blogger widgets

Monday, 3 March 2014

ভালোবাসা হারিয়ে খুঁজি ( পর্ব - ৩ )


শিমুলের মন খুব খারাপ। রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় ফিরছে তারা। শিমুল গাড়ি ড্রাইভ করছে। শুভ্র সিটে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে, তার নাকি মাথা খুব ব্যাথা করছে। শিমুল শুভ্র কে নিয়ে রেস্টুরেন্টে এসেছিলো রাতের ডিনারের জন্য। রান্নার ঝামেলা করতে তার একদম ভাল লাগে না, দুপুরে কোন রকম খিচুড়ি রান্না করেছে, ফ্রিজে গরুর মাংস ছিল, তাই দিয়ে চালিয়ে দিয়েছে। শুভ্র আসার আগে বুয়াই সব রান্না করে দিয়ে যেত। কিন্তু বুয়ার রান্না শুভ্রর একদম ভাল লাগে না। তাই সে এসেই বুয়াকে পার্মানেন্ট ছুটি দিয়েছে। সংসারে রান্না থেকে শুরু করে ঘর গোছানো সহ সব কাজ শুভ্র নিজেই করে কিন্তু প্রতি শুক্রবার শিমুলের কাধে দায়িত্ব পড়ে, আর ঐ একদিনেই শিমুলের অবস্থা কাহিল।

নিজেদের কথা ভাবলে অদ্ভুত লাগে শিমুলের। ভালোবাসাহীন, সম্পর্কহীন একটা সংসার যেখানে এক ছাদের নীচে বাস করেও পরষ্পর থেকে তারা কতটা দূরে, একসাথে থেকেও তারা দুজনই একা। শুভ্র চাইলেই সব কিছুর একটা নতুন সূচনা হতে পারে, কিন্তু শুভ্র কি কখনো তা চাইবে? শিমুল কি পারবে শুভ্রর মনে নিজের জন্য কিছুটা হলেও জায়গা করে নিতে?
এসব ভাবতে ভাবতেই একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল শিমুল, এমন সময় দৈত্যের মত একটা ট্রাক সামনে থেকে বাতাস কাঁপিয়ে আসছিল, আর একটু দেরি হলেই লেগে যেত শিমুলের গাড়ির সাথে।

- দেখে চালাও না, এক্সিডেন্ট করবে তো, শুভ্র চোখ খুলে বললো।
- না, একটা ট্রাক হঠাৎ করে সামনে চলে আসলো।
- তুমি না আমাকে কি যেন বলবে বলেছিলে?
- হ্যা, তোমাকে বলা হয়নি, এই বুধবার সায়ানের জন্মদিন, এবার একটু বড় করেই অনুষ্ঠান করছে, মা খুব ধরেছে আমাকে যাওয়ার জন্য, না গেলে অনেক রাগ করবে।
- কিন্তু ছুটি পাবে অফিস থেকে?
-হ্যাঁ, বসকে বলেছি, ম্যানেজ হয়ে যাবে, তাছাড়া কতো দিন মাকে দেখি না, বাসার সবার জন্যই খারাপ লাগছে।
- ঠিক আছে, যাও তাহলে।
- তুমি একা থাকবে?
- কেন, সমস্যা কি?
- শুভ্র, আমি চাইছি তুমিও আমার সাথে চট্টগ্রাম যাও।
- আমি? আমি কিভাবে যাব?
- কেন, সমস্যা কথায়?
- সবাই কি মনে করবে?
- তুমি আমার বন্ধু, তুমি আমার সাথে যেতেই পার, তাছাড়া আমি মাকে তোমার কথা বলেছি, মা বলেছেন তোমাকে সহ নিয়ে যেতে।
- তুমি বুঝতে পারছো না, আদিত্য এখন চট্টগ্রামে, সে হয়তো জানে যে তুমি আর আমি এখন একসাথে আছি, সে তো আর জানে না যে আমরা দুজন শুধু বন্ধু।
- গাধার মত কথা বল না, আদিত্য বিয়ে করে বৌ নিয়ে সংসার করছে। তুমি এখন যার সাথে যা খুশী তাই কর, তাতে তার কি এসে যায়?

- যদি আদিত্যের সাথে দেখা হয়ে যায়?
-ওকে, তোমাকে যেতে হবে না, আমি একাই যাব।
শুভ্র কিছু না বলে চুপ করে রইলো। শুভ্রকে আরও কিছু কথা বলার ছিল শিমুলের, কিন্তু এখন আর কিছুই বলতে ইচ্ছে করছে না। তার অর্থহীন কথা গুলো হয়তো কখনোই বলা হবে না।
তার খুব ইচ্ছে করে শুভ্র কে নিয়ে সমুদ্রে যেতে, সমুদ্রের তীর ঘেষে শুভ্রর হাত ধরে হারিয়ে যেতে নীল অজানায়, সাগরের ঢেউ গুলো তাদের পায়ে এসে আছড়ে পড়বে, সূর্যাস্তের পর গোধূলি বেলায় পাথরের উপর বসে গল্প করবে, শুভ্র হয়তো তাকিয়ে থাকবে টিমটিম আলোয় জ্বলতে থাকা দূরের জাহাজ গুলোর দিকে।
শিমুল নিজেই ভেবে অবাক হয় কাকে নিয়ে সে এত স্বপ্ন দেখে যে সারাক্ষণ অতীতের স্মৃতিতে মাতাল হয়ে থাকে? শিমুলের মন আরও খারাপ হয়ে গেল, গাড়িতে মৃদু তালে মিউজিক বাজছে -
" I am so lonely, Broken Angel
I am so lonely, Listen to my Heart"


শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আদিত্যের দিকে, তার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে,
- আপনি এমন করছেন কেন? আমি কি অন্যায় করেছি?
- অন্যায় করেছ মানে? তুমি কাল রাতে কেন আমার বাসায় গিয়েছিলে?
- আমি.... আমি তো নোট দিতে...
আদিত্য শুভ্রর কোন কথাই শুনতে চাইল না,
-সব কিছু হইছে শুধু তোমার জন্য।
- আমার জন্য? আমি তো নিজে থেকে কিছু করিনি, বরং আপনি আমার উপর জোড় করেছেন।
- আমি তো মাতাল ছিলাম, হুস ছিল না, তোমার তো হুস জ্ঞান সব ঠিক ছিল, তুমি বাধা দিলে না কেন? শালা Gay কোথাকার!
- আপনি নিজে কি সেটা একবার চিন্তা করেছেন? মাতাল হয়ে ছেলে মেয়ের পার্থক্য ধরতে পারেন না, অথচ শরীরের কাম বাসনা কিভাবে মেটাতে হয় সেটা ঠিকই জানেন।
শুভ্র কাঁদছে, তার মুখে চড়ের দাগ লাল হয়ে আছে, আদিত্য আর কিছু না বলে চুপচাপ বেড়িয়ে গেল .


আজ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আদিত্য ভার্সিটিতে যাচ্ছে না। মোবাইল অফ করে রেখেছে, বন্ধু বান্ধব কারো সাথেই কোন যোগাযোগ নেই। সেদিনের শুভ্রর চোখের পানি সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না, নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। সত্যিকারে শুভ্রর তো কোন দোষ ছিল না, ঐ রাতে যা কিছু হয়েছে তার জন্য সে নিজেই দায়ী, কিন্তু তার নিজেরও কি খুব বেশী দোষ ছিল? ছোটবেলা থেকে ছেলেদের প্রতি একটা অদ্ভুত আকর্ষন অনুভব করত সে, কিন্তু তার এই অনুভূতিকে সে সারাজীবন পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু শুভ্রকে দেখার পর তার সব কিছু যেন ওলট পালট হয়ে গেল, শুভ্রর মুখটা সে যেন কিছুতেই ভুলতে পারছেনা, দিন রাত ২৪ ঘন্টা শুধু তার কথাই ভাবতে ইচ্ছে করে। ভার্সিটিতে আদিত্যের চোখ জোড়া শুধু একটা মুখকেই খুজে ফিরে। যেদিন শুভ্রর সাথে দেখা হয়না, সেদিন তার কোন কিছু ভাল লাগে না, ক্লাস করতে ইচ্ছে করে না, খেতে ইচ্ছে করে না, আগের মত এখন আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতেও ভালও লাগে না। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত সে শুভ্রর প্রেমে পড়েছে? না হলে কেন সে শুভ্রর জন্য এতটা ফিল করছে?
শুভ্রকে খুব মিস করছে আদিত্য, বুকের ভেতর কেমন জানি চিন্‌চিন্‌ করে ব্যাথা করছে তার। শুভ্রর কাছে তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে, না হলে সে নিজেকে কখনো মাফ করতে পারবে না .


