজার কাহিনীর মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন। Eric Dean, Michael Nicklin, Benjamin Lutz কাহিনীর প্রধান তিন চরিত্র। অসাধারন অভিনয় করে মুভিটিকে দিয়েছেন নতুন এক মাত্রা। মুভিটি যেমন দর্শক উপভোগ করবেন,তেমনি মানব চরিত্রের কিছু উদ্ভাসিত দিক সম্পর্কে ভাবার প্রয়াস পাবেন।


কাহিনীর শুরু হয় এরিক এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে।ভুল করে এরিক এর পারসেল চলে যায় পাশের বাসায়।সেই পারসেল ফেরত দিতে এসে নাটকীয় ভাবে এরিক এর জীবনের সাথে জড়িয়ে পরে বেঞ্জামিন।৪০ বয়স্ক এরিক এবং ৩০ বয়স্ক বেঞ্জামিন যখন মাঝে মাঝে একাকি সময় কাটাতে থাকে ঠিক সেই মুহূর্তে আবির্ভাব হয় ৫০ বছরের একজন মানুষের যে এরিকের পূর্ব পরিচিত। এরিকের জীবনের দ্বন্দ্বর শুরু এখানেই। কারন বেঞ্জামিনের অবর্তমানে মাইকেল এবং মাইকেলের অবর্তমানে বেঞ্জামিনের সাথে চলতে থাকে তার প্রেম কাহিনী।এক পর্যায়ে যখন এরিক জানতে পারে বেঞ্জামিন এবং মাইকেল এর মাঝে বাবা-ছেলে সম্পর্ক বিরাজমান,তখন তিন জনের মাথাই বাজ পরে।
ঘটনা কমেডিতে পরিনত হয় যখন বাবা-ছেলে দুইজন এরিককে লাভার হিসেবে পেতে চায়। একজন এরিকের জন্য চাঁদ আনে ত অন্য জন আনে সূর্য। এভাবে ঘটনা গড়াতে থাকে।সব কিছুর যেমন সমাপ্তি আছে,এক সাথে দুই জনের সাথে Continue করারও সমাপ্তি আছে। বাবা-ছেলে সিদ্ধান্ত নেয় যে এভাবে চলে না এবং এরিক কে যেকোনো একজনকে বেছে নেয়ার কথা বলা হলে এরিক চরম সঙ্কটে পরে। কারন এরিকের কাছে দুইজনি সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজনকে ছেড়ে অন্যজন কে সে কল্পনা করতে পারে না। দুইজন এরিক কে ছেড়ে চলে যায়। এভাবে কিছু সময় যাবার পর এরিক সঠিক একটি সিদ্ধান্তে উপনিত হয়। বেছে নেয় একজনকে,কে সে.....................জানতে হলে দেখতে হবে বন্ধুরা ‘’The Men Next Door’’


মুভিটি মুক্তির সাল- ২০০৯
মুভিটির দৈর্ঘ্য সময়ের হিসেবে ৮৪মিনিট
আই.এম.ডি.বি তে মুভিটির রেটিং- ৫/১০
রোটেন টমেটোতে মুভিটির রেটিং- N/A

গন বাট নট ফরগটেন

ভালোবাসার এক কমপ্লিকেটেড কাহিনীর উৎকৃষ্ট উদাহরন গন বাট নট ফরগটেনমুভিটি। এই কমপ্লিকেসি বাইরের নয়, ভিতরের। যা অন্যকে বোঝানো অসম্ভব আর নিজেই এর সমাধান বের করা দুঃসাধ্য।

ড্রু (আরন অর) একজন ফরেস্ট রেনজার যে মার্ক (মেথিউ মনটেগোমারি) কে খুঁজে পায় এক ঝরনার পাশে যেখন সে পাহাড়ে চড়তে গিয়ে পিছলে পড়ে। ড্রু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার সেবা সুশ্রষা করতে থাকে। জ্ঞান ফিরে পেতেই দেখা যায় মার্ক তার সব পুরনো স্মৃতি ভুলে বসে আছে। ড্রু মার্ককে পছন্দ করে খুব তাই তার যত
œ নিতে থাকে, তাকে সময় দিতে থাকে এবং তার সময়গুলো উপভোগ্য করে তোলার জন্য যা যা করার দরকার তার সবটুকুই করে। ড্রু মার্কের আরো কাছে আসতে চায় এবং এই ব্যাপারে সে ডাক্তারের সাথে কথা বলে। 