- আরে আদিত্য ভাই, কেমন আছেন আপনি? গত দুই সপ্তাহ কই ছিলেন? ফাহাদ আদিত্যের দিকে হাসি মুখে এগিয়ে আসলো।
- এই তো একটু অসুস্থ ছিলাম।
- তাই তো বলি, আপনাকে ভার্সিটিতে দেখি না কেন?
- ফাহাদ, তুমি কি শুভ্র কে একটু ডেকে দিতে পারবে? ওর সাথে আমার কিছু জরুরী কথা ছিল।
-ঠিক আছে, ভাইয়া, আমি শুভ্রকে এখনই ডেকে দিচ্ছি।
- Thanks ফাহাদ
- আরে ভাই, এর জন্য Thanks বলা লাগে?

আদিত্য সন্ধ্যার পর হলের সামনে সিড়িতে দাড়িয়ে শুভ্রর জন্য অপেক্ষা করছে। কিভাবে যে শুভ্রকে কথা গুলো বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না সে, বড্ড অস্থির লাগছে, বাইরের ঠান্ডা বাতাসেও আদিত্যের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
- আপনি আমাকে ডেকেছেন? শুভ্র আদিত্যের সামনে এসে দাড়ালো।
- হ্যাঁ, তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।

-আমার সাথে আপনার কি কথা থাকতে পারে? সেদিন সবার সামনে চড় মেরেও সাধ মেটেনি, নতুন করে আবার মারতে এসেছেন?
- শুভ্র, সেদিনের জন্য আমি সত্যি খুব sorry , সেদিন আমার মাথা ঠিক ছিল না, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।
- আমি আপনাকে ক্ষমা করার কে, বলুন? আপনারা সিনিয়র, তাই জুনিয়রদের সাথে যা খুশী তা করার অধিকার আছে।
- প্লিজ, শুভ্র, তুমি জানো না, গত দুইটা সপ্তাহ আমার যে কিভাবে কেটেছে, একটা মুহুর্তের জন্য আমি শান্তি পাইনি।
- so , আমি আপনাকে কিভাবে শান্তি দিবো?

- শুভ্র, please, forgive me.
-আপনি এখন যান, আর নিজেকে অপরাধী ভাবার কিছু নাই। আপনি কোনও দোষ করেন নি, সব দোষ আমার, আমি আপনার ফ্লাটে গিয়েছি, আপনি তো আমাকে বলেন নি রাত জেগে আপনার সেবা করতে, যা কিছু হয়েছে আমার কারণে হয়েছে।
-তার মানে তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না?
- বারবার একই কথা কেন বলছেন?
-ওকে, ফাইন, ক্ষমা করা তোমার উপর, কিন্তু যতক্ষণ তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না, আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।
- পাগলের মত কথা বলছেন কেন?
-আমি তো পাগলই।
- আপনার যা খুশী তাই করেন, আমি যাচ্ছি।


রাত প্রায় ১০টা বাজে, আদিত্য হলের বাইরে একা একা দাড়িয়ে আছে, অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করছে, কেন সে এখানে এত রাতে এভাবে একা দাড়িয়ে আছে? আদিত্যের ভেতর যে একটু পাগলামী স্বভাব আছে এটা ভার্সিটির প্রায় সবাই জানে, তাই কেউ আদিত্যকে নিয়ে খুব বেশী মাথা ঘামাল না। আদিত্য তার সিদ্ধান্তে অটল, শুভ্র তাকে মন থেকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে এখান থেকে যাবে না, দরকার হলে সে সারা রাত দাড়িয়ে থাকবে। এম্নিতেও শুভ্রর কাছে তার কিছু শাস্তি পাওনা আছে।
হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হল, অসময়ের বৃষ্টি, বছরের এই সময় সাধারণত বৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। ঢালাও বর্ষণ, আদিত্য ভিজছে নির্বিকার ভঙ্গিতে। ঠান্ডায় তার গা কাঁপছে, তারপরও সে বৃষ্টির ভেতরেই স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে শুভ্রর অপেক্ষায়। সে জানে শুভ্র আসবে, তাকে যে আসতেই হবে।

৬.
রাত ১১টা . মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে, এক মুহুর্তের জন্যও বৃষ্টি থামে নি। শুভ্র জানালার পাশে দাড়িয়ে আদিত্যকে দেখছে, তার খুব ইচ্ছে করছে একটি ছাতা নিয়ে আদিত্যের সামনে গিয়ে দাড়াতে, হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে ডাকতে, বৃষ্টির মধ্যে দুজনই একই ছাতার নীচে দাড়াতে, কিন্তু সে জানে এসব পাগলামীর কোন মানে হয়না।
আদিত্যের জন্য তার খুব খারাপ লাগছে, মানুষটা সেই কখন থেকে দাড়িয়ে আছে, চুপচাপ বৃষ্টিতে ভিজছে, নির্ঘাত আবার জ্বর বাঁধাবে, আদিত্যের তো রাতে কিছু খাওয়াও হয়নি, এতক্ষণে নিশ্চয় খুব ক্ষিদে পেয়েছে, এত পাগল কেন মানুষটা, বাচ্চাদের মত জিদ ধরে বসে আছে। শুভ্র নিজেও রাতে কিছু খায়নি, ফাহাদ তাকে খাওয়ার জন্য ডেকেছিল, কিন্তু তার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।


- আপনি এখনো দাড়িয়ে আছেন?
- বলেছি না, তুমি ক্ষমা না করলে আমি কোথাও যাব না।
- আপনি সত্যি একটা পাগল।
- এতক্ষণে বুঝলা
- হ্যাঁ, বুঝেছি, শুভ্র হেসে বললো।
- ক্ষমা করেছ?
- না করে উপায় আছে।
- আরও আগে করলে ভাল হত।
- কেন?
- আমাকে এতক্ষণ দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে হত না।
- আপনার এই শাস্তিটুকু পাওয়ার দরকার ছিল
- আমাকে কষ্ট দিয়ে তুমি আনন্দ পেয়েছ?
-তোমার কি মনে হয়?
- জানিনা
- যাও, এখন বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি কাপড় চেঞ্জ কর, না হলে আবার জ্বর বাঁধাবে।
শুভ্র নিজেও জানে না কখন থেকে সে আদিত্যকে তুমি বলে সম্বোধন করছে, 
শুভ্র বারান্দার ভেতরে দাড়িয়ে আদিত্যের সাথে কথা বলছিল। আদিত্য তার হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে আসলো।
- এখন বুঝ, আমাকে বৃষ্টিতে ভেজানোর মজা।
আদিত্য হাসছে, কি সহজ সরল সেই হাসি।
- শুভ্র, চলো আমার সাথে
- এত রাতে, কোথায়?
- আমার ফ্লাটে, প্লিজ
আদিত্য শুভ্রর দিকে তার হাত বাড়িয়ে দিল, এই হাতের আহবান উপেক্ষা করার শক্তি আজ শুভ্রর নেই, হয়তো কখনোই ছিল না।


আদিত্য শুভ্রকে নিয়ে সোজা তাদের ছাদে চলে আসলো, তাদের ছাদটা খুব সুন্দর, ছাদের মেঝে সাদা মার্বেল পাথরের, ছাদের একপাশে বাগান, পুরো ছাদের রেলিং জুড়েই বিভিন্ন ধরনের লতানো গাছ, ছাদটা পুরোপুরি অন্ধকার নয়, আবছা আবছা আলো, মুষলধারে বৃষ্টি ,সবকিছু মিলে এক রহস্যময় তৈরী করেছে।
আদিত্য ছাদের দরজা লাগিয়ে দিল। তারপর শুভ্রর সামনে এসে দাড়িয়ে কাধে হাত রেখে বললো,
-I Love You ,শুভ্র, আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
আদিত্যের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্র, তারপর আটকে রাখা নিশ্বাস ধীরে ধীরে ছেড়ে বললো,
- তুমি.... আমাকে... সত্যি?
- তুমি জানো সত্যি, তুমি জানো আমরা দুজনই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছি।
-হ্যাঁ, 
এক অদ্ভুত আনন্দে শুভ্রর হাসতে ইচ্ছে করছে, আবার কাঁদতেও ইচ্ছে করছে।
-শুভ্র, নিজের সাথে আমি অনেক যুদ্ধ করেছি, কিন্তু তোমাকে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমার নেই, আজকে সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে জেনে বুঝে বলছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না, তুমি সামনে আসলে আমি শিহরিত হই, অকারণে সব কিছু ভাল লাগতে শুরু করে, পারবে না এই পাগলটাকে একটু সাম্‌লে রাখতে, তাকে একটু কেয়ার করতে, ভালোবাসতে?
শুভ্র কি বলবে বুঝতে পারছে না,

-তুমি কিছু বলবে না?
- আমার সব কথা তো তুমিই বলে দিয়েছ
শুভ্র আর কিছু না বলে তার ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলো আদিত্যের ঠোঁটে, দুজন দুজনের অধরে চুমো খেয়ে চললো অবিরাম ভাবে বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে যেন দুজন তৃষ্ণার্ত পথিক পিপাসার্ত হয়ে পান করছে একে অপরকে, এ যেন কোন যৌনতা নয়, ভালোবাসার সাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া.
- আজকে সারা রাত এখানেই থাকব, বৃষ্টিতে ভিজব, আদিত্য বললো
- পাগল নাকি, জ্বর বাঁধাবে তো
- জ্বর হলে ক্ষতি কি, এখন তো আমি একা নই, জ্বর হলে তুমি আমার সেবা করবে, আমাকে খাইয়ে দেবে, মাথায় পানি ঢালবে, সারাক্ষণ আমার পাশে বসে থাকবে।
- আর তুমি কি করবে তখন?
- আমি তোমার কোলে মাথা দিয়ে তোমার হাত ধরে শুয়ে থাকব।
- হইসে, চলো প্লিজ
- আমি অনেকক্ষণ ধরে ভিজেছি, এখন আর ঠান্ডা লাগছে না, আজকের রাত আমাদের দুজনের জন্যই অনেক special। এই রাতে ঘুমালে চলে, বলো?

বৃষ্টির বেগ এখন অনেকটাই কমে এসেছে, ঝিরি ঝিরি করে ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে, আদিত্য তার পরনের জিনস, শার্ট সব খুলে ফেললো, ভেজা কাপড় অনেকক্ষণ শরীরে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে, আদিত্যের পরনে শুধু একটা কালো রঙ্গের বক্সার, শুভ্রকেও কাপড় খুলতে সাহায্য করলো, দুজনই অর্ধনগ্ন হয়ে বৃষ্টির মধ্যে শুয়ে পড়েছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অনুভব করছে শরীরের প্রতিটি লোম কূপ দিয়ে, খুজে নিচ্ছে আদিম উষ্ণতা। একে অপরের সারা শরীরে চুমো খেয়ে যাচ্ছে। আজ কোনও যৌনতা নয়, ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা, চিনে নিচ্ছে পরষ্পরের দেহের মাদকতাময় গন্ধ, চুমো দিয়ে একে দিচ্ছে পরষ্পরের শরীরে ভালোবাসার সাক্ষর।
এক হয়ে গেছে দুটো শরীর, সময় থমকে গেছে, স্থির হয়ে গেছে পৃথিবী, যেন এই পৃথিবীতে তারা দুজন ব্যাতিত বাকী অন্য কিছুর কোনও অস্তিত্ব নেই।

৯.
- শুভ্র, আর কতক্ষণ ধরে এভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো, রাত প্রায় ১২টা বাজে।
- আমার বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না শিমুল.
- কিন্তু তাই বলে কতক্ষণ এভাবে গাড়ি নিয়ে 
বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় ঘুরবো? কাল আমার অফিস আছে, শুভ্র
- আমার কিছু ভাল লাগছে না, শিমুল
- আমি তোমাকে বুঝি, শুভ্র, কিন্তু নিজেকে একটু সাম্‌লাও, সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা কর, ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
-শিমুল , ব্রীজের উপর গাড়িটা একটু সাইড করে রাখ তো
- কই যাবে, এই বৃষ্টির মধ্যে?
- আমার বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে।
- আমার শরীর ভালো না, আমি ভিজব না
-ওকে, তুমি গাড়ির ভেতরে বসে থাক, আমি নামবো।
- ঠিক আছে, আমিও আসছি
-না, তোমাকে যেতে হবে না, আমাকে একটু একা থাকতে দাও, প্লিজ

১০.
শুভ্র ব্রীজের রেলিং এর উপর দাড়িয়ে আছে, আজ তার জীবনের একটি বিশেষ রাত, এই রাতেই তো আদিত্য ভালোবেসে শুভ্রর হাত ধরে ছিল, সারা জীবন পাশে থাকার অংগীকার করে ছিল, আজ শুভ্র ও আদিত্যের ভালোবাসার ৩য় বর্ষপূর্তি।
আজও তুমুল বর্ষণ হচ্ছে, আজও শুভ্র বৃষ্টিতে ভিজছে, কিন্তু আজ আদিত্য তার পাশে নেই, আজ সে একা। সময়ের আবর্তনে পাল্টে যায় জীবনের দৃশ্যপট, শুধু রয়ে যায় স্মৃতি, নিভে যাওয়া আগুনের অবহেলিত ভস্মীভূত সাদা ছাইয়ের মত।
শুভ্র কাঁদছে, চিৎকার করে কাঁদছে, বুক ভাঙ্গা কষ্ট বের হয়ে আসছে মনের গহীন থেকে, আজ প্রকৃতিও কাঁদছে শুভ্রর সাথে তাল মিলিয়ে, শুভ্রর কান্নার শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দে, বৃষ্টির জলে মিলে মিশে একাকার হচ্ছে চোখের পানি।
শিমুল আজ পর্যন্ত শুভ্রর বয়সী কোন ছেলেকে এভাবে কাঁদতে দেখে নি, তার খুব ইচ্ছে করছে শুভ্রর পাশে দাড়িয়ে তার কাধে হাত রাখতে, ইচ্ছে করছে ছুটে গিয়ে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে বলতে " প্লিজ, তোমার কষ্টগুলো আমাকে দাও, তোমাকে এত কষ্ট পেতে দেখে আমার যে আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে"

কিন্তু শুভ্রর এই কষ্টের জগৎটা তার একার। শিমুল কখনো সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
কাঁদুক শুভ্র , কেদে তার বুকের গভীরে জমে থাকে কষ্ট গুলোকে ভাসিয়ে দিক বৃষ্টির জলে।
শিমুলও গাড়ি থেকে নেমে বাইরে দাড়িয়ে একা একা ভিজছে, কেন জানি তার চোখও জলে ভরে উঠছে। তখনি সে সিদ্ধান্ত নিলো শুভ্র না চাইলেও তাকে জোড় করে চট্টগ্রাম নিয়ে যাবে, একবারের জন্য হলেও সে শুভ্রকে আদিত্যের সামনে দাড় করাবে , কারণ শিমুল জানে ঠিক এই মূহুর্তে আরও একজন শুভ্রর মত বৃষ্টির মাঝে তার ভালোবাসার মানুষকে খুজে ফিরছে। 

Every night in my dreams
I see you, I feel you,
Near, far, where ever you are
I believe that my heart does go on.
Love can touch us one time,
And last for a life time.
Once more you open the door,
And you are in my heart
And my Heart will go on and on

**************
(চলবে)

আজও অপেক্ষায় আছি

আমি নীলাভ৷ 
বর্তমানে পেশায় একজন ডক্টর। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে বলতে আমি অহনার "ছোট বা " অহনা আমার ভাই এর মেয়ে৷ আমার অভিভাবক ৷ আমায় বকা দেয়, সকাল এ ডেকে দেয় ৷ জোর করে খাইয়েও দেয় ৷ ওর কথা বলে শেষ করা যাবে না৷ অথচ সবেমাত্র ক্লাশ ফোর এ পরে অহনা। এত কম বয়সেই এক দারুন মেচ্যুরিটি মেয়েটির মাঝে অবাক করে আমাকে প্রায়শই। ওকে দেখলেই আমার মায়ের কথা মনে পড়ে। মনে হয় আম্মু অহনার বেশে আমার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওর ছোটো খাটো আবদার, ওর শাসন, ওর ভালোবাসা এসব নিয়েই আমার পৃথিবী ও।
আমার ২৮ বছরের জীবনে ভালোবাসা এসেছিল সেই ১৮ তে।