ডাক্তার তাকে জানায় মার্কের এখন যে অবস্থা তাতে তার শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। এখন তার হাসপাতালে থাকা আর না থাকা সমান কথা। মার্কের এখন যা দরকার তা হলো একটা পারিবারিক পরিবেশে সময় কাটানো। পরিবারের সদস্যদের রেগুলার জীবন আচরনে তার স্মৃতি দ্রুত ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশী। ড্রু তার বাসায় এই কথা আলোচনা করলে তার ভাবী তাকে বোঝায় যে মার্কের কাছ থেকে সেই জিনিস আসা করা কখনই ঠিক হবেনা যা মার্ক নয়। তুমি একজন সমকামী বলে মার্কও সমকামী হবে তা যুক্তিহীন। তুমি কষ্ট পাবে। ড্রু প্রচন্ড মন খারাপ করলে তারা রাজী হয়।
 

পরদিন ড্রু মার্ককে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে নিয়ে আসে এবং আসতে আসতে বন বাদাড় ঘুরিয়ে আনে। যেখানে সে মার্ককে বলে এই বনের এক প্রথা আছে যে প্রথা অনুযায়ী পাহাড় থেকে পড়ে বেঁচে যাওয়া ব্যাক্তিকে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নিজ হাতে একটা চারা রোপন করতে হয়। মার্ক নিজের পরিশ্রমে একটা চারা রোপন করে প্রকৃতিকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য। বাসায় এসেও গোছালো ড্রু মার্ককে যথেষ্ট হোমলি সময় উপহার দিতে থাকে। মার্ক অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার পুরনো স্মৃতি দুঃস্বপ্নের মত তার প্রতিটা রাতের ঘুম নষ্ট করতে লাগলো। সেদিনও তাই হলো, ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর মার্ক সিড়ি ভেঙে নিচে এসে দেখে ড্রু ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। কিছুটা আস্বস্ত হয় সে এবং ড্রুর কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। দুজন পাশাপাশি বসে গল্প করতে থাকে এবং একটা দুর্বল মুহুর্তে দুজন কাছাকাছি, খুব কাছাকাছি আসে, কিস করে। কিন্তু হঠাৎ মার্ক উঠে চলে যায়, ধীরে ধীরে ধীর পায়ে তার রুমের দিকে। পিছনে হতবাক উৎসুক চোখে তাকিয়ে ড্রু।
 

সকাল হতেই ড্রু অফিসের কাছে বের হয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় মার্কের জন্য সমস্ত ইন্সট্রাকশন একটা চিরকুটে লিখে রেখে যায়। ফিরে এসে মার্ক এমন আচরন করতে থাকে যেন রাতে কিছুই হয়নি, মার্কও তাই। দুজনই সহজ এবং স্বাভাবিক। ড্রু তাকে লেকে বেড়ানোর জন্য বললে মার্ক হাসতে হাসতে রাজি হয়ে যায়। দুজন মিলে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ায়া সারাদিন।
 

ড্রু মার্ককে তার বাবা মায়ের ক্যাফে সপ দেখাতে নিয়ে আসে। ড্রু জানায় তার বাবা মা দুজনেই তাদের মানুষ করতে এত সময় ব্যায় করতো যে নিজেদের জন্য সময়ই বের করতে পারতো না, তাই একদিন সে দুজনকে একটা বোট ড্রাইভে লেকে পাঠায় কিন্তু একটা এক্সিডেন্টে তারা আর ফিরে আসেনি। সেখানে কোন উদ্ধার কর্মী ছিলোনা যা তার বাবা মায়ের মৃত্যুর অন্যতম কারন। তাই তারা দুই ভাই সে আর পল ফরেস্ট রেঞ্জারের জব নিয়ে আজ এখানে, যেন আর কারো জীবন কখনো বিপন্ন না হয়। ড্রু তার বাবা মায়ের এই ক্যাফে আবারো চালু করতে চায়। জড়িয়ে রাখতে চায় বাবা মায়ের স্মৃতি জীবন্ত করে সবসময় নিজের সাথে।
 

বাসায় ফিরে দুজন এক সাথে রান্না করে, খেয়ে দেয়ে ফায়ারপ্লেসের সামনে কথা বলার সময় মার্ক জানায় যে তার জীবনে ড্রু এর উপস্থিতিতে সে অনেক হ্যাপি। দুজন দুজনের অনেক কাছে চলে আসে এবং দীর্ঘ সময়ের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের পর প্রথমবারের মত একজন স্ট্রেইট এবং একজন সমকামী পুরুষ খেলায় মত্ত হয়। এরপর যেই সকাল তাদের জীবনে আসে তা এক নতুন রূপ নেয়। দুজন দুজনের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ডাক্তারের সাথে রেগুলার চেকাপের দরুন মার্ক জানতে পারে ড্রু একজন সমকামী। ডাক্তার তাকে আরও বলে দেখ মার্ক ড্রু সম্বন্ধে আমি তোমার ফিলিংস বুঝতে পারছি কিন্তু তোমার একটা অতীত আছে যেখানে তোমাকে ফিরে যেতে হবে, তুমি কি সেই জার্নির জন্য নিজেকে তৈরী করছো?
 