বলছি আজ থেকে ১০ বছর আগের কথাই। নতুন যৌবন, নতুন আবেগ৷ তাই ভালোবাসা টাও তীব্র ৷ তবে আমাদের কোনো দিনও ঘর বাঁধা হয় নি৷ তখন ইসকুল এর শেষের দিক ৷ দু মাস পর টেস্ট পরীক্ষা, তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনলাইন এ আসি ৷ একদিন হঠাৎ ওর টেক্সট, সেই রাতে ৩ টা অবদি চ্যাট চলে ৷ তারপরদিন আবার ওর নক ৷ কথা হয় ভালো লাগা, মন্দ লাগা এসব নিয়ে ৷ এভাবেই কথা চলতে থাকল ৷ তারপর ফোন নম্বর দেয়া নেয়া ৷ একদিন অনলাইন এ আসি নি৷ পরদিন পরীক্ষা ছিল ৷ তাই, ওকে জানাতেও পারিনি। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ফোন হাতে নিতেই ওর কল ৷ 
কি খবর? পুরা হাওয়া হয়ে গেলে ৷ আরে বলো না পরীক্ষা ছিল ৷ তা কেমন হল? আমার খারাপ হয় না তো ৷ এভাবেই কথা হল৷ তারপরে রাত জেগে কত গল্প, আর কত কথা বলেছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। আস্তে আস্তে শুরু হয় স্বপ্ন দেখা। ওকে আমার আইডল ভেবেই স্বপ্ন বুনতে থাকলাম কারন সে একজন ডাক্তার ছিলো আর আমার ভবিষ্যত স্বপ্নও ছিলো একজন ডাক্তার হওয়া।আমার এস. এস. সি. শেষ হবে সামনের বছরে আর তার এম. বি. বি. এস. তারপর ঢাকায় আসব দুজন, এক কামরার ঘর,শুরু হবে তোমার আমার লাল নীল সংসার ৷ হঠাৎ করেই ভালোলাগা ভালোবাসা যেন আমাকে ঘিরে ধরলো ৷ ভালো কিছু দেখলেই মনে হত ইস তুমি যদি থাকতে ৷ সম্পর্কটা সেদিন পূর্ণ হল যেদিন তোমায় দেহে ধারণ করলাম ৷ যৌনতার সুখ ঠিক কতটা, জৈবিক চাহিদা পূর্ণ হবার তৃপ্তি যে কতটা মধুর তা তোমার কাছে বুঝলাম ৷


কেটে গেল ছয় টা মাস ৷ আমাদের ভালোবাসার নৌকা বেশ চলছিল ৷ সবকিছুর যেমন শেষ হয়, এই ভালোবাসারও বোধয় শেষ হওয়া শুরু হল ৷ খেয়াল করলাম তুমি খুব বিজি হয়ে যাচ্ছ৷ আমি মেনে নিলাম, তোমার পেশার কথা ভেবেই ৷ ফোন দিলে বলতে বিজি ২মিনিট পর কল করছি৷ সারারাত কেটে যেত, কল আসতো না ৷ আমি দিলেও ২মিনিট এর বেশি কথা বলতে না ৷ কতো রাত ফোন হাতে জেগেছি তোমার অপেক্ষায়, তা আমিই জানি ৷ টানা তিন মাস ফেসবুক এ টেক্সট করি ৷ নো রিপ্লাই৷ 


একা একা বাথরুমে কেঁদেছি ৷ কাঁদার শব্দ বিলিন হয়ে গেছে ঝরনার পানির শব্দে ৷ একদিন তোমায় ফোন দিয়ে বলি আজীবন অপেক্ষা করব ৷ তুমি বলেছিল এখন আমার বয়স কম, তাই পুতুপুতু কথা বলাই যায় ৷ আরও বললে কম বয়েসি ছেলের সাথে রিলেশন রাখতে পারবে না৷ আমি কিছু বলিনি ৷ শুধু একটাই কথা মনে গেথে গেল ৷ আমি তো জানতামই না নাহিদ ভালোবাসা কী? ঘর বাঁধা কি? কেন শেখালে আমায়? কেন? আমার নীল পদ্ম যে তোমায় দিয়ে দিয়েছি ৷ এখন আমার পুরোটাই ফাঁকা৷ 


নাহ ফাঁকা বললে ভুল হবে, আছে তো তোমার স্মৃতি, আর ফুসফুস ভরতি তোমার শরীরের গন্ধ ৷ ভালোবাসা এত অসহায় কেন, বলতে পারো কেউ?? চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আমার নিরব কান্না বাইরের প্রকৃতিতে অঝর বর্ষণ ধারায় ঝরতে লাগলো।শুনেছিলাম সত্য ভালোবাসা নাকি কখনও ভেস্তে যায়না। যত চড়াই উৎরাই আসুক না কেন একসময় সফলতার মুখ সে দেখেই। সেই আশাতে বুক বেধে কাটিয়ে দিচ্ছি জীবনের সোনালী দিনগুলো। হয়তো নাহিদ একদিন ফিরে আসবে। আর সেদিন এসে যদি দেখে আমি অন্যের ঘর করছি তা কি আমার ভালোবাসার অপমান হবেনা? তাই তার প্রতীক্ষায় আছি। 


হঠাৎ শুনতে পেলাম অহনা ডাকছে, "ছোট বা " কাঁদছো? এই মেয়েটার একটা ক্ষমতা আছে, আমার কান্না পেলেই কোথা থেকে যেন টের পেয়ে যায় ৷ নাহ মা কাঁদি না ৷হুম কাঁদে না।ছেলের কষ্ট মা কি দেখতে পায়? হা হা, বুড়ি একটা।

ময়ূরপঙ্খী নাউঃ চতুর্থ পর্ব

বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল, আর মনটাও কেমন যেন করছিল। তাই আর ফোন দেয়া হলো না আউয়ালের দেয়া নাম্বারটায়। তবে মনের উপর খুব যে একটা ভরসা আমার নেই সেটা জানা ছিল, তাই বাসায় এসেই মোবাইলে সেভ করে নিলাম তুষারের নাম্বারটা। 
পরদিন বিকেলের দিকে ফোন দিলাম।
- হ্যালো...
- হ্যালো, কে বলছেন?
- এটা কি তুষারের নাম্বার? আউয়াল আমাকে আপনার নাম্বারটা দিয়েছে।
- রং নাম্বার।
মুখের উপর ফোনটা কেটে দিল। অবাক, খুশি দুটাই হলাম। অবাক হলাম এটা ভেবে যে ছেলেটা নিজের নাম্বার আউয়ালকে দিয়েও কেন আমাকে না চেনার ভান করছে? আর খুশি হলাম এটা ভেবে যে ছেলেটা হয়তো আউয়ালকে নাম্বারটা দেয়ার পর থেকে রীতিমত বিভিন্ন মানুষের ফোন পেয়ে পেয়ে অতিষ্ট, তাই সবাইকে এভয়েড করছে। 
রাত ১১ টায় তুষারের নাম্বার থেকে মিসড কল এলো। কল ব্যাক করলাম। 
- কি? এবার চিনতে পেরেছেন?
- হুম। 
- আউয়ালের সাথে কথা হয়েছে?
- জ্বি।
- ভালো আছেন?
- জ্বি।
- এভাবে হু হা আর জ্বি জ্বি করলে কিভাবে হবে? 
- তাহলে কি বলবো?
- আপনার কথা বলেন, শুনি
- আমার কোন কথা নাই। দেখা করবেন?

এভাবে সরাসরি যে তুষার নামের ছদ্মনামি মানুষটা দেখা করার কথা বলবে, সেটা ভাবিনি। দেখা করতে চাইলাম। তুষার তার মেসের ঠিকানা দিল। যেয়ে যে মানুষটাকে দেখলাম তাকে দেখে আমার যৌনক্ষুধা নিমিষেই ক্ষুধামন্দায় পরিণত হলো। ছোটখাট, মোটাসোটা একটা ছেলে। যেভাবে আমাকে রুমে ঢুকিয়ে এক ঝটকায় নিজের লুঙ্গির গিঁটটা খুলে ফেলল, আমি রীতিমত ভয়ই পেয়ে গেলাম। এরপর নিজের উলঙ্গ দেহটা নিয়ে আমার পাশে এসে বসল তুষার (যার আসল নামটা আমি আজো জানিনা।) বসেই আমার বিশেষ জায়গায় হাত দিয়ে দিল। আমি রীতিমত অপ্রস্তুত ছিলাম, ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুই বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। হঠাত বুঝতে পারলাম তুষার আমার প্যান্টের বেল্ট আর চেন খুলে ফেলেছে। তুষারের হাত ততক্ষনে আমার আন্ডারওয়্যার খুলতে ব্যস্ত। আমি খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেললাম। কিন্তু তুষার ততক্ষনে তার কার্যসিদ্ধি করে ফেলেছে অনেকখানি। আমি পুরোপুরি উত্তেজিত। অনেক ইচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ক্ষুধার্ত ছিলাম, সেটাও একটা কারন হতে পারে। যা হবার হলো। তুষারের হয়তো আমাকে ভালো লেগেছে, কিভাবে বুঝলাম? আমার থেকে কোন টাকা নিলো না সে। টাকা চাইলেও অবশ্য আমি না করতাম না। চলে এলাম তুষারের মেস থেকে, কিন্তু প্রচন্ড একটা বিরক্তি কাজ করছিলো আমার মাঝে। এই প্রথম কারো সাথে প্রেমহীন কামে লিপ্ত হলাম। খুব রাগ লাগছিল নিজের উপর, কেন যে আসলাম? কিন্তু শারীরিক একটা প্রশান্তিও পাচ্ছিলাম ভেতরে ভেতরে। এ যেন এক মিশ্র অনুভূতি, তোকে বলে বোঝাতে পারবো না। 