মার্ক ড্রু এর সাথে অগনিত অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটাতে থাকে। একদিন সকালে পল মার্কের এক্সিডেন্ট স্পটের পাশে একটা প্রাইভেট কার বিদ্ধস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং সেই সূত্র ধরে তার পরিবারকে মার্কের ব্যাপারে অবহিত করে। তারা এসে মার্ককে নিয়ে যায়। ড্রু মার্কের সাথে অভিমান করে আউট অফ দ্যা নেটওয়ার্ক থাকাতে পল মার্কের এই চলে যাওয়া ড্রুকে জানাতে পারেনা। মার্ক তার পুরনো লাইফে ফিরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে জানতে পারে যে সে একজন সমকামী ছিলো। তার শুধুমাত্র এনগেজমেন্ট হয়েছিলো ক্যাথরিন এর সাথে। যখন ক্যাথরিন জানতে পারে সে একজন সমকামী তখন সে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মার্ক তার সমকামী লাইফের প্রতি সকলের ঘৃণার জবাবে আত্মহত্যা করতে পাহাড়ে চড়ে যেখানে ড্রু তার জীবন বাঁচায়। ড্রু কখনই একজন স্ট্রেইটের জন্য এত কিছু করতো না, তবে কেন সে মার্কের জন্য এত কিছু করেছে কারন মার্ক তাকে কিস করেছিলো এবং সমকামী জানতে পেরেই ড্রু মার্কের কাছে আসার চেষ্টা করেছে। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর মার্ক ক্যাথরিন কে বলে আমি যা ছিলাম এখনও তাই আছি, আমি আমাকে বদলাতে পারবোনা। আমি মার্ককে ভালোবাসি এবং তার সাথেই বাকি জীবনটা কাটাতে চাই।

ঘরের সামনে নতুন একটা চারা দেখে মার্ক বুঝতে পারে বাড়িতে কেউ এসেছে কিন্তু সে যে মার্কই হবে তা সে কখনো চিন্তা করেনি। মার্ককে ছাড়া তার এক একটা দিন কি পরিমান একাকিত্ব আর কষ্টে কেটেছে তা সে ছাড়া আর কেউই জানেনা। মার্ক ড্রু এর কাছে ক্ষমা চায় তাকে না বলে বিদায় নেয়ার জন্য। তার অতীত জানার তাগিদ তাকে দ্রুত এই জায়গা ছাড়তে প্ররোচিত করেছে। দুজন দুজনকে আদরে এবং পরম বিশ্বস্ততায় আপন করে নেয়।
 



মার্ক জানতে পারে ড্রু ফরেস্ট রেঞ্জারের জব ছেড়ে দিয়েছে এবং তার বাবা মায়ের রেস্টুরেন্ট ওপেন করেছে পুনরায়। মার্ক বলে কিন্তু তুমি রাধতে জানোনা, ড্রু বলে আমি জানি আমি রাধতে পারিনা, কিন্তু তুমি ভুলে যাচ্ছ যে আমার জীবনের সবচাইতে সুস্বাদু খাবারের স্বাদ আমি শুধু তোমার হাতের রান্নাতেই পেয়েছি। আর আমি এও জানি তুমি অনেক বড় একজন কুক। তাহলে আর চিন্তা কিসের, দুজনে মিলে চালাবো আমাদের স্বপ্নের এই ছোট্ট রেস্টুরেন্ট এবং গড়ব সেই জীবন যার স্বপ্ন এতদিন শুধু ঘুমন্ত দুটি চোখের পাতাতেই ছিলো।

ঊন্ধুরা তোমরা যারা যারা এই মুভিটা দেখনি তারা চরম মিস করেছো। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখনি দেখে নাও গন বাট নট ফরগোটেননামক চরম রোমান্টিক এবং সেনসেশাস এই মুভিটি। 

মুভিটির পরিচালাক- মাইকেল ডি.আকরস
প্রধান চরিত্রে আছেন- ম্যাথিউ মন্টগোমেরি, আরন অর
মুভিটি মুক্তির সাল- ২০০৩
মুভিটির দৈর্ঘ্য-৯৩ মিনিট
ভাষা- ইংলিশ
আই.এম.ডি.বি তে রেটিং- ৫.৮/১০
 
^ মাথায় ওঠ