এর কিছুদিন পর আবার রমনায় গেলাম, উদ্দেশ্য আউয়ালের সাথে দেখা করা। দেখা পেয়েও গেলাম তার। আমাকে দেখেই যুদ্ধ জয়ের হাসি দিয়ে এগিয়ে এলো আমার কাছে।
- কি? কেমুন মজা পাইলেন?
- মজা তো মনে হয় আমার চেয়ে তুমিই পেয়েছো বেশি।
- হা হা হা!
- হাসছো যে?
- আফনেরে বোকা বানাইতাম ফারছি, হেল্লাইগা হাসতাছি।
- হুম ভালো।
- আহেন বইসা কতা কই।
- হুম চলো। কথা বলতেই তো এলাম।
- আফনের লগে কতা কইলে খুব ভালা লাগে। আফনে অনেক বালা মানুষ।
আউয়ালের সাথে বসে পড়লাম একটা বেঞ্চে। 
- আউয়াল, তোমার খারাপ লাগে না এসব করতে?
- আগে লাগতো, অহন আর লাগে না।
- কেন?
- প্যাটের দায় যে কি জিনিস আফনেরা বড়লোকরা হেইডা বুজবেন না বাইজান।
- তোমার বাবা নেই? কিছু করে না?
- বাপ মরছে অনেক আগেই। মায়ে ঝিয়ের কাম করে। বড় বইন্ডার বিয়া দিছিলাম এক হিরুইঞ্চির লগে, হেই হালার পুত আমার বইনেরে তো দেহেই না, উলটা আমগো বাড়িত আইয়া ট্যাকা লইয়া যায় মার থোন। আর আকাইম্মা বড় ভাই একখান আছে, হেও মস্তানি কইরা অহন জেলের ভাত খাইতাছে। ভালাই অইছে, একজনের পেট তো কমছে!
- তাহলে তোমাকেই পরিবারের দেখাশোনা করতে হয়! 
- হ! শইলডা অনেক কাম দিছে অভাবের সময়।
- মানে?

- ছোড বেলা থেইকাই কেমুন জানি মাইয়া মাইয়া আছিলাম। বয়স তহন কতো হইবো? বারো কি তেরো! আফার সুনু, পাউডার আর লিপিস্টিক লাগাইতাম চুরি কইরা। কাজল দিতে খুব ভালা লাগতো। মায় আর আফায় খুব বকতো, কিন্তু আমি তাও চুরি কইরা লাগাইতাম এইগুলান। লুকায়া লুকায়া একদিন শাড়িও পরছিলাম। হাইরে মাইর খাইছি হেই দিন! অহনো মনে আছে। বাড়িত থোন পলায়া গেছিলাম। আমগো বাড়ির পাশেই আছিল আত্রাই নদী। নদীর পারে বইয়া অনেক কানছি। সেই সময় নদীর পাশ দিয়া যাইতেছিল পাশের বাড়ির আক্কাছ ভাই। আমারে কানতে দেইখা পাশে বইয়া খুব আদর করলো। জিগাইলো আমি কান্দি ক্যা। কইলাম মায়ে মারছে আফার লিপিস্টিক দিছি দেইখা। আক্কাছ ভাই কইলো লিপিস্টিক দিলে নাকি আমারে খুব সুন্দার দেখা যায়। কইলো আমারে একখান লিপিস্টিক কিন্যা দিবো। এরপর আমারে কইলো হেগো বাড়িত যাইতে। আমিও গেলাম। হেগো বাড়িত কেউ আছিল না। বাড়িত যাইয়াই আক্কাছ ভাই আমারে খুব আদর করতে লাগলো হের রুমে নিয়া। হের লুঙ্গিডা খুইল্যা ফালাইলো গার থোন। আমার লুঙ্গিও খুইলা দিল। আমি কিছু বুঝতাছিলাম না। আক্কাছ ভাই আমার সারা গায়ে অনেক আদর দিল। আমার খুব ভালা লাগতেছিল। এরপর সরিষার তেলের বোতল নিল টেবিলের উপরের থেইকা। হের ধোনের মধ্যে লাগাইলো আচ্ছা মতোন। হেরপর আমার দুই ঠ্যাং হের দুই কাঁধে তুইলা আমার পাছার ফুটার মধ্যে হের ধোন...
- আউয়াল হয়েছে, থাক আর বলতে হবে না।
- হেইদিন খুব রক্ত বাইর হইছিল। কানতে কানতে বাড়িত আইছিলাম। মা আর আফায় মনে করছে আমি হেগো মাইরের কারনে কান্তাছি, তাই কিছু জিগায় নাই কেন কান্দি, আমিও আর কইতে পারি নাই শরমে। সারা শরিল বিষ করলো। রাইতে জ্বর আয়া পড়লো আমার। মা কবিরাজ ডাকলো। কবিরাজ আয়া জ্বরের অসুদ দিয়া গেলো। এক সপ্তা পর সুস্থ হইলাম। 
- তোমার মাকে বলা উচিত ছিল আউয়াল।
- কই নাই আরেক কারনে।
- কি কারন?

- আমার কাছে আক্কাছ ভাইরে ম্নে ধরছিল। হে আমার লগে যা যা করছে আমার খুব ভালা লাগছে। মায়েরে কইয়া আক্কাছ ভাইয়ের আদর থেইকা বঞ্চিত হইতে চাই নাই।
- হুম। বুঝলাম।
- আক্কাছ ভাই আমার মাই দুইডা খুব সুন্দর কইরা চুষত আর টিপত। আমার খুব মজা লাগতো জানেন? পরথম দিন ব্যাথা পাইছি, কিন্তু হের পর থেইকা অনেক সুখ পাইছি
কয়দিন পর দেহি আমার বুক হইতাছে মাইয়াগো লাহান। পরথমে ভাবছিলাম আক্কাছ ভাইয়ের টিপ খাইয়া অইতাছে, কিন্তু পরে দেহি দুধের বোটাও আইতাছে মাইয়াগো বুকের লাহান। আমার গলাও দেহি কেমুন যেন ভাঙ্গা ভাঙ্গা হইয়া গেলো।
- তারপর?
- মায়ে বুঝলো হের ঘরে দুই পোলা আর এক মাইয়া না; এক পোলা, এক মাইয়া আর এক না পোলা না মাইয়া জন্মাইছে। 
- মানে?
- মানে মায়ে বুঝলো যে আমি হিজড়া।
- তুমি হিজড়া?
- হ! দেহেন না গলায় গামছা ঝুলায়া রাহি! কিন্তু অন্য হিজড়াগো মতন সাজগোজ করতে অহন আর ভাল্লাগে না। আর হিজড়াগো চাইতে পোলাগো দাম এই পার্কে বেশি। তাই পোলা সাইজা থাকলেই পয়সা বেশি পাওন যায়।
- হুম, বুঝলাম। আউয়াল এই টাকা কয়টা রাখো। আজ উঠতে হবে।
আউয়ালের হাতে দুইশ টাকা দিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে এলাম। মাথাটা ভনভন করছে। কি শুনলাম এসব এতক্ষণ! 

আউয়ালের প্রতি একটা মায়া আগে থেকেই ছিল, কিন্তু মায়াটা সেদিনের পর থেকে আরো বেড়ে গেলো। সপ্তাহে একদিন হলেও যেতাম রমনায়, আর কিছু টাকা দিয়ে আসতাম ওর হাতে। এর মাঝে ইয়াহু মেসেঞ্জারে চ্যাট করতাম অনেকের সাথে। দেখা করতে চাইতো অনেকে। আমিও যে চাইতাম না, তা নয়। কিন্তু এবার আর ভুল করলাম না। অন্যদের বাসায় গেলাম না আগেরবারের মতো। বাসায় কেউ না থাকলে নিজের বাসায় দেখা করতে চাইতাম। কেউ রাজি হলো না। একদিন চ্যাট করছি একসাথে পাঁচ জনের সাথে। সবাইকেই বললাম যে আমার বাসা খালি। জানতাম না করবে, কিন্তু প্রথমে একজন রাজি হলো। আমি তো অবাক! এরপর দেখি আরো একজন, তারপর আরো একজন রাজি হলো বাসায় আসতে। আমি বুঝতে পারলাম না কি বলবো। তিনজনকেই বললাম বাসার কাছাকাছি এসে ফোন দিতে। ধরে নিয়েছিলাম যে কেউই হয়তো আসবে না, আর আসলেও হয়তো একজনই না হয় আসবে! কিন্তু তিনজনই আসলো। আমি পড়লাম বিপদে। কুল রাখি না শাম রাখি অবস্থা। যাইহোক তিনজনকেই একে একে বাসায় নিয়ে আসলাম। শরীফ, ফাহাদ আর চয়ন। আমাকে যে নাম বলেছিল তাই বললাম। তিনজনকে বাসায় নিয়ে এসে একসাথে বসলাম। বললাম, “আমাদের চারজনের উদ্দেশ্যই যেহেতু এক, আমরা কি একসাথে কাজটা করতে পারি?” আমার মাথা তখন পুরাই নতুন এক নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। একসাথে চারজন কিভাবে কি করে দেখতে হবে। এই সুযোগ তো আর সব সময় পাব
ও না! ফাহাদ আর চয়ন একটু ভেবে রাজি হলো। কিন্তু শরীফ বলল, সে কিছুতেই রাজি নয়। সে চলে যাবে। আমি শরীফকে বাসার দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে গেলাম। দরজার সামনে এসে হঠাত কি মনে করে শরীফ রাজি হয়ে গেলো। আমি তখন প্রচন্ড উত্তেজিত মনে মনে। চারজন মানুষের কামলীলা হবে আজ আমার বাসায়। 

শরীফকে নিয়ে রুমে ঢুকে দেখি চয়ন আর ফাহাদের চার হাত এক করা, সেই সাথে দুজনের দুই ঠোঁট। ওরা কাল বিলম্ব করতেও রাজি নয় দেখছি! আমি শরীফের চোখের দিকে তাকালাম, শরীফ আমার দিকে। বাসায় কেউ ছিল না, তাই দরজা লাগানোর দরকার হলো না। জড়িয়ে ধরলাম শরীফকে। শরীফও সাড়া দিল। ওদিকে চয়ন আর ফাহাদ ততোক্ষনে একে অপরের কাপড় খোলায় ব্যস্ত। আমি আর শরীফও দেরি করলাম না। খুলে ফেললাম একে অপরের প্যান্ট আর টি শার্ট। আমার রুমের খাটটা নেহায়েত ছোট ছিল না। চারজন মানুষ অনায়াসেই শোয়া যায়। শরীফকে নিয়ে বিছানায় চলে গেলাম। চারটি উলঙ্গ দেহ ধীরে ধীরে মেতে উঠলো আদিম উন্মত্ততায়। শরীফকে শান্ত করলাম তাড়াতাড়িই। সে তখন নিথর হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। ওদিকে ফাহাদ আর চয়ন যে খুব পারদর্শী সেটা বুঝতে পারলাম। ফাহাদকে নিচে শুইয়ে চয়ন তার বিশেষ অঙ্গের উপর চড়ে বসেছে। ব্যাপারটা খুব আকর্ষণীয় মনে হলো আমার কাছে। আমি হা করে তাকিয়ে চয়নের কান্ডকীর্তি দেখছিলাম। শরীরটায় আগুন তো ধরেই ছিল, কিন্তু সে আগুন শরীফের পক্ষে মেটানো সম্ভব হয়নি। তাই খুব আফসোস হতে লাগলো। ইশ! আমি যদি চয়নকে পেতাম! চয়ন হয়তও বুঝতে পারলো আমার মনের কথা। বসা অবস্থায়ই আমার বিশেষ অঙ্গে হাত দিয়ে টেনে আমাকে ওর কাছে নিয়ে গেলো। আমি তখন আর আমার মাঝে নেই। বলা বাহুল্য তিনজনের মধ্যে চয়নের শারীরিক গঠনই ছিল সবচেয়ে নজর কাড়া। পাতলা, লম্বা, আর ছিমছাম গড়নের ফরসা একটা লোমহীন শরীর। আমি কাছে যেতেই চয়ন আমার বিশেষ অঙ্গটা মুখে পুরে নিলো। আমি আবেগের আবেশে চোখ দুটি বন্ধ করে ফেললাম। নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেড়িয়ে এলো “আহ!” চয়ন বুঝতে পারলো সে আমাকে ঠিকভাবেই কাবু করতে পারছে। তাই মুখের কারুকাজ দেখাতে মোটেই কুন্ঠাবোধ করলো না সে। 



ওদিকে ফাহাদ নিচে শুয়ে শুয়ে মজা লুটছিল। হঠাত আমাকে এভাবে শব্দ করতে দেখে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, আমাকে সরিয়ে দিয়ে চয়নকে জোর করে কাছে টেনে এনে কাম রসে ভিজিয়ে দিল নিজেকে আর চয়নকে। চয়ন কিছুক্ষণ লেপ্টে থাকলো ফাহাদের শরীরের সাথে। শরীফ আর ফাহাদ গেলো ওয়াশরুমে নিজেদের পরিষ্কার করতে। চয়ন বিছানা থেকে উঠে এসে আমার গায়ে হাত রাখলো, বুঝতে পারলাম ফাহাদকে দিয়ে তার কার্যসিদ্ধি হয়নি। আমার সাহায্য দরকার। আমি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলাম। চয়নকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে অকে এলোপাথাড়ি চুমু খেতে লাগলাম। চয়ন পাগলের মতো আহ্‌ উহ্‌ শব্দ করে আমাকে উৎসাহ দিতে লাগলো পুর্নোদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। এগিয়ে গেলাম চয়নের দিকে চয়নের দুই পা আমার কাঁধে তুলে নিয়ে ওর বুকের উপর শুয়ে পরলাম সন্তর্পনে, নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে ওকে আদর করতে লাগলাম প্রচন্ড উত্তেজনায়। কখন যে দুজন একে অপরের মাঝে মিশে গিয়েছিলাম বুঝতেই পারলাম না। মিনিট পাঁচেক পর হঠাত চয়ন আমাকে জড়িয়ে ধরলো খুব শক্ত করে। পেটের উপর ভেজা ভেজা লাগলো, আমিও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। চয়নের সাথে সাথে আমিও ছেড়ে দিলাম নিজের কামরস, চয়নের দেহ অভ্যন্তরে। চয়নের মুখে পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো। আমিও হাসলাম। শুধু চয়নকে পরিতৃপ্ত করতে পেরেছি বলে নয়, নিজেও পরিতৃপ্ত হয়েছি দেখে। 

এরপর আমাদের চারজনের মাঝে আরো অনেকবার অনেক কিছু হলো। কিন্তু কেন যেন আমি চয়নকে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারতাম না। একদিন বুঝাতেও চাইলাম, পারলাম না। দেখলাম একা আন্তরিকভাবে কিছু করার চেয়ে সবার সাথে খোলামেলাভাবে সব কিছু করার দিকেই ওর আগ্রহ। তাই আর বাধ সাধলাম না। 
কয়েকমাস এভাবেই চলল। আমি কেমন যেন অতিষ্ট হয়ে উঠলাম দেশে থেকে। সিদ্ধান্ত নিলাম ইন্ডিয়া যাওয়ার। শুরু হলো আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়।

নীল মানবঃ পর্ব - ০২

বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা অরণ্য যুবরাজ এর লেখা ধারাবাহিক গল্প 
_____________________________________________
অনেকক্ষণ হয়ে গেল ।
ইমন, নীল কেউ কারো সাথে কোন কথা বলছে না ।
দুজনের মাঝে নিরবতার জন্য বিরক্তি কিংবা পথের ক্লান্তি দায়ী নয় ।
বরং হালকা শীত শীত ভাব আর অর্থহীন এক ধরনের ভালো লাগা দুজনের মনে কাজ করছে ।
নীল কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছে । টের পায়নি সে ।
যখন ঘুম ভাঙল তখন ঘণ্টা খানেক পেরিয়ে গেছে ।
বাইরে এখন ঝকঝকে রোদ ।
- কি ব্যাপার ! ঘুম ভাঙল ?
- হুম । কখন যে ঘুমালাম ! বুঝতে পারিনি ।
- সামনে কোথাও নামবেন ?
- বুঝলেন কি করে ! আমার যে খিদে পেয়েছে ?
- আরে নাহ ! আমি আসলে সেটা মিন করে বলিনি ।
ইমন হালকা লজ্জা পেল ।

দুজনে সামনেই একটা হোটেলে পেয়ে গেল ।
গাড়ি থেকে নামতেই নীল দৌড়ে গেল ।
হোটেলের সামনে ফুটে থাকা কতোগুলো গাঁদা ফুলের দিকে ।
ইমন একটা সিগারেট ধরিয়ে নীল এর দিকে তাকিয়ে আছে ।
নীল এর হাতে একটা বড়সড় গাঁদা ফুল ।
ও হাত দিয়ে ফুলটাকে এমন ভাবে আদর করছে মনে হচ্ছে ফুলটা একটা ছোট খরগোশ ।
- আপনি ফুল খুব ভালবাসেন ?
- হুম । আই লাভ ফ্লাওয়ারস ।
- সেতো দেখতেই পেলাম ।
- দেখার জন্য ধন্যবাদ । আজকাল দেখার মত চোখও সবার থাকে না ।
- কথায় আপনার সাথে পারা যাবে না ভাই ।
- থাক ইমন ভাই । আর কথা বলে কাজ নেই । খিদেতে আমার পেটে ইঁদুর দৌড়ুচ্ছে । কিছু খাওয়া দরকার ।



যে হোটেলটায় ওরা ঢুকল ওটা বেশ ছোট ।
বেশ নোংরা ।
চারপাশে মাছি ভন ভন করছে ।
যে ওয়েটার গুলো আছে তাদের কাঁধে ঝুলানো গামছা কতদিন ধুয় না কে জানে !
ইমন নীল এর দিকে তাকাল ।
- আপনি কি এখানে খেতে পারবেন ?
- কেন পারব না !
- না । হোটেল টা যে নোংরা ! তাই বললাম ।
- শুনুন, আমি কিন্তু ঢাকা ভার্সিটির হল লাইফ পার করে এসেছি । ইটালিয়ান হোটেল এ খাওয়ার অভ্যাসও আছে ।
- ইটালিয়ান হোটেল মানে ? ইমন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ।
- হা হা হা । আমাদের হল থেকে একটু দূরে এক মামা ভাত বিক্রি করত । সেখানে ইটের উপর বসে বসে লোকজন ভাত খেত । আমরা বন্ধুরা মজা করে মাঝে মাঝে সেখানেও খেতাম !
- বাহ ! আসলে ঢাকা ভার্সিটির হল লাইফ অনেক মজার । তাই না ?
- শুধু ঢাকা ভার্সিটি না , সব হল লাইফ দারুন এঞ্জয়েবল ।

একটা টেবিলে বসল ওরা দুজন ।
ইমন নীল দিকে তাকিয়ে বলল,
- কি খাবেন ? ব্যাঙ নাকি নাগিন ?
ইমনের কথায় নীল বেশ মজা পেল । ও দ্বিগুণ উৎসাহে বলল,
- ব্যাঙ আগে চেখে দেখেছি । এবার নাগিনের ভুনা হলে মন্দ হয় না !
ব্যাঙ অথবা নাগিন কিছুই পাওয়া গেল না ।
ওরা ভাত খেল মুরগি দিয়ে । কড়া ঝাল মশলা দেয়া ঝোল ।
এমন ঝাল যে দুজনের চোখ দিয়েই টপ টপ করে পানি বেরুচ্ছে ।
থেকে থেকে দুজনেই মুখ দিয়ে, জিভ দিয়ে ফুঁ দিচ্ছে ।

খাওয়া দাওয়া শেষে নীল বলল,
- আর হোটেল পেলেন না ভাই ! ঝালে আমার তালু পর্যন্ত জ্বলে যাচ্ছে ! 
- আপনারও জ্বলে নাকি । হা হা হা । চলুন যাওয়া যাক ।
নীল এবার আর কথা বাড়াল না ।
চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসল ।

আধ ঘণ্টা পর গাড়ি হঠাৎ কোঁ কোঁ বিকট আওয়াজ দিল ।
থেমে গেল ।
- কি ব্যাপার ! ইমন ভাই । কোন সমস্যা ?
- কি জানি । বুঝত পারছি না । দেখি । কি অবস্থা গাড়ির । স্টার্ট নিচ্ছে না !
গাড়িটা যে জায়গায় নষ্ট হয়েছে তার একপাশেই ছোট একটা খালের মত চলে গেছে ।
এরপাশে উঁচু টিলা ।
নীল মনে মনে বলল, বাহ । দারুন জায়গা । ও ছোট বাচ্চাদের মত খালের দিকে ছুটে গেল ।
পানিতে ছোট ছোট মাছ । জল পোকা । ও ওদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ।
আর এদিকে ইমন গাড়ির বনেট খুলে কি নিয়ে যেন টানা টানি করছে ।
নীল এবার ইমনের দিকে ফিরে দূর হতে চেঁচিয়ে বলল,
- কি সমস্যা । কিছু বুঝতে পেরেছেন ?
- বুঝতে পারছি না ।
- গাড়ির কিছু বুঝেন ? গাড়ি কেন খারাপ হয় ? 
- ভাবছি, আপনার কাছ থেকে ট্রেনিং নিব ।

নীল চুপ মেরে গেল ।
ইমন কি একটু রেগে গেল !
- গাড়িটা ঠিক করতে পারছি না ।
- ও গড । এখন কি হবে ?
- কি আর হবে ? দেখি কি ব্যবস্থা করা যায় !

ভাগ্য ভালো কাছেই একটা গ্যারেজ পাওয়া গেল । গাড়ি মেরামত করার ।
কিন্তু এখানেও সমস্যা । যে গাড়ি ঠিকঠাক করে সে আজ নাই । পাশের গ্রামে গেছে । বেড়াতে ।
আসতে আসতে কাল সকাল ।
এসব শুনে নীলের মাথায় হাত !
- এখন কি হবে ?
- আপনি বারবার এই একটা বাক্য বলবেন না প্লিজ । এমনিতেই আমার মাথা গরম !
- সরি ।
- হুম । শুনুন, রাতটা আশে পাশের কোন বাড়িতে কাটাতে হবে ।
- কোথায় ?
- আমি এই গ্যারেজের মালিকের সাথে কথা বলেছি । উনি বলেছেন উনার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করবেন ।

------------------------------------------

গ্যারেজের মালিকের বাড়িতেই ওদের থাকতে হল শেষ পর্যন্ত ।
বাড়িতে দুটো ঘর ।
ওদের থাকার ঘরটা উঠোনের এক কোনায় । আলাদা ।
একচালা ঘর ।
বাড়িতে গ্যারেজের মালিক আর তার বউ থাকেন ।
এখন বউ নেই । বউ বাপের বাড়ি গেছে ।
ওদের ঘরের পেছনে অনেকগুলো কলাগাছ ।
ঘরে আসবাব বলতে তেমন কিছু নেই ।একটা চকি । নতুন চাদর বিছানো । নেপথলিনের কড়া গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছে ।
জানালার পাশ ঘেঁষে একটা টেবিল ।
তাতে সাদা ফুলতোলা নকশা করা কভার দেয়া ।
বিছানার পাশ ঘেঁষে দেয়ালে একটা হাতের কাজ এর নকশা করা রুমাল বাঁধানো ।
নীল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ।
নকশা করা রুমালটাতে দুইটা পাখি ।
আর মাঝখানে লেখা ‘ভুলনা আমায়’।
বিছানার দিকে তাকিয়েই নীল এর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ।
দুজন শোয়ার জন্য বড্ড ছোট ।

ইমন ঘরে ঢুকেই ধপ করে শুয়ে পড়ল ।
নীল কাঁধের ব্যাগ টেবিলে রেখে বাইরে বেরুল ।
মানুষটার কোন কাণ্ড জ্ঞান নাই ।
ঘরে ঢুকেই কোন কথা নাই, বার্তা নাই । বিছানায় ধপাস ।
চারদিকে আবছা আঁধার । ঝিঁঝিঁর ডাক, বয়ে যাওয়া নদীর শব্দ, নানারকম পোকার শব্দ !
নীল এর কেমন একটা মোহ মোহ ভাব লাগছে ।

- কি ব্যাপার ! আপনি ঘুমাবেন না !
পেছন থেকে ইমন জোর গলায় বলল ।
- ও আপনি ?
- ভয় পেলেন নাকি !
- আমাকে দেখে কি ভিতু মনে হয় ?
- আমি কি সেটা বলেছি ?
- আমার আজ ঠিক ঘুম আসছে না ।
- কেন ? বেশি টেনশন করছেন ?
- না । টেনশন না । ভালো লাগছে । এরকম পরিবেশে আমি কখনও থাকিনি ।
- মানুষ নিজেও জানে না তাকে কখন কোথায় কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় । তাই না !
- আমি আসলে এজন্য বলছি না ইমন । আসলে ছোটবেলা থেকেই অনেক জায়গায় ঘুরে বেরাতাম আমি । বাবার সাথে । বন্ধুদের সাথে । অনেক জায়গায় রাতে থেকেছি । কিন্তু আজকের রাতটা বড্ড বেশি আলাদা লাগছে । কেমন একটা মায়া মায়া ।
- বাহ বা । আপনি দেখছি এখন কবিতা বলা শুরু করবেন ?
- না সে ভয় পাবেন না ! কথায় কথায় কবিতা বলার অভ্যাস আমার নাই ! কবিতা আবেগের ব্যাপার ।
- কি জানি নীল । আমি আসলে এতটা বুঝে উঠতে পারি না । এসব আবেগ টাবেগ আমার কম । এসব আমার ধাঁতে নেই ।
- না থাকলেই ভালো । জীবনে কষ্ট কম পাবেন ।
- আমি কি একটা সিগারেট খেতে পারি ।
- আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন ?
- না । সিগারেট এর ধোঁয়ায় আপনার রাতের মায়ার যদি কোন ক্ষতি হয় ! তাই জিজ্ঞেস করলাম ।
- হা হা হা হা । মাঝে মাঝে আপনি অনেক রসিকতা করেন ইমন । তবে সিগারেট এর ধোঁয়ায় রাতের মায়ার ক্ষতির চাইতে আপনার গোলাপি হৃদয়ের ক্ষতি অনেক বেশিই হবে । তাই নয় কি ?
- ভাই । আমি আপনার সাথে তর্কে জিততে পারব না ।
ইমন হাত জোর করে বলল ।
এমন সময় আবার ঝুপ করে বৃষ্টি শুরু হল ।
ওরা দুজন দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢুকল ।

_____________________________________________

ঘড়িতে এখন ১০ টা বাজে ।
চারদিকে শুধুই ঝম ঝম বৃষ্টির শব্দ ।
ঠাণ্ডাও বেড়ে চলেছে ।
ইমন অনেক আগেই বিছানায় ঘুমিয়ে গেছে ।
নীল বসে আছে । চেয়ারে ।
হ্যারিকেন এর লালচে আলোর আবছা পরিবেশ ঘরজুড়ে ।
বিছানায় যেতে কেমন একটা সংকোচ হচ্ছে তার ।
নীল খুব ভালো করেই জানে সে সমপ্রেমী । তার উপর এমন একটা বৃষ্টির রাত ।
ইমন এর মত ভালোলাগার পুরুষের সাথে এক বিছানায়, এক কাঁথার নিচে শোয়া ।
নীল এক পা, দু পা করে এগুচ্ছে । বিছানার দিকে ।
রাত বাড়ছে । বাড়ছে বৃষ্টি । আর বাড়ছে নীল এর বুকের ধুক ধুক শব্দ ।

____________________________________________________________

(চলবে)

সমকামী বিয়ে বৈধ যেসব দেশে

ঘর বাঁধার স্বপ্ন কি শুধু একটা ছেলে আর একটা মেয়েই দেখতে পারে ?
সমমনা দুজন পুরুষ বা নারী কি ভালবেসে একে অপরকে বিয়ে করতে পারে না ?
সমকামী বিয়ে ! এও কি সম্ভব !
অনেকের মাঝেই এই প্রশ্নগুলো মাথা চাড়া দেয় ।

উত্তর অনেকেই কিছুটা জানি । আবার কিছুটা অস্পষ্ট । বেশ একটা সন্দেহ কাজ করে সমকামী বিয়ে নিয়ে ।
কেউ কেউ আবার মনে মনে ভেবে বেড়ান সমকামী হয়েছ ভালো কথা ! তা বিয়ের আবার কি দরকার ! লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম আর সেক্স করলেই তো হয় ! তবে এতো কিছুর পরও পশ্চিমা বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এর মাঝেই স্বীকৃতি পেয়েছে সমকামী বিয়ে । সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমান বিশ্বের মোট সতেরোটি দেশে সমকামী বিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছে ।
দেশগুলো হল নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে, সুইডেন, পর্তুগাল, আইসল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, নিউজিল্যান্ড ,ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড । 
এছাড়া মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র এর কিছু কিছু অংশে সমকামী বিয়ের স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান এখনও আইনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । 

নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডসই সর্বপ্রথম দেশ যারা ২০০১ সালে সমকামী বিয়েকে আইনগত ভাবে স্বীকৃতি দেয় । দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ১,৬৮,১৯,৫৯৫ এবং আয়তন ৪১,৫৪৩ বর্গ কিলোমিটার।দেশটিতে সমকামী বিয়ে বৈধ করার জন্য আন্দোলন শুরু হয় আশির দশকের মাঝামাঝিতে যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হেঙ্ক ক্রল । আয়তনের এই দেশের পার্লামেন্টে ২০০১ সালে ১০৭-৩৩ ভোটে সমকামী বিয়ের আইন পাশ হয় । তবে ঐ পাশ করা আইনের একটি শর্ত ছিল । আর তা হল নেদারল্যান্ডে কোন সমকামী জুটিকে বিয়ে করতে হলে ঐ জুটির অন্তত একজন জাতিগতভাবে ডাচ বা নেদারল্যান্ড এর নাগরিক হতে হবে । 



বেলজিয়াম
উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের একটি দেশ বেলজিয়াম হল দ্বিতীয় দেশ যারা সমকামী বিয়েকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেয় । দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ১,০৪,১৪,৩৩৬ এবং আয়তন ৩০,৫২৮ বর্গকিলোমিটার । ২০০৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী কিং আলবার্ট (দ্বিতীয়) সমকামী বিয়ের অনুমোদনকারী বিলে স্বাক্ষর করেন । তবে এই বিল অনুযায়ী সমকামী গে বা লেসবিয়ান জুটিরা বিয়ের পর কোন বাচ্চা দত্তক নিতে পারবে না । দেশটির কোন সমকামী জুটি যদি বাচ্চা দত্তক নিতে চায় তাহলে অন্য কোন স্বামী-স্ত্রী দম্পতির সাথে যুগ্মভাবে বাচ্চা দত্তক নিতে হবে । 

স্পেন
সমকামী বিয়ে স্বীকৃতি প্রদানের তৃতীয় দেশ হল স্পেন । দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ৪০,৬১,২৭৪ এবং আয়তন ৫,০৬,০৩০ বর্গকিমি। ২০০৪ সালে স্প্যানিশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির অপ্রত্যাশিত বিজয় পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, Jose Luis Rodriguez Zapatero , দেশে সমকামী বিয়ের উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি সরিয়ে দেন । যদিও সে দেশের ক্যাথলিক চার্চ এই সিধান্তের ঘোর বিরোধীতা করে । স্পেনের সংসদে সমকামী বিয়ের পক্ষে ১৮৭ ভোটের মাঝে ১৪৭ ভোট পেয়ে এই আইনটি পাশ হয় । আইনে বলা হয় সমকামী বিয়ে করতে হলে অন্তত একজনকে স্প্যানিশ নাগরিক হতে হবে অথবা স্পেনে বৈধ বসবাসের অনুমতি থাকতে হবে । 

কানাডা
উত্তর আমেরিকার কানাডা হল চতুর্থ দেশ যারা সমকামী বিয়েকে আইনত স্বীকৃতি দিয়েছে । দেশটির আয়তন ৯৯,৮৪,৬৭০ বর্গকিমি এবং জনসংখ্যা ৩,৫১,৩৩,৭০০ । ২০০৫ সালের ২৮ জুন, কানাডার হাউজ অব কমনস ‘সিভিল মেরেজ আইন’ পাশ করে যা ১৯ জুলাই সিনেট এ পাশ হয় । এরপর এটি চূড়ান্তভাবে ২০ জুলাই gender-neutral definition of marriage হিসেবে কানাডার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ জুড়ে স্বীকৃতি পায় । এই আইন অনুযায়ী যেসব নাগরিক ইউএসএ থেকে কানাডায় ভ্রমন করতে আসে তারাও চাইলে সমকামী বিয়ে সম্পন্ন করতে পারবে ।

সাউথ আফ্রিকা
আফ্রিকার দেশগুলোর মাঝে প্রথম সমকামী বিয়ে অনুমোদন দেয় সাউথ আফ্রিকা । আর বিশ্ব ব্যাপী সমকামী বিয়ে অনুমোদন কারী দেশ হিসেবে এর স্থান হল পঞ্চম অবস্থানে । আফ্রিকার দক্ষিণে অবস্থিত দেশটির আয়তন ১২,২১,০৩৭ বর্গকিমি এবং জনসংখ্যা ৪,৯৩,২০,০০০। দেশটির Constitutional Court ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে এই মর্মে রুল জারি করে যে সমকামী বিয়েকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সে দেশের আইনের পরিপন্থী । ২০০৬ সালের ১৪ই নভেম্বর সে দেশের পার্লামেন্টে ২৩০-৪১ ভোটে সমকামী বিয়েকে আইন গত ভাবে অনুমোদন দেয়া হয় ।
 
^ মাথায় ওঠ